স্পেনে আগাম নির্বাচনে ভরাডুবি ঘটতে পারে ক্ষমতাসীন বামপন্থী জোটের। প্রায় সব জনমত জরিপেই পিছিয়ে রয়েছে প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের সোশ্যালিস্ট পার্টি। এ অবস্থায়, আবাসন, দুর্নীতি রোধ ও অভিবাসনসহ সামাজিক বিষয়গুলোতে জোর দেয়ার তাগিদ বিশেষজ্ঞদের।
ডানপন্থীদের উত্থান বাড়ছে ইউরোপের দেশগুলোতে। ফ্রান্সে ন্যাশনাল র্যালি এবং জার্মানিতে এএফডি’র মতো দলগুলোর ঐতিহাসিক ও শক্তিশালী অবস্থান মূলধারার রাজনীতিকে চাপে ফেলেছে। ফ্রান্স ও জার্মানির পথ ধরে স্পেনেও এবার ডানপন্থী জোটের ক্ষমতায় যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগাম নির্বাচন প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের জন্য একটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পদক্ষেপ। কারণ প্রায় সব জনমত জরিপেই তাঁর সোশ্যালিস্ট পার্টি পিছিয়ে রয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ক্রিস্টিনা মঙ্গে বলেন, ‘আমরা এমন একপর্যায়ে আছি যেখানে বামপন্থীরা শুরু থেকেই সুবিধাজনক অবস্থানে নেই। গত নির্বাচনের পর পরিস্থিতির যে পরিবর্তনটি ঘটেছে তা হলো, বামপন্থী ভোটারদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এখন বলছে, তারা ভোট দিতে যাবে না। আমরা প্রায় ১৫ লাখ ভোটারের কথা বলছি। পেদ্রো সানচেজের সরকার বা সামগ্রিকভাবে বামপন্থীদের লক্ষ্য হবে সেই ভোটারদের সংগঠিত করা।’
আগাম নির্বাচন সানচেজের জন্য আবাসন, দুর্নীতি রোধ ও অভিবাসনসহ সামাজিক বিষয়ে মনোযোগ সরানোর একটি সুযোগ বলেও মত বিশেষজ্ঞদের।
লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিক্সের রাষ্ট্রবিজ্ঞানী লুইস বোনেল বলেন, গত এক বছর বা তার কিছু বেশি সময় ধরে স্পেনে যা ঘটছে তার দিকে তাকালে দেখা যায়, সরকারের জন্য পরিস্থিতি মূলত নেতিবাচকই ছিল। বিশেষ করে দুর্নীতি এবং সম্প্রতি সেউতাকে কেন্দ্র করে অভিবাসন সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে। তাই সরকারের মধ্যে এমন একটি ধারণা তৈরি হয়েছিল, পরিস্থিতির মোড় ঘোরানোর মতো কোনো পদক্ষেপ প্রয়োজন।
আবাসন সংকট নিয়ে স্পেনজুড়ে তীব্র বিক্ষোভের মুখে পার্লামেন্টে নিজের সমর্থন বাড়াতে সোমবার আগাম নির্বাচনের ঘোষণা দেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ২৯ নভেম্বর।


