মাথা ব্যথা শুরু হলেই অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে, এটা কি সাধারণ মাথাব্যথা, নাকি মাইগ্রেন? দুই ধরনের ব্যথা এক মনে হলেও আসলে এদের মধ্যে বেশ কিছু পার্থক্য রয়েছে। ব্যথার ধরন ঠিকভাবে চিহ্নিত করা জরুরি, কারণ চিকিৎসা ও প্রতিরোধের উপায় নির্ভর করে তার ওপরই।
সাধারণ মাথাব্যথা কেমন?
সাধারণ মাথাব্যথা সাধারণত হালকা থেকে মাঝারি ধরনের হয়। মনে হতে পারে মাথার দুই পাশ কেউ চেপে ধরেছে বা চাপ তৈরি হয়েছে। এর কারণ হতে পারে মানসিক চাপ, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব, দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকা, পানিশূন্যতা এবং ঠান্ডা লাগা বা ভাইরাল সংক্রমণ।
এই ধরনের ব্যথা সাধারণত বিশ্রাম নিলে, পানি খেলে বা হালকা ওষুধে সেরে যায়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কমে আসে।
মাইগ্রেনের ব্যথা কেমন?
মাইগ্রেনের ব্যথা সাধারণ মাথাব্যথার চেয়ে অনেক বেশি তীব্র। মাথা দপদপ করতে পারে, অনেক সময় এক পাশে বেশি হয়। এই ব্যথা বারবার ফিরে আসতে পারে এবং কয়েক ঘণ্টা থেকে কয়েক দিন পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।
মাইগ্রেন হলে যেসব উপসর্গ দেখা দিতে পারে আলো সহ্য না হওয়া, জোরে শব্দে অস্বস্তি, বমি ভাব বা বমি, চোখে ঝাপসা দেখা ও শরীরে অস্বস্তি। এছাড়াও হরমোনের পরিবর্তন, অতিরিক্ত স্ট্রেস, অনিয়মিত ঘুম বা নির্দিষ্ট কিছু খাবার মাইগ্রেনের ট্রিগার হতে পারে। এ ক্ষেত্রে সাধারণ ব্যথানাশক সব সময় কাজ নাও করতে পারে, অনেক সময় বিশেষ চিকিৎসার প্রয়োজন হয়।
বায়ুদূষণ কি প্রভাব ফেলে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, বায়ুদূষণও মাইগ্রেনের একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হতে পারে। বাতাসে থাকা সূক্ষ্ম দূষিত কণা (পিএম ২.৫) শরীরে প্রদাহ বাড়িয়ে মাথাব্যথার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই দূষণ বেশি হলে বাইরে বের হওয়ার সময় মাস্ক ব্যবহার করা এবং ঘরের বাতাস পরিষ্কার রাখা উপকারী।
ব্যথা কমাতে কী করবেন?
মাইগ্রেন বা ঘন ঘন মাথাব্যথা এড়াতে কিছু অভ্যাস বদলানো জরুরি। যেমন, নিয়মিত ও পর্যাপ্ত ঘুম, সময়মতো খাবার খাওয়া, পর্যাপ্ত পানি পান, অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম এড়িয়ে চলা এবং তীব্র আলো ও শব্দ থেকে দূরে থাকা।
ব্যথা শুরু হলে অন্ধকার ও শান্ত পরিবেশে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিন। কপালে ঠান্ডা সেঁক দিলে উপকার মিলতে পারে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করা উচিত।
কখন সতর্ক হবেন?
যদি হঠাৎ তীব্র মাথাব্যথা শুরু হয়, নিয়মিত ওষুধে কাজ না করে, সঙ্গে দুর্বলতা, কথা বলতে সমস্যা বা দৃষ্টির পরিবর্তন দেখা দেয়, তবে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। এগুলো গুরুতর সমস্যার লক্ষণও হতে পারে।
মনে রাখবেন, সব মাথাব্যথা এক নয়। নিজের শরীরের সংকেত বুঝতে পারলেই সঠিক চিকিৎসা নেওয়া সহজ হবে।



