
অসংখ্য জনপ্রিয় গানের গীতিকবি শেখ রানা। ২০১৯ সালে তাঁর কথায় প্রকাশ পেয়েছিল ব্যান্ড শহরতলীর গান ‘শহরতলীর আকাশ’। ব্যান্ডটির সঙ্গে এর মাধ্যমেই রানার প্রথম কলাবরেশন। তবে তখনই আরও কিছু গানের পরিকল্পনা শেয়ার করেছিলেন তাঁরা। এবার সেখান থেকেই সৃষ্টি হলো নতুন একটি গান, যা গেয়েছেন শহরতলীর ভোকালিস্ট মিশু খান। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মরণে রানার লেখা এই গানের শিরোনাম ‘এবার তাদের কথা হোক’। শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস (১৪ ডিসেম্বর) উপলক্ষে গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় প্রকাশ পেয়েছে এটি।
গানটি যেভাবে শেখ রানার ভাবনায় এসেছিল—তা নিয়ে এই গীতিকারের ভাষ্য, ‘প্রতি বছর ১৪ ডিসেম্বর বুদ্ধিজীবী দিবস এলেই একটা ছবি চোখে পড়ে। সাদা-কালো ছবিতে মুনীর চৌধুরী, গোবিন্দচন্দ্র দেব, সেলিনা পারভীন, ডা. ফজলে রাব্বীসহ ১৯ জন শহীদ বুদ্ধিজীবীর নির্বাক ছবি। ১৫/১৬ সময়কাল। ছবিটার দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতেই একদিন মনে হলো এই বুদ্ধিমান মানুষগুলো হেঁটে যাচ্ছেন, একসাথে। একটা সুররিয়াল রাজপথে। স্বপ্ন ভর্তি রাজপথ। প্রথম চার লাইন লেখা হলো। তারপর শব্দ একে একে নাজেল হতে লাগলো। আমি মুক্তিযুদ্ধকে দেখতে পেলাম। দ্রোহের আগুনে প্রতিবাদী মানুষ দেখতে পেলাম, একইসঙ্গে দেখলাম শান্ত কিন্তু শাণিত একদল কবিকে। যাঁরা জানে কবিতায় ঝড় তোলা সম্ভব।’
রানা জানালেন, গানটির এই লিরিক তাঁর ‘শব্দ পাখির দল’ কাব্যগ্রন্থেও ছিল। যোগ করে তিনি বললেন, ‘‘‘তাদের কথা হোক’ শুরু হয়েছিল শহীদ বুদ্ধিজীবিদের কথা ভেবে। ১৪ ডিসেম্বরকে শব্দে ধরার অভিপ্রায়ে। একইসাথে এই গানটা তাঁদের কথাও বলে, যাঁরা ৯ মাস প্রাণ বাজি রেখে হানাদার বাহিনীকে হটিয়ে আমাদের হাতে তুলে দিয়েছিল একটা লাল-সবুজ পতাকা। একটা স্বপ্ন ভর্তি রাজপথ।’
এদিকে, এই গান মিশু খানের ক্যারিয়ারে দ্বিতীয় একক গান। এর আগে ২০২১ সালে তাঁর কণ্ঠে প্রকাশ পেয়েছিল প্রথম একক ‘একা কথা’। হঠাৎ একক গান কেন—জানতে চাইলে ইনডিপেনডেন্ট ডিজিটালকে এই গায়ক বলেন, ‘ব্যান্ডের গানের বাইরেও কিছু গান আছে, যেগুলো সুর করা হয় কিন্তু মনে হয় না ব্যান্ডে দেওয়া যাবে। সেই গানগুলোর আসলে প্রাণ দেওয়া দরকার। এই উদ্দেশ্যেই আসলে এবারের গানটি করা। সামনে এমন আরও কিছু গান করার পরিকল্পনা রয়েছে।’
গানটির লিংক:
তবে ‘এবার তাদের কথা হোক’ গানটিতেও কাজ করেছেন শহরতলীর সদস্যরাই। মিশুর সুরে এতে কিবোর্ড বাজিয়েছেন সাদি মোহাম্মদ, ড্রামস ও বেস প্রোগ্রামিংয়ে ছিলেন মাহিবুল হাসান মাহিম, বাঁশি বাজিয়েছেন মামুনুর রশিদ। মিক্স-মাস্টারিং করেছেন তামজিদ খান ও মাহিবুল হাসান মাহিম। অ্যানিমেশন করেছেন সাদি মোহাম্মদ।
গানটি প্রসঙ্গে মিশু বললেন, ‘‘দীর্ঘ চার-পাঁচ বছর আগে এই লিরিকটা দিয়েছিলেন রানা ভাই। যখন তাঁর কথায় প্রথমবার ‘শহরতলীর আকাশ’ নামের গানটা আমরা করি, এর পরপরই। আমি সবসময় বলি—তিনি (শেখ রানা) আমাদের জীবন্ত কিংবদন্তি, তাঁর কথায় অনেক বিখ্যাত গান রয়েছে। তো এই গানটা নিয়ে প্রায় তিন বছর ধরেই ভাবছিলাম, কিন্তু সাহস পাচ্ছিলাম না। কারণ তাঁর গানের যে কথা-শব্দগুলো, সেগুলোকে তেমন আবেগ কিংবা প্রতিবাদের জায়গা থেকেই আসলে ট্রিটমেন্ট দেওয়া দরকার। তারপর গত তিন মাস আগে আবারও গানটা নিয়ে বসি, সুর করি। এটি মূলত শহীদ বুদ্ধিজীবীদের নিয়ে লেখা। সামগ্রিকভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের কথাও এসেছে।’’


আসাদ চৌধুরীর ‘বারবারা বিডলার’ কবিতাটি যেভাবে হলো গান
বুদ্ধিজীবী দিবসের নাটক ‘এক কাপ ঠাণ্ডা চা’
