র্যাবের নাম বা পোশাক পরিবর্তনই শুধু নয়, প্রকৃত সংস্কারের জন্য রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখতে হবে। না হলে এ উদ্যোগ কোনো কাজেই আসবে না বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। অন্যদিকে, বিতর্কিত বাহিনীটি বিলুপ্তির দাবি মানবাধিকার কর্মীদের। সম্প্রতি র্যাবের নাম বদলে স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স (এসআইএফ) করার এবং পোশাক পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।
বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে ২০০৪ সালে সন্ত্রাসী-জঙ্গিদের দমনে গঠন করা হয় পুলিশের বিশেষ ইউনিট র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। এলিট ফোর্সে পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি যুক্ত করা হয় সেনা, নৌ, বিমানবাহিনী, বিজিবিসহ অন্যান্য বাহিনীর সদস্যদেরও।
তবে, প্রতিষ্ঠার পর থেকে শুরু কোরে আওয়ামী লীগ আমলেও নানা কারণে সমালোচনার মুখে পড়ে র্যাব। ক্রসফায়ারের নামে বিচারবহির্ভূত হত্যা, নারায়ণগঞ্জের সাত খুনসহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় অভিযুক্ত বাহিনীর সদস্যরা।
র্যাব বিলুপ্তি নিয়ে দীর্ঘদিন আলোচনার মাঝে অন্তর্বর্তী সরকারের গুম-সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনও একই সুপারিশ করে। তবে সে পথে না গিয়ে বাহিনীর নাম ও পোশাক পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মানবাধিকারর্মীরা অবশ্য র্যাবের বিলুপ্তির পক্ষেই মত দিচ্ছেন।
মানবাধিকার কর্মী নূর খান লিটন বলেন, ‘র্যাব প্রতিনিয়ত মানবাধিকারের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। একটি নাম পরিবর্তন বা পোশাক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে একটা বাহিনীর যে চরিত্র সেটা পরিবর্তন করা কঠিন একটা কাজ, যেহেতু দীর্ঘদিন এটা অভ্যস্ত হয়েছে।’
অপরাধ বিশ্লেষকরা মনে করছেন, শুধু পোশাক বা নাম বদলে লাভ হবে না। নিরাপত্তা বাহিনীকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করার তাগিদ তাদের।
সমাজ ও অপরাধ বিশ্লেষক ড. তৌহিদুল হক বলেন, ‘নাম এবং পোশাক পরিবর্তন করে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশার জায়গা পূরণ হবে না। সাধারণ মানুষ দেখতে চায় তাদের কর্মকাণ্ডের পরিবর্তন। এ ছাড়া সাধারণ মানুষ র্যাবের কাছ থেকে যে ধরনের কর্মকাণ্ড প্রত্যাশা করে সেই জায়গাতে তাকে কীভাবে প্রস্তুত করা যায় এই পরিবর্তনটা সবার আগে প্রয়োজন ছিল।’
অন্তর্বর্তী সরকার এ বিষয়ে জনপ্রত্যাশা পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে পারেনি বলেও মত দেন এই বিশ্লেষক।
ড. তৌহিদুল হক বলেন, ‘একটা স্থিনিস্থিশীল পরিস্থিতি আনার জন্য যে কাজটা করা দরকার, সে কাজগুলো সে কতটুকু করতে পারল, সেই জায়গা থেকে যতটুকু অগ্রগতি সেটা প্রত্যাশিত নয়, কারণ সাধারণ মানুষের আরও বেশি প্রত্যাশা ছিল।’
এদিকে এরই মধ্যে পুলিশেরও পোশাক পরিবর্তন করেছে সরকার। তবে পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশের মাধ্যমে, স্বাধীন-নিরপেক্ষ পুলিশ কমিশন গঠনের আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয়নি, মত বিশ্লেষকদের।



