দেশে সংকটের অভাব নেই বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। আজ বৃহস্পতিবার মগবাজারে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, দেশে সংকটের অভাব নেই; যেখানেই হাত দেবেন, সেখানেই সংকট। সার ডিলার নিয়োগে চরম দলীয়করণ করা হয়েছে। এর প্রভাব পড়ছে কৃষি ও নাগরিকদের ওপর।
তিনি বলেন, দুর্ভাগ্যজনক হলো, একজনের দায়িত্ব থাকলেও কথা বলেন আরেকজন। কৃষি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব কৃষিমন্ত্রীর, কিন্তু কথা বলছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তাদের মধ্যে রাজনৈতিক কর্তৃত্ববাদী মানসিকতা চেপে বসেছে।
জামায়াতের এই নেতা বলেন, জেলায় গঠিত কমিটিতে রাজনৈতিক বিবেচনায় তিনজনকে মনোনীত করা হয়েছে। এ কারণে যোগ্য ব্যক্তিদের ডিলার হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার সুযোগ নেই। বিএনপির নেতারা টাকার বিনিময়ে ডিলার নিয়োগ দিয়েছেন। ফলে সার বিতরণে সরকার শতভাগ ব্যর্থ হয়েছে।
গোলাম পরওয়ার বলেন, বিএনপির ত্যাগী নেতাদের ডিলারশিপ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। সরকারের কোনো মন্ত্রীই নীতিমালার তোয়াক্কা করছেন না। ফলে এখন ‘সবার আগে বিএনপি’, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নয়।
মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, জুলাই বিপ্লবের মধ্য দিয়ে দুর্নীতিমুক্ত, স্বজনপ্রীতিমুক্ত ও ভিন্নমতের ওপর দমন-পীড়নমুক্ত একটি মানবিক ও ইনসাফভিত্তিক নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলাম আমরা। কিন্তু ক্ষমতাসীন সরকার তা বাস্তবায়ন করতে দেবে না।
তিনি বলেন, বিরোধী দলকে বাদ দিয়ে নিজেদের সুবিধামতো সংবিধান সংশোধন করে ফ্যাসিস্টদের মতো সারাজীবন ক্ষমতায় থাকার লক্ষ্যে কর্তৃত্ববাদী সরকারের সাংবিধানিক কাঠামো তৈরি করতে ব্যস্ত হয়েছে সরকার।
সরকারেক উদ্দেশ করে জামায়াতের এই নেতা বলেন, তাদের লক্ষ্য হলো আজীবন ক্ষমতায় থাকা, যা ফ্যাসিবাদী চিন্তার একটি সর্বনাশা পদক্ষেপ। আমরা এই সর্বনাশা চিন্তা থেকে ক্ষমতাসীন শাসকগোষ্ঠীকে ফেরানোর চেষ্টা করব।
এ সময় জামায়াতের ছয় দফা দাবি তুলে ধরা হয়। এগুলো হলো–
১. সার ডিলার নিয়োগে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি, রাজনৈতিক প্রভাব ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ অবিলম্বে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
২. ডিলার নিয়োগে যোগ্যতা মূল্যায়নের মানদণ্ড, তালিকা প্রণয়নের প্রক্রিয়া এবং লাইসেন্স প্রদানের ভিত্তি জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে।
৩. ডিলারশিপ পাইয়ে দেওয়ার নামে অর্থ আদায়ের যেসব অভিযোগ উঠেছে, সেগুলো তদন্ত করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।
৪. সারসংকট নিয়ে দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং দেশের বিভিন্ন এলাকার প্রকৃত পরিস্থিতির মধ্যে যে অসংগতি রয়েছে, তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় তথ্য প্রকাশ করতে হবে।
৫. ডিলার নিয়োগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষকে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে হবে এবং তদন্তের অগ্রগতি জনগণকে জানাতে হবে।
৬. কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা প্রমাণের ভিত্তিতে যাচাই করতে হবে। ভিত্তিহীন অভিযোগ বা রাজনৈতিক বক্তব্যের মাধ্যমে কাউকে দায়ী করা যাবে না।


