পানি নামলেও চট্টগ্রামের বন্যাদুর্গত ৫ জেলার মানুষের কাটেনি দুর্ভোগ। বন্দরনগরীতেই ১৭৬টি ইউনিয়নে প্রায় ১৪ হাজার ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত। এছাড়া ৩৭৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ১ হাজার ৩২০ কিলোমিটার সড়ক এবং প্রায় দেড়শো সেতু-কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত। অন্যান্য জেলায় চলছে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজ। এদিকে, বিশুদ্ধ পানি ও খাবারের সংকট এবং ত্রাণ সহায়তা না পাওয়ার অভিযোগ প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের।
পানি নেমে যাওয়ার পর বাড়িঘরে ফিরে নতুন লড়াইয়ের মুখোমুখি দক্ষিণ চট্টগ্রামের বাসিন্দারা। বন্যা পরবর্তী দুর্ভোগের সাথে গুরুত্বপূর্ণ অনেক জিনিসপত্র নষ্ট হওয়ায় যোগ হয়েছে ক্ষয়ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার দুশ্চিন্তা।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত ৪৬০ মেট্রিক টন চাল, নগদ ৪১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা বিতরণের কথা জানানো হয়েছে। তবে প্রত্যন্ত অনেক এলাকায় সহায়তা পৌঁছায়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
কক্সবাজারেও বন্যার পানি নামার পর বাড়িঘরে ফিরছেন স্থানীয়রা। স্পষ্ট হতে শুরু করেছে বানের পানিতে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে ব্যাপক ক্ষতির চিত্র ।
বান্দরবানে বিদ্যুৎ সংযোগ ও মোবাইল নেটওয়ার্ক স্বাভাবিক হয়েছে। বেশিরভাগ সড়ক থেকে পানি নামায় সচল হয়েছে যোগাযোগও। ফসল ও অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে কাজ করছে প্রশাসন।
বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ‘বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি মানুষের পাশে সরকার রয়েছে। যে যেভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের কাছে দ্রুত সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগ নেওয়া হবে। বিশেষ করে ফসলি জমি, মৎস্য ঘের, গবাদিপশু ও অন্যান্য ক্ষয়ক্ষতির তালিকা প্রস্তুত করে ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করবে সরকার।’
রাঙামাটিতে পাহাড় ধসের শঙ্কায় আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই নেওয়া মানুষ ফিরছেন ঘরে। খাগড়াছড়িতে অনেক এলাকায় বাড়িতে ফেরার পরিস্তিতি তৈরি হয়নি এখনো।
খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত বলেন, ‘খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও এখনো ছোট মেরুং বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্রে রয়েছে ৩৮টি পরিবার। মাইনী নদীর পানি কমলেও এখনো ঘর বাড়ি কাদা থাকায় ফিরতে পারছে না বন্যা দুর্গতরা। বন্যার জেলার প্রায় ২৫টি গ্রামীণ সড়ক ও একটা ব্রিজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’
জেলার মহালছড়ির সাথে মুবাছড়ি ইউনিয়নের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ থাকায় নৌকায় যাতায়াত করছেন প্রায় সাড়ে ৮ হাজার বাসিন্দা।



