সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলেই সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি নিয়োগ ও সচিবালয় সম্পর্কিত অধ্যাদেশ রহিতকরণ ও হেফাজতের সুপারিশ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংসদীয় বিশেষ কমিটির প্রধান। বিশেষ কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীন জানান, প্রয়োজনে ভবিষ্যতে এ সংক্রান্ত আইন করা হবে। আর বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিতে আগামী অধিবেশনে এ সংক্রান্ত আইন পাশের পরামর্শ সংবিধান বিশেষজ্ঞদের।
১৯৯৯ সালের মাসদার হোসেন মামলার রায়ে বিচার বিভাগ স্বাধীনতা নিশ্চিতে ১২টি নির্দেশনা আসে। এরপর বহু বছর কেটে গেলেও বাস্তবায়ন হয়নি তা। গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকার আলাদা অধ্যাদেশের মাধমে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি নিয়োগ বিধিমালা ও সচিবালয় গঠন করে।
বর্তমানে সংবিধান অনুযায়ী প্রধান বিচারপতির পরামর্শে বিচারক নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি। এক্ষেত্রে তাঁর যোগ্যতা, আইন পেশায় ১০ বছরের অভিজ্ঞতা। তবে নতুন অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, বিচারকের বয়স হতে হবে অন্তত ৪৫ বছর।
সংসদীয় বিশেষ কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘রহিতকরণ আছে কিন্তু বিচারক নিয়োগ পদ্ধতি কীভাবে হবে এবং কোন কোন ক্ষেত্রে কে কে বিচারক হতে পারবে তা সংবিধানে থাকতে হবে। পার্লামেন্ট যাহা আনবে, যা যা আলোচনা করা হবে সবকিছুই তো জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন।’
সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় গঠন ও কার্যপদ্ধতি নিয়ে নোট অব ডিসেন্ট আছে। তাই সংসদে আলোচনা জরুরি। বিশেষ কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘বিচার বিভাগের পৃথক সচিবালয় কোথায় থাকবে, কীভাবে থাকবে সেটা পার্লামেন্টে আলোচনা করে নির্ধারণ করলে সংবিধানের মধ্যে আসবে।’
সংবিধান বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিতের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সংসদে আলোচনার মাধ্যমে আইন পাস হওয়া উচিত।
সংবিধান বিশেষজ্ঞ শাহদীন মালিক বলেন, ‘বিচারপতি নিয়োগ, বিচার বিভাগের পৃথক সচিবালয় অবশ্যই প্রয়োজন। এখন যে অধ্যাদেশগুলো আছে– আপাতত তারা যেগুলো পাস করছে না, আমি আশা করব যাচাই–বাছাই করে এই অধিবেশনে না হলেও আগামী অধিবেশনে তারা আইন হিসেবে পাস করবেন।’
এই অধ্যাদেশগুলো রহিতকরণের ফলে এ প্রক্রিয়ায় আপাতত নতুন কোনো কার্যক্রম নেওয়া হবে না। তব হেফাজতের ফলে এ পর্যন্ত নেয়া কোনো কার্যক্রমও বাতিল হবে না বলে জানান সংসদীয় বিশেষ কমিটির সভাপতি।
১৩৩ অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৮টি হুবহু গ্রহণ করা হয়েছে, ১৫টি সংশোধনী। এছাড়া ১৬টি অধ্যাদেশ অধিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর আইন পাশের সুপারিশ দিয়েছে বিশেষসংসদীয় কমিটি। বাকি ৪টি রহিতকরণ ও হেফাজতের সুপারিশ।



