রাজধানীর সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে এআই-ভিত্তিক ট্রাফিক নজরদারি ও স্বয়ংক্রিয় মামলার ব্যবস্থা চালু হয়েছে। তবে, এ নিয়ে নতুন প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। এআই ক্যামেরায় মামলা ও জরিমানার কথা জানিয়ে মোবাইলে ভুয়া খুদে বার্তা পাঠাচ্ছে প্রতারক চক্র। তাদের ধরতে পুলিশের উদাসীনতা ও বিআরটিএ’র খামখেয়ালির অভিযোগ সাইবার বিশেষজ্ঞদের।
ব্যস্ত সড়কে লাল বাতি জ্বলার সাথে সাথে থমকে যাচ্ছে যানবাহন। এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে আইন ভঙ্গকারীদের নামে মামলা দেওয়া হচ্ছে। স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুঠোফোনে চলে যাচ্ছে বার্তা, অনলাইনেই দেওয়া যাচ্ছে জরিমানা।
তবে, এই সুযোগটিই কাজে লাগাচ্ছে অসাধু চক্র। ‘জরিমানা পরিশোধ–সংক্রান্ত চূড়ান্ত বিজ্ঞপ্তি’ শিরোনামের ভুয়া বার্তায় জরিমানা পরিশোধের সময়সীমা জানিয়ে লিংক পাঠাচ্ছে প্রতারকরা। অনেক চালকই না বুঝেই দিচ্ছেন জরিমানা, অনেকে প্রশ্ন তুলছেন দায়িত্বরতদের নিয়ে।
এক ভুক্তভোগী বলেন, ‘গত এক সপ্তাহ আমি বাইক ব্যবহারই করিনি। জুনের ১ তারিখে এসএমএস আসে এবং ওই দিনই জরিমানা দেওয়ার শেষ দিন বলা হয়। তারপর আমি ওয়েবসাইটা ভেরিফাই করলাম, দেখলাম যে হোমপেজটা অনেকটা বিআরটিএ এর মতো করেই।’
আরেক ভুক্তভোগী বলেন, ‘যাদের কাছে বিআরটিএর লাইসেন্স আছে তাদের কাছেই শুধু এই মেসেজটা গেছে। সে ক্ষেত্রে এইটার সাথে বিআরটিএ’র কেউ জড়িত আছে কিনা সেটাও একটা সন্দেহ আছে।’
প্রতারণা রুখতে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ বলছে, জরিমানার জন্য নির্দিষ্ট একটি নম্বর থেকেই বার্তা দেওয়া হবে।
ট্রাফিক বিভাগের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. আনিছুর রহমান বলেন, ‘আমাদের দুইটি নাম্বার দেওয়া আছে, ওই দুইটা নাম্বার থেকে আমরা বার্তা পাঠাব। বিভিন্ন বিদেশি নাম্বার থেকে শুরু করে, সামাজিক মাধ্যমে যেসমস্ত জিনিসগুলো চলে আসছে এগুলো শতভাগ মিথ্যা এবং বানোয়াট। আমরা সবাইকে বলতে চাই, আপনারা কেউ বিভ্রান্ত হবেন না।’
তবে সাইবার বিশ্লেষকেরা বলছেন ভিন্ন কথা। চক্রের সাথে জড়িতদের বের করতে ডিএমপির উদাসীনতার অভিযোগ তাদের। বিআরটিএ'র খামখেয়ালির অভিযোগও করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
সাইবার বিশেষজ্ঞ তানভীর হাসান জোহা বলেন, ‘যারা ট্যাক্স টোকেন নাম্বারগুলো হালনাগাদ করেন, সেই অপারেটর ইউজার পাসওয়ার্ড অন্য কোথাও দিয়েছে কিনা সেটা তদন্ত করাটা খুবই জরুরি। বিআরটিএ যদি কোনো প্রকার উদ্যোগ নেয়, ওই নাম্বারটি কোনো প্রকার সুযোগ নেয়, মাক্সিং করে সেটার নিয়ন্ত্রণ করা আমাদের গেটওয়েতে থাকা উচিত। আশা করি আমাদের সেই সক্ষমতা আছে। সে ক্ষেত্রে আমি অবশ্যই বলব এটা উদাসীনতা।’
ঢাকার বিভিন্ন মোড়ে ৭ মে পরীক্ষামূলকভাবে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার শুরু হয়। এরই মধ্যে মামলা হয়েছে ২ হাজারের বেশি।



