বহুল প্রতীক্ষিত ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি আলোচনা হয়নি পাকিস্তানে। তবে স্থায়ী ও স্থিতিশীল শান্তি প্রতিষ্ঠায় ইরানের দাবিগুলো পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফকে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। শনিবার ইরান ও পাকিস্তানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে উচ্চ পর্যায়ের এক বৈঠকে এসব দাবি তুলে ধরা হয়।
বৈঠকের পর আব্বাস আরাঘচির নেতৃত্বাধীন ইরানি প্রতিনিধিদলটি পাকিস্তান ছেড়ে গেছে বলে জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ইরনা (আইআরএনএ)।
উল্লেখ্য, শুক্রবার রাতেই ইসলামাবাদে পৌঁছান আব্বাস আরাঘচি। মধ্যপ্রাচ্য সংকটের প্রেক্ষাপটে আঞ্চলিক এই সফরে পাকিস্তানের পাশাপাশি ওমান ও রাশিয়া সফর করারও কথা রয়েছে ইরানের এই প্রতিনিধিদলটির।
আজ শনিবার ইরান-পাকিস্তান উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে সংবাদমাধ্যক বিবিসি ও আল জাজিরা। তাঁদের প্রতিবেদন বলছে, যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে ইরানের তরফে তাঁদের দাবিগুলো পাকিস্তানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের কাছে তুলে ধরেছেন আব্বাস আরাঘচি।
এদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পাকিস্তান যাওয়ার খবর প্রকাশ হতে না হতেই জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্রও তাঁদের একটি প্রতিনিধিদল পাকিস্তানে পাঠাচ্ছে যেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার ও বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের থাকবেন বলে জানা গেছে। তবে ইতোমধ্যেই এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন ট্রাম্প।
উল্লেখ্য, পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি কোনো বৈঠকে বসার সম্ভাবনা যে নেই, তার ইঙ্গিত আগেই দিয়েছে তেহরান। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে বিদ্যমান মার্কিন নৌ অবরোধের প্রেক্ষিতে সরাসরি আলোচনায় বসতে আগ্রহ দেখায়নি ইরান।
আরাঘচি'র নেতৃত্বে ইরানের প্রতিনিধিদলটি এখন ওমান ও রাশিয়া সফর করবে। বোঝাই যাচ্ছে, ইরান মধ্যপ্রাচ্য সংকটের স্থায়ী সমাধানে আঞ্চলিক কূটনীতির পথকেই বেছে নিয়েছে। অন্যদিকে, মার্কিন প্রশাসনের 'এই গরম তো এই ঠাণ্ডা' সুরে যে কাজ হচ্ছে না, তা হয়তো বেশ বুঝতে পারছেন ট্রাম্প, জেডি ভ্যান্সসহ মার্কিন শীর্ষ নেতৃত্ব।



