দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে রওশন এরশাদ, সাদ এরশাদ এবং অন্য একজনের জন্য মনোনয়ন ফরম তোলা হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতীয় পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু। আজ বুধবার রাজধানীর বনানীতে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি।
এ সময় জাতীয় পার্টির মহাসচিব বলেন, ‘গোলাম মোহাম্মদ কাদের রংপুর–৩ আসন থেকেই নির্বাচন করবেন। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের ছেলে সাদ এরশাদ অন্য আসন থেকে নির্বাচন করবেন। কোন আসন সেটা ঠিক হয়ে গেছে, আমরা পরে জানাবো।’
মনোনয়ন ফরম তোলা প্রসঙ্গে মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, ‘রওশন এরশাদ, তাঁর ছেলে সাদ এরশাদ এবং অন্য একজনের জন্য মনোনয়ন ফরম তোলা হয়েছে। তাঁরা আজকেই নিবে বলে আশা করা হচ্ছে।’
জাতীয় পার্টিতে কোনো ভাঙন নেই দাবি করে দলটির মহাসচির বলেন, ‘যারা দলের ভাঙন নিয়ে কথা বলছেন, তারা এ দলেরই সদস্য নয়। তাদের কথার কোনো ভিত্তি নেই।’
বিএনপির নির্বাচনে অংশগ্রহণ এবং নির্বাচনের তারিখ পেছানো প্রসঙ্গে চুন্নু আরও বলেন, ‘বিএনপি নির্বাচনে আসলে জাতীয় পার্টিও স্বাগত জানাবে। এতে যদি নির্বাচনের তারিখ পেছানো হয় সেটাতে পার্টির কোনো সমস্যা নেই।’
এর আগে, গত সোমবার ২৮৭ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করে জাতীয় পার্টি। এবার জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের দুটি আসন ঢাকা–১৭ এবং রংপুর–৩ থেকে দলটির মনোনয়ন পেয়েছেন চেয়ারম্যান জিএম কাদের। এরশাদের মৃত্যুর পর ২০১৯ সালের অক্টোবরে রংপুর–৩ আসনে হওয়া উপনির্বাচনে জয়ী হয়ে সংসদ সদস্য হয়েছিলেন তাঁর ছেলে রাহগির আলমাহি সাদ এরশাদ। ধারণা করা হয়েছিল, এবারও তিনি এই আসনে মনোনয়ন পাবেন।
জাতীয় পার্টিতে গৃহবিবাদ নতুন কিছু নয়। ২০১৯ সালে এরশাদের মৃত্যুর পর জাতীয় পার্টির নেতৃত্বে আসেন তাঁর ছোট ভাই জি এম কাদের। শুরু থেকেই এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে আসছিলেন রওশন। দুজনই নিজেদের দলের চেয়ারম্যান হিসেবে ঘোষণা করেন। পরে অবশ্য সমঝোতার মাধ্যমে জি এম কাদেরকে চেয়ারম্যান ও রওশন এরশাদকে বিরোধী দলীয় নেতা করা হয়।
এরপর ২০২২ সালে আবারও দলের এই গৃহবিবাদ প্রকাশ্যে আসে। সে সময় এই দুই পক্ষের দ্বন্দ্বের অন্যতম কারণ ছিল আওয়ামী লীগের সাথে জোটে থাকা-না থাকাকে কেন্দ্র করে। জি এম কাদেরপন্থীদের চাওয়া ছিল মহাজোট থেকে বের হয়ে বিএনপির সাথে বা আলাদা করে নির্বাচনে অংশ নেওয়া। অন্যদিকে রওশনপন্থীদের চাওয়া ছিল মহাজোটেই থেকে যাওয়া।
গত ১৫ নভেম্বর দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল। তফসিল অনুযায়ী ভোট হবে আগামী ৭ জানুয়ারি। এছাড়াও মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ৩০ নভেম্বর, মনোনয়নপত্র বাছাই ১ থেকে ৪ ডিসেম্বর। রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের ৬ থেকে ১৫ ডিসেম্বর। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ১৭ ডিসেম্বর আর প্রতীক বরাদ্দ ১৮ ডিসেম্বর। প্রচারণা শুরু হবে ১৮ ডিসেম্বর থেকে। চলবে ৫ জানুয়ারি সকাল ৮টা পর্যন্ত।



