ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। যার প্রভাব পড়েছে ইউক্রেন যুদ্ধেও। অনেকের ধারণা ছিল, এই যুদ্ধ ইউক্রেনের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়াবে। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ বলছে, পরিস্থিতি একেবারে একমুখী নয়। এ সংঘাতকে নিজের পক্ষে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে কিয়েভ। তবে প্রশ্ন হচ্ছে—এতে কি রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধবিরতি আরও কাছাকাছি এসেছে?
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যে সক্রিয় কূটনীতি চালাচ্ছেন। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারের মতো দেশগুলোর সঙ্গে তিনি ড্রোন প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার করছেন। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার অভিজ্ঞতা থাকায় এসব দেশ ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রের অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দিচ্ছে। এর ফলে ইউক্রেন শুধু রাজনৈতিক সমর্থনই নয়, অর্থনৈতিক ও সামরিক সুবিধাও পাচ্ছে।
যুদ্ধক্ষেত্রেও ইউক্রেন নতুন কৌশল দেখাচ্ছে। কম খরচের ড্রোন ব্যবহার করে রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা চালানো হচ্ছে, যা মস্কোর অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করছে। বিশেষ করে তেল রপ্তানিতে বিঘ্ন ঘটিয়ে ইউক্রেন রাশিয়ার আয় কমানোর চেষ্টা করছে। যদিও ইরান সংকটের কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় রাশিয়া কিছুটা লাভবান হয়েছে, তবুও ইউক্রেনের হামলা সেই লাভের একটি বড় অংশ কমিয়ে দিয়েছে।
এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইউক্রেনকে বড় অঙ্কের ঋণ সহায়তা দিতে রাজি হয়েছে। যা আগে রাজনৈতিক কারণে আটকে ছিল। এই অর্থ ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও বাড়াবে। ফলে যুদ্ধের ময়দান ও কূটনীতির অঙ্গন—দুই দিকেই নিজেদের অবস্থান শক্ত করছে কিয়েভ।
তবে যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা এখনও অনিশ্চিত। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এখনো যুদ্ধ থামানোর কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত দেননি। বরং অনেক ক্ষেত্রে হামলা আরও বাড়ানো হয়েছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের মনোযোগ এখন অনেকটাই মধ্যপ্রাচ্যের দিকে চলে গেছে। যা ইউক্রেন ইস্যুকে কিছুটা পিছিয়ে দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলছেন, তিনি দ্রুত একটি সমাধান আনতে পারেন। কিন্তু বাস্তবে এখনো তেমন কোনো অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। ইউক্রেনের পক্ষ থেকেও আশঙ্কা রয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র হয়তো তাদের প্রত্যাশামতো শক্ত অবস্থান নেবে না।
সব মিলিয়ে বলা যায়, ইরান সংঘাত ইউক্রেনের জন্য একদিকে চ্যালেঞ্জ তৈরি করলেও অন্যদিকে নতুন সুযোগ এনে দিয়েছে। কিয়েভ এখন আগের চেয়ে কিছুটা শক্ত অবস্থানে রয়েছে। যা ভবিষ্যতের আলোচনায় কাজে লাগতে পারে। তবে যুদ্ধবিরতি এখনো দূরের পথ—কারণ এর জন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা, যা এখনো স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে না।
পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তনশীল। তাই বিশ্বরাজনীতির এই জটিল খেলায় আগামী দিনগুলোই নির্ধারণ করবে—শান্তি আসছে, নাকি সংঘাত আরও দীর্ঘায়িত হবে।



