জলাভূমি হারিয়ে যাচ্ছে, হারাচ্ছে শহরের প্রাণবৈচিত্র্য

২০২৫ সালের ডিসেম্বরের এক সকাল। বন্যপ্রাণী দেখার উদ্দেশ্যে বের হয়েছিলাম ঢাকার উত্তরা, দিয়াবাড়ি, গোড়ানচটবাড়ী, আফতাবনগর ও খিলখেত এলাকায়। গত এক দশক ধরে ঢাকার প্রাণ-প্রকৃতির সঙ্গে আমার পরিচয়। এই শহরের জলাভূমি, পাখি, ফড়িং, উভচর প্রাণী আর নদীকেন্দ্রিক জীবনের পরিবর্তন আমি খুব কাছ থেকে দেখেছি। কিন্তু এখন যে দৃশ্য চোখে পড়ে, তা মোটেই আনন্দের নয়। বরং এটি হারিয়ে যাওয়ার এক দীর্ঘ তালিকা। 

আপডেট : ০৫ জুন ২০২৬, ০৪:৩৩ পিএম

২০২৫ সালের ডিসেম্বরের এক সকাল। বন্যপ্রাণী দেখার উদ্দেশ্যে বের হয়েছিলাম ঢাকার উত্তরা, দিয়াবাড়ি, গোড়ানচটবাড়ী, আফতাবনগর ও খিলখেত এলাকায়। গত এক দশক ধরে ঢাকার প্রাণ-প্রকৃতির সঙ্গে আমার পরিচয়। এই শহরের জলাভূমি, পাখি, ফড়িং, উভচর প্রাণী আর নদীকেন্দ্রিক জীবনের পরিবর্তন আমি খুব কাছ থেকে দেখেছি। কিন্তু এখন যে দৃশ্য চোখে পড়ে, তা মোটেই আনন্দের নয়। বরং এটি হারিয়ে যাওয়ার এক দীর্ঘ তালিকা।

ঢাকার প্রকৃতি যেন দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। সমস্যার মূল কারণ চিহ্নিত না করেই শুধু সাময়িক সমাধানের চেষ্টা চলছে। ফলে শহর কিছুদিনের জন্য স্বস্তি পেলেও আবার নতুন সংকটে পড়ে যাচ্ছে। আর সেই সংকটের সবচেয়ে বড় শিকার হচ্ছে শহরের জীববৈচিত্র্য। একের পর এক প্রাণী হারিয়ে যাচ্ছে। হারিয়ে যাচ্ছে তাদের আবাসস্থল।

পৃথিবীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশব্যবস্থাগুলোর মধ্যে জলাভূমি অন্যতম। জলাভূমিকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে অসংখ্য উদ্ভিদ ও প্রাণীর জীবনচক্র। মাছ, ব্যাঙ, কচ্ছপ, পাখি, ফড়িং, সরীসৃপ, স্তন্যপায়ী প্রাণীসবাই কোনো না কোনোভাবে জলাভূমির ওপর নির্ভরশীল। জলাভূমি শুধু প্রাণীদের আশ্রয় দেয় না, এটি পানি ধারণ করে, বন্যা নিয়ন্ত্রণ করে, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ঠিক রাখে এবং স্থানীয় আবহাওয়া নিয়ন্ত্রণেও ভূমিকা রাখে।

বাংলাদেশ মূলত Ganges-Brahmaputra-Meghna অববাহিকা অঞ্চলের একটি বদ্বীপভূমি। একসময় এই দেশ নদী, বিল, খাল, হাওর, বাওড় ও নিম্নাঞ্চলে সমৃদ্ধ ছিল। ঢাকাও ছিল জলাভূমি বেষ্টিত একটি নগরী। ১৭ শতকে বুড়িগঙ্গা তীর ঘেঁষে গড়ে ওঠা এই শহরের চারপাশে ছিল বিস্তীর্ণ জলাশয়, ঘাসভূমি ও বনাঞ্চল। মিরপুর, তেজগাঁও, কুর্মিটোলা কিংবা পল্টনের বড় অংশ ছিল জঙ্গল ও নিম্নভূমি। দক্ষিণে কামরাঙ্গীরচর এলাকায় ছিল বিস্তৃত বাদাবন। এসব এলাকাকে কেন্দ্র করে বাস করত অসংখ্য বন্যপ্রাণী। আজ তাদের অনেকেই শুধু বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ।

জলাভূমির গুরুত্ব শুধু পরিবেশগত নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে মানুষের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, সামাজিক জীবন ও অর্থনীতি। বাংলাদেশের গ্রামীণ সংস্কৃতির বড় অংশ জলাভূমিনির্ভর। মাছ ধরা, নৌকা চলাচল, জলজ উদ্ভিদ সংগ্রহ, হাঁস পালন কিংবা মৌসুমি পাখির আগমন—সবকিছুই জলাভূমির সঙ্গে সম্পর্কিত। কিন্তু আজ এই জলাভূমিগুলো দ্রুত হারিয়ে যাচ্ছে। আবাসস্থলের গুণগত মান নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ফলে জীববৈচিত্র্যের একটি বড় অংশ বিপন্ন হয়ে পড়ছে। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে আছে শহরের  জলাভূমি কেন্দ্রিক জীববৈচিত্র্য। ঢাকার বর্তমান অবস্থা আমাদের সেই কঠিন বাস্তবতাই দেখিয়ে দেয়। যদি এখনই দেশের অন্যান্য শহরে সংরক্ষণমূলক উদ্যোগ নেওয়া না হয়, তবে সেখানেও একই পরিস্থিতি তৈরি হবে।

জাতিসংঘের ওয়ার্ল্ড আরবানাইজেশন প্রসপেক্ট অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে ঢাকার জনসংখ্যা প্রায় ২ কোটি ৭৪ লাখে পৌঁছাতে পারে। জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে বাড়ছে বর্জ্য, দূষণ ও অবকাঠামোগত চাপ। কংক্রিটের বিস্তার ঢাকার প্রাকৃতিক পরিবেশকে ক্রমাগত সংকুচিত করছে। শহর হারাচ্ছে তার সবুজ ও জলাভূমি।

গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, ১৯৬০ সালে ঢাকায় জলাভূমির পরিমাণ ছিল প্রায় ২ হাজার ৯৫২ হেক্টর। ২০০৮ সালে তা কমে দাঁড়ায় প্রায় ১ হাজার ৯৯০ হেক্টরে। একই সময়ে নিম্নভূমির পরিমাণও প্রায় অর্ধেকে নেমে আসে।   আইডাবলিউএম-এর সমীক্ষা অনুযায়ী, ১৯৮৫ সালের পর থেকে ঢাকায় ১০ হাজার হেক্টরের বেশি জলাভূমি, খাল ও নিম্নাঞ্চল হারিয়ে গেছে। একসময় ঢাকার মোট আয়তনের ২০ শতাংশের বেশি ছিল জলাভূমি। বর্তমানে তা নেমে এসেছে প্রায় ৩ শতাংশে।

ভূগর্ভস্থ পানির অবস্থাও ভয়াবহ। ছবি: লেখক ভূগর্ভস্থ পানির অবস্থাও ভয়াবহ। পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৬ সালে ঢাকার পানির স্তর ছিল প্রায় ২৫ মিটার গভীরে। বর্তমানে তা ৮০ মিটারেরও নিচে নেমে গেছে। প্রতি বছর পানির স্তর আরও নিচে নেমে যাচ্ছে। এর বড় কারণ হলো জলাভূমি ধ্বংস ও প্রাকৃতিক পানি ধারণক্ষমতা কমে যাওয়া।

অন্যদিকে একটি বাসযোগ্য শহরের জন্য মোট ভূমির অন্তত ১৫ শতাংশ সবুজ আচ্ছাদন থাকা প্রয়োজন। কিন্তু ঢাকায় এখন সবুজ আচ্ছাদন রয়েছে প্রায় ৯-১১ শতাংশ তবে তা সবুজ আচ্ছাাদন বটে, জীব বৈচিত্র্য টিকে থাকার মতো কতটুকু আছে তা ধারণার বাইরে। ফলে শহরে তাপমাত্রা বাড়ছে। গরম ও তাপপ্রবাহ আরও তীব্র হয়ে উঠছে।

তবে শুধু জলাশয় থাকলেই হবে না। সেই জলাশয়ের পরিবেশগত মানও গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে ঢাকার অধিকাংশ জলাশয়ের পানি দূষিত। শিল্পবর্জ্য, পলিথিন, নর্দমার পানি ও রাসায়নিক বর্জ্যে অনেক জলাশয় বিষাক্ত হয়ে পড়েছে। পানির দ্রবীভূত অক্সিজেন কমে গেছে। পরিবর্তন এসেছে কার্বন-ডাই-অক্সাইড ও অন্যান্য রাসায়নিক উপাদানে। ফলে জলজ খাদ্যশৃঙ্খলে বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটেছে।

২০১৭ সালে যখন প্রথম ঢাকার জীববৈচিত্র্য নিয়ে মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু করি, তখনও দিয়াবাড়ি, আফতাবনগর, খিলখেত, তুরাগ নদী এলাকা, গুলশান লেক কিংবা ধানমন্ডি লেকের আশপাশে প্রচুর ফড়িং ও সূচফড়িং দেখা যেত। ফড়িং সাধারণত সুস্থ জলাভূমির নির্দেশক হিসেবে কাজ করে। তাই তাদের উপস্থিতি তখনও জলজ পরিবেশের কিছুটা সুস্থতার ইঙ্গিত দিত।

২০১৮ সালের জরিপে এসব এলাকায় প্রায় ১৮২ প্রজাতির পাখির উপস্থিতি পাওয়া গিয়েছিল। ভোরবেলা আফতাবনগর বা দিয়াবাড়িতে গেলে মনে হতো যেন প্রকৃতির এক স্বর্গরাজ্যে দাঁড়িয়ে আছি। জলাভূমিনির্ভর পাখিরা তখনও সেখানে টিকে ছিল। বিভিন্ন প্রজাতির কোড়া, কালেম, ডাহুক, ডুবুরি, বগা, বগলা, চ্যাগা, কাদাখোঁচা, খঞ্জনা, বাটান, জিরিয়া, সরালি হাঁস, বালিহাঁস ও পিশাখ হাঁস নিয়মিত দেখা যেত। ধূসর বক ও লালচে বগও ছিল উল্লেখযোগ্য। বিভিন্ন প্রজাতির পানকৌড়ির উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো।

কিন্তু মাত্র সাত বছরের ব্যবধানে দৃশ্যপট বদলে গেছে। এখন একই এলাকাগুলোতে সারা বছরে ১১০-১২০ প্রজাতির পাখি দেখাও কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে জলাভূমি ও ঘাসভূমিনির্ভর পাখিরা দ্রুত হারিয়ে যাচ্ছে। কারণ তাদের আবাসস্থল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। জলাভূমির চারপাশে গড়ে উঠছে নতুন ভবন। বাড়ছে দখল ও দূষণ। কংক্রিটের বিস্তার গ্রাস করছে প্রকৃতিকে।

ঢাকার প্রকৃতি যেন দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। ছবি: লেখক খাদ্যশৃঙ্খলেও বড় পরিবর্তন এসেছে। অনেক জলাশয়ে এখনো পানি আছে। কিন্তু সেখানে জীববৈচিত্র্য নেই। পাখি নেই, উভচর নেই, সরীসৃপ নেই। কারণ পরিবেশটি আর জীবনের জন্য উপযোগী নয়। মানুষ যেমন প্রচণ্ড গরমে আশ্রয় খোঁজে, প্রাণীরাও তেমনি নিরাপদ ও উপযোগী পরিবেশের দিকে চলে যায়। তাই ঢাকার জলাভূমিকেন্দ্রিক জীববৈচিত্র্য ক্রমাগত হারিয়ে যাচ্ছে।

একসময় ঢাকার আশপাশের নদীগুলো যেমন তুরাগ, বালু ও বুড়িগঙ্গায় শুশুক দেখা যেত। এখন দূষণের কারণে সেই শুশুকও বিলুপ্তির পথে। উভচর প্রাণীদের অবস্থাও অত্যন্ত খারাপ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা, রমনা কিংবা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় আগে যেসব ব্যাঙ ও অন্যান্য উভচর প্রাণী সহজে দেখা যেত, এখন তাদের সংখ্যা অনেক কমে গেছে।

বর্তমানে ঢাকায় এখনো প্রায় ২০৯ প্রজাতির বন্যপ্রাণী টিকে আছে। রয়েছে প্রায় ৪৫ প্রজাতির ফড়িং ও সূচফড়িং এবং প্রায় ১৪০ প্রজাতির প্রজাপতি। কিন্তু গবেষণার তথ্য বলছে, জলাভূমিকেন্দ্রিক জীববৈচিত্র্যের সংখ্যা দ্রুত কমছে। এর প্রধান কারণ হলো জলাভূমির ধ্বংস ও পরিবেশগত অবক্ষয়।
এই ক্ষতির প্রভাব শুধু প্রাণীকুলের ওপর পড়ছে না। মানুষও এর শিকার। বিশুদ্ধ পানির সংকট, অতিরিক্ত গরম, বায়ুদূষণ, রোগব্যাধি ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলছে। প্রকৃতি ধ্বংসের ফল মানুষকেও ভোগ করতে হচ্ছে।

ঢাকাকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। কিন্তু এখনো যা অবশিষ্ট আছে, তা সংরক্ষণ করা সম্ভব। জলাভূমিকে তার স্বাভাবিক অবস্থায় থাকতে দিতে হবে। প্রকৃতিকে কৃত্রিমভাবে সাজিয়ে তোলা মানেই উন্নয়ন নয়। অনেক ক্ষেত্রে তথাকথিত সৌন্দর্যবর্ধন প্রকৃতির জন্য ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়ায়। জলাভূমি ভরাট করে কংক্রিটের স্থাপনা নির্মাণ করলে সেখানে আর প্রাকৃতিক জৈব-রাসায়নিক প্রক্রিয়া চলতে পারে না।
প্রকৃতির প্রতিটি উপাদানের একটি নির্দিষ্ট ভূমিকা আছে। ছোট একটি পরিবর্তনও বড় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। তাই জলজ পরিবেশ ধ্বংস করে উন্নয়ন নয়, বরং প্রকৃতিবান্ধব পরিকল্পনা প্রয়োজন।

একই সঙ্গে ঢাকার বাইরের শহরগুলোতেও এখন থেকেই জলাভূমিকেন্দ্রিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে গুরুত্ব দিতে হবে। প্রতিটি উন্নয়ন প্রকল্পের আগে যথাযথ পরিবেশগত সমীক্ষা বাধ্যতামূলক করা প্রয়োজন। শুধু গাছ লাগিয়ে জলজ পরিবেশ রক্ষা করা সম্ভব নয়। জলাভূমি, ঘাসভূমি, নদী ও প্রাকৃতিক পানি প্রবাহকে একসঙ্গে সংরক্ষণ করতে হবে।

নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য বিষয়ে আরও সচেতনতা জরুরি। সাময়িক সুবিধার জন্য দীর্ঘমেয়াদি বিপর্যয় ডেকে আনা উচিত নয়। কারণ জলাভূমি রক্ষা মানে শুধু প্রাণী রক্ষা নয়, মানুষের ভবিষ্যৎও রক্ষা করা।

খাদ্যশৃঙ্খলেও বড় পরিবর্তন এসেছে। অনেক জলাশয়ে এখনো পানি আছে। কিন্তু সেখানে জীববৈচিত্র্য নেই। পাখি নেই, উভচর নেই, সরীসৃপ নেই। কারণ পরিবেশটি আর জীবনের জন্য উপযোগী নয়। মানুষ যেমন প্রচণ্ড গরমে আশ্রয় খোঁজে, প্রাণীরাও তেমনি নিরাপদ ও উপযোগী পরিবেশের দিকে চলে যায়। তাই ঢাকার জলাভূমিকেন্দ্রিক জীববৈচিত্র্য ক্রমাগত হারিয়ে যাচ্ছে।

একসময় ঢাকার আশপাশের নদীগুলো যেমন তুরাগ, বালু ও বুড়িগঙ্গায় শুশুক দেখা যেত। এখন দূষণের কারণে সেই শুশুকও বিলুপ্তির পথে। উভচর প্রাণীদের অবস্থাও অত্যন্ত খারাপ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা, রমনা কিংবা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় আগে যেসব ব্যাঙ ও অন্যান্য উভচর প্রাণী সহজে দেখা যেত, এখন তাদের সংখ্যা অনেক কমে গেছে।

বর্তমানে ঢাকায় এখনো প্রায় ২০৯ প্রজাতির বন্যপ্রাণী টিকে আছে। রয়েছে প্রায় ৪৫ প্রজাতির ফড়িং ও সূচফড়িং এবং প্রায় ১৪০ প্রজাতির প্রজাপতি। কিন্তু গবেষণার তথ্য বলছে, জলাভূমিকেন্দ্রিক জীববৈচিত্র্যের সংখ্যা দ্রুত কমছে। এর প্রধান কারণ হলো জলাভূমির ধ্বংস ও পরিবেশগত অবক্ষয়।
এই ক্ষতির প্রভাব শুধু প্রাণীকুলের ওপর পড়ছে না। মানুষও এর শিকার। বিশুদ্ধ পানির সংকট, অতিরিক্ত গরম, বায়ুদূষণ, রোগব্যাধি ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলছে। প্রকৃতি ধ্বংসের ফল মানুষকেও ভোগ করতে হচ্ছে।

ঢাকাকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। কিন্তু এখনো যা অবশিষ্ট আছে, তা সংরক্ষণ করা সম্ভব। জলাভূমিকে তার স্বাভাবিক অবস্থায় থাকতে দিতে হবে। প্রকৃতিকে কৃত্রিমভাবে সাজিয়ে তোলা মানেই উন্নয়ন নয়। অনেক ক্ষেত্রে তথাকথিত সৌন্দর্যবর্ধন প্রকৃতির জন্য ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়ায়। জলাভূমি ভরাট করে কংক্রিটের স্থাপনা নির্মাণ করলে সেখানে আর প্রাকৃতিক জৈব-রাসায়নিক প্রক্রিয়া চলতে পারে না।
প্রকৃতির প্রতিটি উপাদানের একটি নির্দিষ্ট ভূমিকা আছে। ছোট একটি পরিবর্তনও বড় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। তাই জলজ পরিবেশ ধ্বংস করে উন্নয়ন নয়, বরং প্রকৃতিবান্ধব পরিকল্পনা প্রয়োজন।

একই সঙ্গে ঢাকার বাইরের শহরগুলোতেও এখন থেকেই জলাভূমিকেন্দ্রিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে গুরুত্ব দিতে হবে। প্রতিটি উন্নয়ন প্রকল্পের আগে যথাযথ পরিবেশগত সমীক্ষা বাধ্যতামূলক করা প্রয়োজন। শুধু গাছ লাগিয়ে জলজ পরিবেশ রক্ষা করা সম্ভব নয়। জলাভূমি, ঘাসভূমি, নদী ও প্রাকৃতিক পানি প্রবাহকে একসঙ্গে সংরক্ষণ করতে হবে।

নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য বিষয়ে আরও সচেতনতা জরুরি। সাময়িক সুবিধার জন্য দীর্ঘমেয়াদি বিপর্যয় ডেকে আনা উচিত নয়। কারণ জলাভূমি রক্ষা মানে শুধু প্রাণী রক্ষা নয়, মানুষের ভবিষ্যৎও রক্ষা করা।

লেখক: প্রভাষক, প্রাণিবিদ্যা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দেশজুড়ে খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছে সরকার। এর পাশাপাশি প্রশ্ন উঠেছে—এসব খাল, নদী ও জলাধারের পাড় দীর্ঘমেয়াদে কীভাবে রক্ষা করা যাবে, কীভাবে ঠেকানো যাবে মাটির ক্ষয়।...
আর্জেন্টিনা-ব্রাজিলের চিরন্তন দ্বৈরথের বাইরে এসে বাংলাদেশে জন্ম নিচ্ছে এক নতুন ফুটবল বসন্ত। কোনো পূর্বপুরুষের প্রভাব ছাড়াই, সম্পূর্ণ নিজস্ব পছন্দে একটি দেশের নতুন প্রজন্ম পর্তুগালের লাল-সবুজ...
ধরুন, আজ হাসপাতালে এক শিশু জন্ম নিলো। সাথে সাথেই হাসপাতাল থেকে তার নামে একটি আইডি খোলা হবে। যা সরাসরি জাতীয় সার্ভারে আবেদন আকারে যুক্ত হয়ে যাবে। সরকার বা অ্যাডমিন কর্তৃপক্ষ সেই আবেদনের সব তথ্য...
ভারতে অধিকাংশ যন্ত্রপাতি ও পণ্য স্থানীয়ভাবে সংগ্রহ করা হয়, যেখানে ঢাকার এমআরটি প্রকল্পগুলোতে আন্তর্জাতিক মান পূরণকারী দেশ থেকে এসব উপকরণ আমদানি করা হয়। তাই এই ব্যয়ের তুলনা করলেই বাস্তব চিত্র...
মুম্বাইয়ে একটি অনুষ্ঠানস্থল থেকে গাড়িতে করে বের হওয়ার সময় বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছে তিন থেকে চার রাউন্ড গুলি। এ ঘটনায় অক্ষত রয়েছেন তিনি। তবে তাঁর গাড়িচালক ও কাছাকাছি...
ভারতের আগরতলা থেকে কলকাতাগামী একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের প্রধান দরজা মাঝ আকাশে আংশিক খুলে যাওয়ায় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করেছে। রোববার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। অবতরণের পর...
বর্তমানে আবদুল গনি রোডে অবস্থিত সচিবালয়। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে পুরোনো বাণিজ্যমেলার মাঠে বাংলাদেশ সচিবালয় স্থানান্তরের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হয়েছে। ২০২৯ সালে নতুন জায়গায় অফিস শুরু হবে।...
এবার অমর একুশের বইমেলা শুরু হবে ৭ জানুয়ারি থেকে। মাসব্যাপী এ আয়োজন চলবে ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। বাংলা একাডেমির এক বিজ্ঞপ্তিতে বইমেলার এ সময়সূচি জানানো হয়েছে। রোববার বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক...
লোডিং...
পঠিত নির্বাচিত

এলাকার খবর