কানাডার সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) ইঙ্কি মার্ককে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির পুলিশ। তাঁর বাড়ি থেকে চার শতাধিক বন্দুক, বিপুল গোলাবারুদ এবং একটি প্রাচীন কামান উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া পাওয়া গেছে কয়েক লাখ ডলার নগদ অর্থ।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত সপ্তাহে ম্যানিটোবার ডফিন এলাকার কাছে ইঙ্কি মার্কের বাড়িতে অভিযান চালায় রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ (আরসিএমপি)। এ সময় তাঁর বাড়ি থেকে ৪৩৯টি আগ্নেয়াস্ত্র জব্দ করা হয়। আরসিএমপি জানিয়েছে, এর মধ্যে অন্তত তিনটি অস্ত্র অবৈধভাবে পাচার করা হয়েছে।
৭৮ বছর বয়সী ইঙ্কি মার্কের বিরুদ্ধে অবৈধ অস্ত্র পাচার, অননুমোদিত ডিভাইস রাখা এবং অনিরাপদভাবে অস্ত্র মজুত রাখাসহ বেশ কয়েকটি অভিযোগ আনা হয়েছে।
ম্যানিটোবায় কানাডার কঠোর ফেডারেল অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইন কার্যকর থাকলেও সেখানকার প্রাদেশিক সরকার অতিরিক্ত বিধিনিষেধের সক্রিয় বিরোধিতা করে আসছে। কারণ এই অঞ্চলে বিনোদনের জন্য শুটিং ও শিকারের গভীর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য আছে।
ডফিনের সাবেক এই মেয়রকে গত ৭ জুলাই পুলিশি তল্লাশির সময় গ্রেপ্তার করা হয়। গত সপ্তাহে আদালতে ডজনখানেক অভিযোগের মুখোমুখি হওয়ার পর কিছু শর্ত সাপেক্ষে হেফাজত থেকে মুক্তি পান তিনি।
সোমবার আরসিএমপির অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার এবং ম্যানিটোবার কমান্ডিং অফিসার স্কট ম্যাকমুর্চি বলেন, ‘নিষিদ্ধ অস্ত্রের অবৈধ পাচার একটি গুরুতর অপরাধ, যা জননিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলে। আমরা আরসিএমপির কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানাই, যাঁরা এই বিপজ্জনক ও অবৈধ অস্ত্র পাচারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে এবং তাঁদের বিচারের মুখোমুখি করতে অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন।’
অস্ত্র মজুতের উদ্দেশ্য এখনো স্পষ্ট নয়। তবে ম্যানিটোবা আরসিএমপির করপোরাল ব্যারি কিরবি সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘আমরা কেবল এতটুকুই জানি যে তিনি একজন আগ্নেয়াস্ত্র সংগ্রাহক।’
ইঙ্কি মার্ক ১৯৯৪ সালে ডফিনের মেয়র নির্বাচিত হন এবং ২০১০ সালের নির্বাচনে পরাজিত হন। ১৯৯৭ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত তিনি কানাডার পার্লামেন্টে ডফিন-সোয়ান রিভার-নিপাওয়া আসনের প্রতিনিধিত্ব করেন। ২০১০ সালে তিনি হাউস অব কমন্স থেকে পদত্যাগ করেন। তিনি রিফর্ম পার্টি অব কানাডা, কানাডিয়ান অ্যালায়েন্স এবং কনজারভেটিভ পার্টির সদস্য ছিলেন। ২০১৫ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আবারও নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও তিনি জয়ী হতে পারেননি।



