জীবন রক্ষায় ক্রমেই গাজাবাসীর ভিড় বাড়ছে রাফাহ সীমান্তে। প্রাণ বাঁচানোর জন্য নিরাপদ স্থানের পাশাপাশি বিশুদ্ধ পানিও প্রয়োজন। আশ্রয় নেওয়া মানুষের চাহিদার তুলনায় বিশুদ্ধ পানির সরবরাহ অনেক কম। জ্বালানির অভাবে দেখা দিয়েছে নিরাপদ পানির সঙ্কট।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্যা গার্ডিয়ান বলছে, সাত দিনের যুদ্ধবিরতির পর গাজায় আবারও জোরদার হয়েছে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলা। প্রাণ বাঁচাতে শরণার্থী শিবিরগুলোতে ছুটছে গাজাবাসী। উত্তর কিংবা দক্ষিণ গাজা অথবা খান ইউনিস, গাজাবাসীর জন্য কোনো জায়গাই যেন আর নিরাপদ নয়।
ভিডিও দেখুন:তাই জীবন রক্ষার তাগিদে ক্রমেই গাজাবাসীর ভিড় বাড়ছে রাফাহ সীমান্তে। প্রাণ বাঁচাতে নিরাপদ স্থানের পাশাপাশি ক্রমেই তীব্র হচ্ছে বিশুদ্ধ পানির চাহিদা। তবে রাফাহ সীমান্তে ধারণ ক্ষমতার চেয়ে বেশি মানুষ জড়ো হওয়ায় দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির সঙ্কট।
ছোট থেকে বড় সবাই ছুটছেন বিশুদ্ধ পানি সংরক্ষণে। লাইনে অপেক্ষা করতে হচ্ছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা।
বাস্তুচ্যুত গাজাবাসী আলি রায়হান বলেন, 'জীবন বাঁচাতে আমরা এখান থেকে ওখানে ছুটে শেষ পর্যন্ত রাফাহ সীমান্তে এসেছি। এখানেও বিশুদ্ধ পানির সঙ্কট। ১২ থেকে ১৩ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে এখান থেকে পানি নিতে হয়। এখানে ছোট বাচ্চারা বিশুদ্ধ পানির জন্য সারিতে দাঁড়ায়!'
তবে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের ক্ষেত্রে বাধা হয়েছে দাঁড়িয়েছে জ্বালানি সঙ্কট। পর্যাপ্ত জ্বালানি না থাকায় পানি বিশুদ্ধকরণে ঝামেলা পোহাতে হচ্ছে সেখানকার কর্মীদের।
প্রকৌশলী ওয়ালিদ আল-দাগমা বলেন, 'এখানকার পরিস্থিতি খুবই কঠিন। পানি বেশ লবণাক্ত। এই পানি বিশুদ্ধ করতে কাজ করে মাত্র একটি প্লান্ট। আর এখানে দেখা দিয়েছে জ্বালানির অভাব। পর্যাপ্ত জ্বালানি না পেলে, পানি বিশুদ্ধকরণের প্রক্রিয়া থেমে যাবে যে কোনো সময়।'
এদিকে বিশুদ্ধ পানির সরবরাহ বাড়াতে ব্যবহার করা হচ্ছে বিকল্প জ্বালানি। তবে শীত চলে আসায়, বিকল্প জ্বালানি হিসেবে সৌর বিদ্যুৎ কতটা কার্যকর হবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে প্রকৌশলীদের মধ্যে। তাদের শঙ্কা, পর্যাপ্ত জ্বালানির অভাবে যে কোনো সময় বন্ধ হয়ে যেতে পারে রাফাহ সীমান্তের একমাত্র পানি বিশুদ্ধকরণ প্লান্ট।


লেবাননের পরিণতি হবে গাজার মতো, হুমকি নেতানিয়াহুর
