দেশে ডেঙ্গু আক্রান্তদের ১৭ ভাগের বেশি শিশু। যাদের বয়স ১৫ বছর বা তারও কম। এ বছর প্রাণ গেছে ৪২ শিশুর। চিকিৎসকেরা বলছেন, ডেঙ্গুতে অন্যদের তুলনায় বেশি ঝুঁকিতে থাকে শিশুরা। এ বিষয়ে অভিভাবকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকেরা।
আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ডেঙ্গু ওয়ার্ডে ভর্তি আছে আট মাস বয়সী মোহাম্মদ আলী। পাশের বেডে দেড় বছরের তানহা।
অভিভাবকেরা জানান, জ্বর আসার দুই দিনের মধ্যেই ডায়রিয়া, পেট ব্যথা, বমি শুরু হয় শিশুদের।
একই হাসপাতালের পিআইসিইউতে চিকিৎসাধীন ১০ বছরের খালিদ সাইফুল্লাহ। তার অবস্থার অবনতি হলে সাত দিন আগে ওয়ার্ড থেকে তাকে সেখানে নেওয়া হয়।
এ সময় জ্বর আসার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ডেঙ্গু পরীক্ষার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা।
বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মাহবুবুল হক বলেন, জ্বর এলে যদি বমি হয়, খাওয়ার রুচি না থাকে, প্রস্রাব কমে যায় তাহলেই হাসপাতালে নিয়ে আসতে হবে শিশুকে।
শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের পিআইসিইউ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. আক্তার হোসেন মাসুদ বলেন, বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে বর্তমানে ভর্তি ৪৫ শিশু। ১ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ৫ শিশুর। দেশে এ বছর ডেঙ্গু আক্রান্তদের ১৭ ভাগের বেশি শিশু।
ডা. আক্তার হোসেন মাসুদ আরও বলেন, অভিভাবকেরা অনেক সময় শিশুর জ্বর হলে তিন থেকে চার দিন পর জ্বর কমলে হাসপাতালে নিয়ে আসেন না। এ ক্ষেত্রে শিশু যদি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয় ড্যামেজ অনেক বেড়ে যায়। সেই সঙ্গে বেড়ে যায় মৃত্যু ঝুঁকি।



