ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সকাল সাড়ে ১০টায় ৮ জন যাত্রী ও ২ জন কেবিন ক্রু নিয়ে কক্সবাজার বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে একটি ফ্লাইট। উড্ডয়নের ১০ মিনিটের মধ্যে কক্সবাজার বিমানবন্দরের কন্ট্রোল টাওয়ারে খবর আসে সেই বিমানে বোমা রয়েছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিক পুরো এলাকায় 'ফুল এমার্জেন্সি' ঘোষণা করেন।
এমার্জেন্সি ঘোষণা অনুযায়ী বিমান অবতরনের আগেই প্রস্তুত হয়ে যায় সকল বাহিনীর সদস্যরা। আকাশে টহল দিতে শুরু করে বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টার, রানওয়েতে বিমানবাহিনী, সেনাবাহিনী, র্যাব, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এবং মেডিকেল ইউনিট সবাই সর্তক অবস্থানে।
অবশেষে ১১টা ৪০ মিনিটে কক্সবাজার বিমান বন্দরে অবতরণ করে যাত্রীবাহী বিমানটি। নিরাপদে নামিয়ে আনা হয় যাত্রীদের। তল্লাশি ও পূর্বের সর্তকতায় বেঁচে গেল আট যাত্রীসহ বিমানে থাকা সবাই ।
কক্সবাজার বিমান বন্দরের এই দৃশ্য বাস্তবে নয়, এটি ছিল মহড়ার দৃশ্যপট। আজ বুধবার সকালে অনুষ্ঠিত হয় এই মহড়া। হাইজ্যাক, বোমা হামলাসহ নানাবিধ ঝুঁকি মোকাবেলার সক্ষমতা যাচাইয়ের লক্ষ্যেই এই মহড়া আয়োজন করা হয় বলে জানান বিমানবন্দর কতৃপক্ষ।
বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)-এর চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোঃ মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক প্রধান অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করেন।
মহড়া শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, এ ধরনের মহড়া শুধু দুর্বলতা শনাক্তের সুযোগই সৃষ্টি করে না, বরং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় বৃদ্ধি করে যাত্রীসেবায় আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মহড়ার সফলতা সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও দায়িত্বশীলতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত উল্লেখ করে প্রধান অতিথি বলেন এর মাধ্যমে যেকোনো অনভিপ্রেত পরিস্থিতি দ্রুত ও দক্ষতার সঙ্গে মোকাবিলা করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি আরও বলেন, গত ১৮ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডের সময় বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক), বাংলাদেশ বিমানবাহিনী, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, এপিবিএন, আনসার, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্বাস্থ্য বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থা একযোগে কাজ করে দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছিল। এর ফলে সেদিন রাত ৯টার মধ্যেই বিমানবন্দরের কার্যক্রম পুনরায় চালু করা সম্ভব হয়।
চলতি বছর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ইন্টারন্যাশনাল সিভিল এভিয়েশন অর্গানাইজেশনের (আইসিএও) নিরাপত্তা অডিটের প্রস্তুতিতে এ ধরনের মহড়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বেবিচকের সদস্য (নিরাপত্তা) এয়ার কমডোর মোঃ আসিফ ইকবাল বলেন, প্রথম বারের মতো কক্সবাজার বিমানবন্দরে এই মহড়ার আয়োজন। এই মহড়ার মাধ্যমে বিমানবন্দরে নিরাপত্তা ঘাটতি নির্ণয় করা হবে বলেও জানান তিনি।
মহড়ায় অংশগ্রহণ করে বেবিচক, বাংলাদেশ বিমানবাহিনী, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, র্যাব, কক্সবাজার জেলা পুলিশ, এপিবিএন, আনসার, সিভিল সার্জন ও জেনারেল হাসপাতালের মেডিকেল টিম এবং বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সসহ সংশ্লিষ্ট একাধিক সংস্থা।



