আমেরিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের মেয়াদের শেষ বছর জরুরি সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে তাঁকে ভরসা করতে পারতেন না মন্ত্রিসভার কিছু সদস্য। প্রেসিডেন্ট মাঝেমধ্যে অস্পষ্টভাবে কথা বলতেন এবং অনেক কথা বোধগম্য হতো না। এমন পরিস্থিতিতে তাঁর প্রেসিডেন্সির শেষ দিকে মন্ত্রিসভার কিছু সদস্য মনে করতেন, মাঝরাতের (রাত ২টা) দিকে জরুরি সিদ্ধান্ত নিতে বাইডেনের ওপর নির্ভর করা সম্ভব না।
সিএনএনের জেক ট্যাপার ও অ্যাক্সিওসের অ্যালেক্স থমসনের লেখা নতুন বইয়ে উঠে এসেছে এমন তথ্য। সংবাদমাধ্যম সিএনএন এক প্রতিবেদনে জানায়, ‘অরিজিনাল সিন: প্রেসিডেন্ট বাইডেন’স ডিক্লাইন, ইটস কাভার-আপ, অ্যান্ড হিস ডিজাস্ট্রাস চয়েস টু রান এগেইন’ নামের বইটি প্রকাশিত হবে আগামী ২০ মে।
বাইডেন প্রশাসনের একাধিক সদস্য লেখকদের জানান, ২০২৩ ও ২০২৪ সালে বাইডেনের চারপাশের ঘনিষ্ঠ পরিসর সংকুচিত হয়ে আসে। এতটাই সংকুচিত হয় যে, তাঁর নিজ মন্ত্রিসভার সদস্যরাও অনেক সময় বাইডেনের সিদ্ধান্তে ভরসা করতে পারতেন না।
লেখকেরা আরও জানান, বাইডেনের দীর্ঘদিনের সহকারীরা ২০২৩ ও ২০২৪ সালে তাঁর স্বাস্থ্যগত দুর্বলতার সময় মন্ত্রিসভার সদস্যদের তাঁর কাছ থেকে দূরে রেখেছিলেন। যেসব সহকারী আগে নিয়মিত প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দেখা করতেন, তাঁদের অনেকেই মাসের পর মাস তাঁকে দেখার সুযোগ পাননি।
মন্ত্রিসভার একজন সদস্য বলেন, ‘২০২৪ সালে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ খুব একটা হতো না। আগে যেসব বিষয় কথা সরাসরি প্রেসিডেন্ট বাইডেনকে জানাতাম, সেগুলো তখন হোয়াইট হাউসের অন্য জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের মাধ্যমে পৌঁছাতে হতো। তাঁরা পরে প্রেসিডেন্টকে ব্রিফ করতেন। ফলে বাইডেনের সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাব ফেলতেন অন্যরা।’
দুই শতাধিক সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে বইটি লেখা হয়েছে, যার অধিকাংশই ডেমোক্রেটিক দলের ঘনিষ্ঠ সূত্র। আর প্রায় সব সাক্ষাৎকার নির্বাচনের পর নেওয়া হয়েছে।
বইয়ের লেখকেরা জানান, বাইডেনের শারীরিক ও মানসিক দুর্বলতার স্পষ্ট লক্ষণ সত্ত্বেও ২০২৪ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট নিবাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও পরিবারের সদস্যরা প্রচার চালিয়ে যান। ২০২৪ সালের জুনে অনুষ্ঠিত বিতর্কে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের আগেই বিভিন্ন সময় বাইডেনের দুর্বলতার লক্ষণ দেখা দেয়। তবে সেগুলো হয় উপেক্ষা করা হয়েছে, নয়তো হালকাভাবে নেওয়া হয়েছে।
বইয়ে বলা হয়, বাইডেনের সহকারীরা ভেতরে ভেতরে আলোচনা করতেন, দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্টকে হয়তো হুইলচেয়ারে বসিয়ে কাজ চালাতে হতে পারে। এমনকি ২০২৪ সালের জুনে এক তহবিল সংগ্রহ অনুষ্ঠানে বাইডেন হলিউড তারকা জর্জ ক্লুনিকে পর্যন্ত চিনতে পারেননি।
বাইডেনের মন্ত্রিসভার আরেক সদস্য বলেন, ‘আমি মনে করি না তিনি ডিমেনশিয়ায় ভুগছেন। তবে তিনি যে একজন বয়স্ক মানুষ, তা স্পষ্ট। তিনি প্রতিদিন চার থেকে ছয় ঘণ্টা ভালোভাবে কাজ করতে পারতেন। তবে ক্লান্ত হয়ে পড়লে কিছুটা খেই হারিয়ে হারিয়ে ফেলতেন, তবে একে ‘অসংলগ্ন’ বলা ঠিক হবে না।’
এদিকে সিএনএনকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বাইডেনের মুখপাত্র বলেন, ‘আমরা এখনো এমন কোনো প্রমাণ দেখিনি, যা বলছে জো বাইডেন কখনো প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনে অযোগ্য ছিলেন বা জাতীয় নিরাপত্তা হুমকিতে পড়েছিল। বরং তিনি একজন প্রভাবশালী প্রেসিডেন্ট ছিলেন।’



