রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল (তৃতীয় টার্মিনাল) চালুর বিষয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত। বুধবার সচিবালয়ে চীনা রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে থার্ড টার্মিনাল ছয় থেকে নয় মাসের মধ্যে চালু হবে।’
এর আগে গত ২২ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দ্রুত এই টার্মিনাল চালুর নির্দেশ দেন। সে সময় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম বলেছিলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী চেষ্টা করছেন যেন দ্রুত থার্ড টার্মিনাল চালু করা যায়। সে ব্যাপারে তিনি নির্দেশনা দিয়েছেন।’
টার্মিনালটি কবে নাগাদ চালু হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, নির্দিষ্ট কোনো তারিখ এখনই বলা সম্ভব নয়। আলাপ-আলোচনা ও কারিগরি যাচাই শেষে দ্রুত চালুর প্রক্রিয়া চলছে।
২০১৭ সালের ২৪ অক্টোবর শাহজালালের তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্পটি অনুমোদন দেয় একনেক। শুরুতে এর নির্মাণব্যয় ১৩ হাজার ৬১০ কোটি টাকা ধরা হলেও পরে তা আরও ৭ হাজার ৭৮৮ কোটি ৫৯ লাখ টাকা বাড়ানো হয়। এতে প্রকল্পের মোট আকার দাঁড়ায় প্রায় ২১ হাজার ৩৯৮ কোটি টাকায়। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে নির্মাণকাজ শুরু হয়ে ২০২৩ সালের অক্টোবরে টার্মিনালটির আংশিক উদ্বোধন হয়।
প্রকল্প ব্যয়ের বড় অংশ দিচ্ছে জাপানি সহযোগিতা সংস্থা জাইকা। সংস্থাটি ঋণ হিসেবে দিচ্ছে ১৬ হাজার ১৪১ কোটি ২ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। বাকি ৫ হাজার ২৫৮ কোটি ৩ লাখ ৮৮ হাজার টাকা অর্থায়ন করছে বাংলাদেশ সরকার।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, তৃতীয় টার্মিনালের অ্যাপ্রোনে একসঙ্গে ৩৭টি উড়োজাহাজ রাখা যাবে। যুক্ত হবে ১২টি বোর্ডিং ব্রিজ, ১১টি বডি স্ক্যানার ও ১৬টি লাগেজ বেল্ট। এ ছাড়া থাকবে স্বয়ংক্রিয় ইমিগ্রেশন ও ১ হাজার ২৩০টি গাড়ি পার্কিংয়ের সুবিধা। টার্মিনালটি পুরোদমে চালু হলে কার্গো হ্যান্ডলিং সক্ষমতা বছরে ৮৪ হাজার টন থেকে বেড়ে হবে পৌনে তিন লাখ টন।
পর্যটনে বিনিয়োগ করতে চায় চীন
বাংলাদেশের পর্যটন খাতে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছে চীন। প্রতিমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, ‘চীন কক্সবাজারকে আরও মানসম্পন্ন পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে সহযোগিতা করতে চায়। আমরা প্রস্তাব পেলে সম্ভাব্যতা যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেব।’
এ ছাড়া চীন থেকে বাংলাদেশে ফ্লাইটের সংখ্যা বৃদ্ধির প্রস্তাব এসেছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বেইজিং ও গুয়াংজুতে আরও তিনটি ফ্লাইট বৃদ্ধির আলোচনা হয়েছে। বৈঠক শেষে চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, বাংলাদেশের পর্যটন ও বিমান খাতে বিনিয়োগ নিয়ে দীর্ঘ বিরতির পর ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।


শাহজালালের থার্ড টার্মিনাল চালু করতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ
