ইরানে জানুয়ারিতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে দুই ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। বুধবার এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কথা জানায় দেশটির বিচার বিভাগ।
বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে জানা যায়, অর্থনৈতিক দুরবস্থার প্রতিবাদে ওই বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল। বিচার বিভাগের মিজান অনলাইন ওয়েবসাইট জানায়, আলী হেম্মাতি ও মাজিদ নিক-আন্দিশকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদে ‘জানুয়ারির দাঙ্গায়’ জড়িত থাকার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। সুপ্রিম কোর্ট সাজা বহাল করার পর বুধবার ভোরে তাদের ফাঁসি কার্যকর করা হয়।
ওয়েবসাইটটি আরও জানায়, ওই ঘটনায় চার নিরাপত্তাকর্মী নিহত হন। বিক্ষোভকারীরা দোকান, ব্যাংক, বাস ও বিভিন্ন স্থাপনে আগুন দিয়ে সরকারি সম্পদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করে। এমনকি গাছেও আগুন ধরিয়ে দেন।
ডিসেম্বরের শেষ দিকে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ার প্রতিবাদে বিক্ষোভ শুরু হয়। পরে তা দ্রুত সরকারবিরোধী ব্যাপক আন্দোলনে রূপ নেয়। ৮ ও ৯ জানুয়ারি এই বিক্ষোভ চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়।
ইরানি কর্তৃপক্ষ জানায়, ওই সহিংসতায় ৩ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। তারা এ সহিংসতার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের পরিকল্পিত ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডকে’ দায়ী করেছে। তবে আন্তর্জাতিক বেসরকারি সংস্থাগুলো বলছে, নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালিয়েছে।
ইরান হিউম্যান রাইটস ও টুগেদার এগেইনস্ট দ্য ডেথ পেনাল্টি নামের দুটি বেসরকারি সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ইরানে অন্তত ১ হাজার ৬৩৯ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। ১৯৮৯ সালের পর কোনো এক বছরে এটিই দেশটিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সর্বোচ্চ সংখ্যা এটি। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের তথ্য অনুযায়ী, চীনের পর সবচেয়ে বেশি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা দেশ ইরান।


