নিম্ন আয়ের মানুষকে স্বস্তি দিতে আগামী বাজেটে ফ্যামিলি কার্ডের আওতা বাড়ছে। এ লক্ষ্যে পর্যাপ্ত টাকার জন্য ইতোমধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ফ্যামিলি কার্ডের টেকসই সুবিধা পেতে নিশ্চিত করতে হবে প্রকৃত উপকারভোগী। এক্ষেত্রে বাজেট সম্প্রসারণের পাশাপাশি রাজস্ব আদায় বৃদ্ধির ওপর জোর দিতে হবে।
নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী পরীক্ষামূলকভাবে ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ড চালু করছে বিএনপি সরকার। প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারকে প্রতি মাসে আড়াই হাজার টাকা করে দেওয়া হচ্ছে। আগামী ৪ বছরে সারা দেশে ৪ কোটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনার পরিকল্পনা সরকারের।
২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৪০ লাখ পরিবারের প্রধান নারীকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কার্যক্রম চলছে। এ জন্য সরকারের লাগবে বাড়তি ১৩ হাজার কোটি টাকা। বাজেটে যার জন্য থাকবে আলাদা বরাদ্দ। প্রধানমন্ত্রী মনে করছেন, কৃষক ও ফ্যামিলি কার্ডের কারণে মূল্যস্ফীতি হবে না; বরং এটা স্থানীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে।
এ প্রসঙ্গে সংসদে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'যেহেতু টাকা ছাপিয়ে দিচ্ছি না, কাজেই মূল্যস্ফীতি হবে না। বরং আমরা মনে করি, এই টাকাগুলো যখন মার্কেটে যাবে, যারা কৃষক কার্ড পাচ্ছেন সেই সকল কৃষক, প্রান্তিক পর্যায়ে নারীরা যারা পাচ্ছেন টাকা, নিশ্চয়ই তারা সিঙ্গাপুর বা বিভিন্ন দেশে টাকা পাচার করবে না। সেই টাকা লোকাল অর্থনীতিতেই খরচ করবে।'
ফ্যামিলি কার্ড ভালো উদ্যোগ হলেও আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। কার্ডে অনিয়ম রোধের পাশাপাশি আলাদা টেকসই তহবিল গঠনের পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।
এ প্রসঙ্গে অর্থনীতিবিদ ড. মাহফুজ কবির বলেন, সুন্দরভাবে যদি এটাকে বন্টন করা হয় তাহলে সেক্ষেত্রে এখানে এই অতিরিক্ত ব্যয়ের ঝুঁকি নেই। এটি ছাড়া খাল পুনঃখনন যে কর্মসূচী রয়েছে সেটা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়িত হবে। ফলে আপাতত চাপ নেই। কিন্তু আগামী বাজেটটাকে একটু সম্প্রসারণমূলক করতে হবে অর্থনীতির গতি বাড়ানোর জন্য।
দেশে ৯৫টিরও বেশি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির মাধ্যমে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে সহায়তা দিচ্ছে সরকার।



