ইসরায়েলি আগ্রাসনে ঘরবাড়ি ছেড়ে আসা ফিলিস্তিনিরা ফেলে আসতে পারেনি প্রিয় পোষা প্রাণিকে। যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও পোষা প্রাণিদেরকে সঙ্গে এনেছেন অনেকেই। অসহায় প্রাণিগুলোরও বাঁচার অধিকার আছে, তাদের জীবনেরও মূল্য আছে বলে জানান বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিরা।
ইসরায়েলের হামলার মধ্যে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে গাজার উত্তরাঞ্চল ছেড়ে দক্ষিণে পালিয়ে এসেছেন কয়েক হাজার বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি। খাবার ও বাসস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যেও নিজেদের পোষা প্রাণিকে ফেলে আসেনি তারা।
দক্ষিণে আসতে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়েছে তাদের। প্রয়োজনীয় সামগ্রীগুলো সঙ্গে আনতে বহন করতে হয়েছে ভারী ব্যাগ। এর পরও এই বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের কেউ খাঁচাসহ পাখি, কেউ কাঁচের পাত্রে করে পোষা মাছ, আবার কেউ ভেড়ার পাল সঙ্গে নিয়ে এসেছেন।
বাস্তুচ্যুত এক ফিলিস্তিনি বলছেন, 'বিমান হামলা থেকে বাঁচতে খান ইউনিসে পালিয়ে এসেছি। কিন্তু এখানে খাবার
পাচ্ছি না। তাই দিনযাপন কঠিন হয়ে পড়েছে। পোষা ভেড়াগুলো আবর্জনা খায়, ওদের জন্য বার্লি খুঁজে পাইনি।'
আরেক ফিলিস্তিনি বলেন, 'ফিলিস্তিনিদের কাছে প্রত্যেকটা প্রাণের মূল্য রয়েছে। তাই ইসরায়েলের হামলার মধ্যে পোষা মাছকে মৃত্যুর মুখে ফেলে আসতে পারিনি। বাড়ি ছাড়ার সময় ওকেও সঙ্গে নিয়ে এসেছি।'
পোষা পাখিকে সঙ্গে নিয়ে আসা এক ফিলিস্তিনির ভাষ্য, 'পাখিরও প্রাণ আছে। আমরা ওকে ফেলে আসতে পারি না। ইসরায়েল আমাদের বাড়িতে বিমান হামলা চালিয়েছে। ও ভেতরে থাকলে মারা যেত।
মৃত্যু ঝুঁকি এবং অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখেও পোষা প্রাণির প্রতি ভালোবাসা কমেনি তাদের। অসহায় প্রাণিগুলোর জীবন বাঁচাতে সেগুলোকে নিজেদের সঙ্গেই রাখছেন বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিরা।
জাতিসংঘের তথ্যমতে, গাজায় ইসরায়েলের অভিযান শুরুর পর ৭ অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত ১৬ লাখের বেশি ফিলিস্তিনি অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হয়েছে। যা উপত্যকার ২৩ লাখ বাসিন্দার দুই-তৃতীয়াংশ।



