গত ২৪ ঘণ্টায় অবরুদ্ধ গাজায় ৪৫০টিরও বেশি জায়গায় হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। এসব হামলায় তিনজন হামাস ‘সন্ত্রাসী’ ও একটি চালকবিহীন উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়েছে। তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদুলো এজেন্সি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানায়, তারা দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসের একটি ফিলিস্তিনি ক্যাম্পে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে একের পর এক অভিযান চালিয়েছে। এসব হামলার মাধ্যমে লুকিয়ে থাকা অসংখ্য হামাস যোদ্ধাকে নিমূল করা হয়েছে।
তবে ইসরায়েলি এসব দাবির ব্যাপারে গাজার স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাসের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। সাত দিনের যুদ্ধবিরতি শেষে গত ১ ডিসেম্বর থেকে গাজা উপত্যকাজুড়ে পূর্ণদ্যেমে সামরিক অভিযান শুরু করেছে ইসরায়েলি বাহিনী।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মতে, গত ৭ অক্টোবরের পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত ১৭ হাজার ১৭৭জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে ৪৬ হাজারেরও বেশি। অন্যদিকে ইসরায়েল দাবি করেছে, ৭ অক্টোবর হামাসের হামলায় ১ হাজার ২০০জন ইসরায়েলি নিহত হয়েছে।
এদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছে, গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েল-হামাস সংঘাত শুরুর পর গাজার ২১২টি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা হয়েছে। এতে উপত্যকার ৬০ শতাংশ স্বাস্থ্য অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে। প্রাণ হারিয়েছে ৫৬৫ জন এবং আহত হয়েছে ৭৩২ জন। এ অবস্থায় গাজার স্বাস্থ্যখাতের সুরক্ষা নিশ্চিতে পদক্ষেপ নিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
গতকাল শুক্রবার জাতিসংঘে উত্থাপিত গাজায় যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবটিতে ভেটো দিয়েছে আমেরিকা। গাজায় অবিলম্বে মানবিক যুদ্ধবিরতি ও জিম্মিদের নিঃশর্ত মুক্তির আহ্বান জানিয়ে প্রস্তাবটি উত্থাপন করেছিল জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য সংযুক্ত আরব আমিরাত। প্রস্তাবটির সহপৃষ্ঠপোষক ছিল অন্তত ৯৭টি দেশ।
নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্যের ১৩টি দেশ যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেয়। ভোটদানে বিরত ছিল যুক্তরাজ্য। শেষ পর্যন্ত আমেরিকা ভেটো দিলে প্রস্তাবটি আটকে যায়। নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী পাঁচ সদস্যের ভেটো একটি বিপক্ষে ভোট দিলে প্রস্তাব পাস করা যায় না।



