বাংলাদেশের ইসলামি বক্তা মিজানুর রহমান আজহারীর ভিসা বাতিল করেছে অস্ট্রেলিয়া। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি জার্মানির স্বৈরশাসক এডলফ হিটলারের প্রশংসা করেছেন এবং হিটলারকে ইহুদিদের জন্য ‘ঐশ্বরিক শাস্তি’ হিসেবে মন্তব্য করেছেন। যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইলের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদন বলছে, দেশটিতে জাতীয় পর্যায়ের বক্তব্য দেওয়ার কথা ছিল আজহারীর। এই অবস্থার মধ্যেই তাঁর ভিসা বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে দেশটি। যেকোনো মুহূর্তে তাঁর অস্ট্রেলিয়া ত্যাগের নির্দেশনা আসতে পারে।
এর আগে মিজানুর রহমান আজহারীকে নিয়ে ডেইলি মেইলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, বাংলাদেশি বক্তা মিজানুর রহমান আজহারীর অনলাইনে প্রায় এক কোটির বেশি অনুসারী রয়েছে। তিনি এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও পশ্চিমা বিভিন্ন দেশে নিয়মিত বক্তব্য দিয়ে থাকেন।
‘লেগেসি অব ফেইথ’ শীর্ষক বক্তৃতা সিরিজের অংশ হিসেবে আজহারীর অস্ট্রেলিয়ার ব্রিসবেন, মেলবোর্ন, সিডনি ও ক্যানবেরা সফর করার কথা রয়েছে। তবে এর মধ্যেই গতকাল মঙ্গলবার তাঁর ভিসা বাতিল করে অষ্ট্রেলিয়া।
ডেইলি মেইলের প্রতিবেদনে বলা হয়, এই ঘটনার আগেও যুক্তরাজ্যে মিজানুর রহমান আজহারীর প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। এ ছাড়া আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বাংলাদেশে তাঁকে প্রকাশ্যে ওয়াজ মাহফিলে বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত রাখা হয়।
অস্ট্রেলিয়ার লিবারেল দলের সিনেটর জনাথন ডুনিয়াম জানান, বিভিন্ন কমিউনিটি সংগঠন মিজানুর রহমানের অস্ট্রেলিয়ায় আগমনের বিষয়ে সংসদ সদস্যদের সতর্ক করেছিল। বিশেষ করে ‘অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেশন ফর এথনিক এন্ড রিলিজিয়াস মিনোরিটিজ ইন বাংলাদেশ’ এ বিষয়ে উদ্বেগ জানায়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রে তাঁর বিরুদ্ধে ইহুদিদের নিয়ে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ছড়ানোর অভিযোগ রয়েছে। তিনি ইহুদিদের ‘বিশ্বের সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী’ আখ্যা দেন এবং তাদের ‘বিষাক্ত দাগ’ বলেও উল্লেখ করেন।
সিনেটর ডুনিয়াম বলেন, আজহারীর বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো দীর্ঘদিনের এবং এতে শুধু একটি ধর্মীয় গোষ্ঠী নয়, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের ধারাবাহিকতা দেখা যায়। যুক্তরাজ্যে ২০২১ সালে তার প্রবেশাধিকার বাতিলের ঘটনাও তিনি উল্লেখ করেন।



