আইনি সংকটে শেখ হাসিনাসহ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দণ্ডিতদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করতে পরছে না সরকার। এসব সম্পত্তি ক্ষতিপূরণ হিসেবে দিতে ট্রাইব্যুনালের আইন থাকলেও প্রক্রিয়ার বিষয়ে বিধিমালা নেই।
চিফ প্রসিকিউটর জানান, গুরুতর এ সংকট কাটাতে আদালতের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। এতে পলাতকদের দণ্ড কার্যকর করা না গেলেও সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা যাবে।
জুলাই অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ৬ মামলায় এখন পর্যন্ত ১৫ জনের মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়েছে। এর মধ্যে শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান খান, সাবেক এমপি সাইফুল ইসলাম, বরখাস্ত পুলিশ কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান, সুদীপ্ত কুমার চক্রবর্তীসহ অনেকের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে জুলাই শহীদ ও আহতদের দেওয়ার আদেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রসিকিউশন বলছে, ট্রাইব্যুনাল আইনের বিশের-ক ধারা অনুযায়ী সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের রায় হলেও বাস্তবায়নের পথ বন্ধ। কারণ কোন প্রক্রিয়ায়, কোন কর্তৃপক্ষ, কতটুকু সম্পত্তি রাষ্ট্রের অনুকূলে নেবে তা আইনে নেই। তবে এসব ক্ষেত্রে প্রয়োজনে বিধিমালা করার ক্ষমতা দেয়া আছে ট্রাইব্যুনাকে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, সুনির্দিষ্ট গাইডলাইন না থাকায়, আইনে না থাকায় এটা বাস্তবায়ন সম্ভব হচ্ছে না। ভুক্তভোগী পরিবার, রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা হতে পারে।
তবে, সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নিয়েছে প্রসিকিউশন। সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের রায় কার্যকরে, প্রচলিত সরকারি দাবি আদায় আইন অথবা ফৌজদারি কার্যবিধির অর্থদণ্ড আদায়ের ৩৮৬ ধারা প্রয়োগের অনুমতি চেয়ে ট্রাই্ব্যুনালে আবেদন করা হয়েছে। চিফ প্রসিকিউটরের আশা, ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ আসামির বিরুদ্ধে রায়ের দিন এ সংক্রান্ত নির্দেশনা আসবে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, দুটি আইনে কোনো টাকা বা জরিমানা যদি হয়, এটি আদায়ের প্রক্রিয়া আছে। পরে যে বিচার হবে, সেখানে সাজার পাশাপাশি সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের আদেশ হলে, রায়ে সুস্পষ্ট উল্লেখ থাকলে সেটি বাস্তবায়ন সম্ভব হয়।
একই ব্যক্তির সম্পত্তি ট্রাইব্যুনালের পাশাপাশি অন্য কোনো আদালতও বাজেয়াপ্ত করলে, বিশেষ আইন হওয়ায় ট্রাইব্যুনালের রায়ই কার্যকর করতে হবে।



