জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদে প্রথম ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এতে উঠে আসে রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু, অর্থনীতি, বিনিয়োগ, জনশক্তি রপ্তানি ইস্যু। বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের স্বার্থ ও অগ্রাধিকারগুলো তুলে ধরার পাশাপাশি দিপক্ষীয় বৈঠকগুলোতে কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করবে।
একই মঞ্চ। বদলেছে সময়, বদলেছে বাংলাদেশের বাস্তবতাও।
বাবা-মায়ের পর প্রথমবারের মতো জাতিসংঘের ৮১ তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বক্তব্যে উঠে আসে বাংলাদেশের নতুন সরকারের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিকল্পনা। আধুনিক বাংলাদেশ নির্মানে যুগোপযোগী এসব পরিকল্পনাকে ইতিবাচক বলছেন বিশ্লেষেকরা।
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সাহাবুল হক বলেন,
‘২০০৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের গণতন্ত্র এবং সুশাসন নেমে এসেছিল শূন্যের কোঠায়। সেটাকে উনি ফিরিয়ে আনার কথা বলেছেন। একই সাথে দেশ পুনঃগঠনের কথা বলেছেন। তার মানে এই ফ্যাসিবাদী শাসন ব্যবস্থা আর চান না। নতুন একটি শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চান।’
বৈশ্বিক সংকটে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরে সরকার প্রধান- যুদ্ধ ও সংঘাতের পরিবর্তে সংলাপ ও কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানান।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন বলেন, ‘আত্মনিয়ন্ত্রাধিকার; ফিলিস্তিনকে শাসন করার অধিকার ফিলিস্তিনীদের, এই কথাটা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি ফিলিস্তিনীদের পাশে দাঁড়ানোর কথা বলেছেন। এবং তিনি ইরান যুদ্ধের শান্তিপূর্ণ সমাধান চেয়েছেন।’
সাইড লাইন বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানসহ জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা দেশের জন্য সহায়তারও দাবি তুলে ধরেন। বলেন, বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠার কথাও।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন বলেন, ‘রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে কিন্তু বাংলাদেশ একটা জটিল জালের মধ্যে আবদ্ধ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিশ্ব দরবারে এই সমস্যাটা সমাধান করার জন্য উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন।’
এছাড়া, ইরান, পাকিস্তান, তুরস্ক, ক্রোয়েশিয়া, থাইল্যান্ড সরকারের প্রধানদের সাথে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জনশক্তি ও আঞ্চলিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়।
যুক্তরাষ্ট্র সফরের শেষ দিন শুক্রবার ওয়াল স্ট্রিটে ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। বৈঠক করেন সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, কুয়েতের স্থায়ী মিশনে ক্রাউন প্রিন্সের সাথে।
অধিবেশনের সাইডলাইনে যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িং কোম্পানি থেকে ১১টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি হয়।
চার দিনের সফরে ৩০টি আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি এবং ১১টি দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেন তারেক রহমান।



