যাদের শ্রমে অর্থনীতির মূল ভিত্তি দাঁড়িয়ে, তারা স্বীকৃতি কমই পান: ড. ইউনূস 

আপডেট : ০১ মে ২০২৬, ১১:০৭ এএম

যাদের শ্রমে আমাদের অর্থনীতির মূল ভিত্তি দাঁড়িয়ে আছে, তারা সঠিক স্বীকৃতি খুব কমই পান বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। আজ মহান মে দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

ড. ইউনূসের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে বার্তাটি প্রকাশ করা হয়েছে। এতে তিনি বলেন, মহান মে দিবস ও আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবসে আমি বিশ্বের প্রতিটি শ্রমজীবী মানুষের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাচ্ছি— যারা ভোরের আলো ফোটার আগে ঘুম থেকে উঠে কর্মব্যস্ততা শুরু করেন; মাঠে, কারখানায়, গার্মেন্টসে যাদের শ্রমে আমাদের অর্থনীতির মূল ভিত্তি দাঁড়িয়ে আছে, অথচ তারা সঠিক স্বীকৃতি খুব কমই পান।

ড. ইউনূস বলেন, গভীর শ্রদ্ধা জানাচ্ছি আমাদের প্রবাসী শ্রমিকদের প্রতি, যারা পরিবার ছেড়ে প্রচণ্ড কষ্ট সহ্য করে প্রতি বছর শত শত কোটি টাকা দেশে পাঠান–দূর থেকে তারা আমাদের সকলকে টিকিয়ে রাখছেন এবং অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করছেন। সম্মান জানাই তাদেরও, যারা দেশের অভ্যন্তরে আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক খাতে কাজ করেন: পোশাক শ্রমিক, কৃষক, নির্মাণ শ্রমিক, পরিবহন শ্রমিক, ছোট দোকানকর্মী ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা–তারাই সেই শক্ত ভিত্তি, যার ওপর সমগ্র অর্থনীতি দাঁড়িয়ে আছে।

তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী নারী শ্রমিকরা এখনো একই কাজের জন্য পুরুষদের তুলনায় কম পারিশ্রমিক পান। বিশ্বের শ্রমশক্তিতে তাঁদের অংশীদারিত্ব সমান, এমনকি প্রায়শই বেশি, তা সত্বে  ও তাঁদের অবদানকে যথাযথ মূল্যায়ন করা হয় না; প্রায়ই তাঁদের অবদান অদৃশ্যই থেকে যায়।

ড. ইউনূস বলেন, বর্তমানে শ্রমজীবী মানুষেরা একটি নতুন এবং জরুরি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি: অটোমেশন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দ্রুতগতিতে প্রতিটি শিল্পকে বদলে দিচ্ছে। মাত্র এক প্রজন্মের মধ্যেই কোটি মানুষের জীবিকা ব্যাহত, চাকরি স্থানান্তরিত বা পুরোপুরি বিলুপ্ত হতে পারে।

সাবেক প্রধান উপদেষ্টা বলেন, প্রযুক্তি হওয়া উচিত মুক্তির হাতিয়ার। অটোমেশনের ক্ষমতা আছে শ্রমিকদের সবচেয়ে বিপজ্জনক ও মর্যাদাহীন কাজ থেকে মুক্ত করার, নতুন শিল্প ও সুযোগ সৃষ্টির এবং অগ্রগতির সুফল যেন কেবল মুষ্টিমেয় কয়েকজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে সকলের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে তা নিশ্চিত করার।

তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে মহৎ উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা উচিত যাতে মানুষ জীবিকা নির্বাহের জন্য নিয়োগকর্তাদের আদেশ পালন থেকে মুক্তি পায়, নিজেদের সৃজনশীলতা ব্যবহার করতে পারে এবং দারিদ্র ও অমর্যাদা থেকে নিজেদের মুক্ত করতে পারে।

নোবেলজয়ী এ অর্থনীতিবিদ বলেন, আসুন, মহান মে দিবসে আমরা অঙ্গীকার করি–এমন একটি অর্থনীতি গড়ে তোলার যেখানে প্রত্যেক ব্যক্তি যখনই চাইবে নিজেকে একজন উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার সুযোগ পাবে। অর্থনৈতিক ব্যবস্থা তার জন্য সমস্ত দরজা খোলা রাখবে যাতে সে নিজের পছন্দমতো কর্মজীবনের পথ বেছে নিতে পারে। কারো ভাগ্য যেন তাকে জীবিকার কেবল একটি পথেই সীমাবদ্ধ থাকতে বাধ্য না করে।

শান্তিতে নোবেলজয়ী ও গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ড. মুহাম্মদ ইউনূস মর্যাদাপূর্ণ ‘হিলারি রোডহ্যাম ক্লিনটন অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, দেশ যখন সম্পূর্ণ বিপর্যয়ের দ্বারপ্রান্তে ছিল, তখন অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার বহু বছরের অর্থনৈতিক লুটপাট, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর পতন, দুর্নীতি,...
সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ভিভিআইপি প্রটোকল পান, তবে অনেক বেশি ব্যক্তিগত সফর করায় সব সময় সেই সুবিধা দেওয়া সম্ভব হয় না। এমন মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী...
প্রবাসীরা যে পরিমাণ রেমিটেন্স পাঠাবে সে অনুযায়ী তাদের ব্যবসা বা বাড়ি করার জন্য সরকার ঋণ দিতে চায় বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নূর। মঙ্গলবার সকালে...
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার সব ধর্মেরই মূল উপজীব্য। মানবতার কল্যাণ সব ধর্মেরই অন্যতম মূল শিক্ষা।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহম্মেদ বলেছেন, সংবিধান দেশের প্রতিটি নাগরিককে স্বাধীনভাবে নিজ নিজ ধর্ম ও উৎসব পালনের শতভাগ অধিকার দিয়েছে। তাই ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা পালনে কোনো দুশ্চিন্তা বা শঙ্কার...
রক্তস্নাত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে জবাবদিহিমূলক সরকারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা ও রাষ্ট্রসংস্কারের যে অভূতপূর্ব সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, তা ক্ষমতার রাজনীতি ও আমলাতান্ত্রিক দুষ্টচক্রের হাতে জিম্মি হয়ে...
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এই দেশে প্রতিটি নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সমঅধিকার নিশ্চিত করতে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ।
লোডিং...
পঠিত নির্বাচিত

এলাকার খবর