নিমতলী, চুড়িহাট্ট, বনানীর পর এবার বেইলি রোড। আগুনে প্রাণহানি যেন প্রায় নিয়মিত ঘটনা। তথ্য বলছে, দেশে গড়ে দিনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ৭৭টি। এ অবস্থা থেকে মুক্তির কী উপায়, এ প্রশ্নের জবাবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফায়ার সার্ভিসসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন না হলে, প্রাণহানীর ঝুঁকি কমবে না।
বৃহস্পতিবার রাতে লাগা রাজধানীর বেইলি রোডের গ্রীন কোজি কটেজের আগুনের এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ৪৬। ফায়ার সার্ভিসের ১৩ ইউনিটের চেষ্টায় দুই ঘন্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও পুড়ে গেছে বাণিজ্যিক ভবনটি। ভয়াবহ এ অগ্নিকান্ডের ঘটনায় শোক জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধী দলীয় নেতা।
তবে বেইলি রোডের আগুনে এই মৃত্যুর মিছিল নতুন কিছু নয়। ২০১০ সালের ১৩ জুন ট্রান্সফর্মার বিস্ফোরণের আগুনে প্রায় ৩ ঘণ্টা ধরে পোড়ে পুরান ঢাকার নিমতলি। সরকারি হিসাবেই তাতে প্রাণ যায় ১১৭ জনের। পরে মৃত্যু হয় এক নারী ও শিশুর। রাসায়নিকের গুদাম থাকায় ভয়বহ রূপ নেয় সেই আগুন। শতচেষ্টায়ও সেখান থেকে পুরোপুরি সরানো যায়নি রাসায়নিকের মজুদ।
২০১৯ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি চকবাজারের চুড়ি হাট্টায় আবারও সেই একই ঘটনার পুরাবৃত্তি। সেই আগুন কেড়ে নয় ৭৮ জনের প্রাণ। পরে শিল্প মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি জানায়, প্রাইভেটকারের সিলিন্ডার থেকে লাগা আগুনে বিস্ফোরিত হয় পিকআপের গ্যাস সিলিন্ডার।
একই বছরে ২৮ মার্চ। এবার ঘটনাস্থল বনানীর এফআর টাওয়ার। ২২ তলা ওই ভবনের আট তলায় শুরু হয়ে সে আগুন ছড়ায় পুরো ভবনে। মৃত্যু হয় ২৬ জনের। প্রাণ বাঁচাতে লাফিয়ে পড়েও মৃত্যু হয় একজনের। আর এবার অগ্নিকুণ্ড হল রাজধানীর বেইলি রোড। এ অবস্থায় প্রশ্ন উঠেছে, এ অবস্থা থেকে মুক্তি মিলবে কোন পথে?
নগর পরিকল্পনাবিদ ইকবাল হাবিব বলেন, ‘আগামী ৩ মাসের মধ্যে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় যৌথভাবে ফায়ার সার্ভিসকে সাথে নিয়ে টাস্কফোর্স তৈরি করে প্রত্যেকটি ভবন, তার ব্যবহারবিধি অনুযায়ী যদি না হয়ে থাকে, কমপ্লায়েন্স যদি না থাকে, সেটি বন্ধ করে দেওয়া অথবা পরিবর্তন করে যথাযথ করার তিন মাসের একটি কর্মসূচি গ্রহণ করতে পারে।’
ফায়ার সার্ভিসের সাবেক মহাপরিচালক আহম্মদ আলী বলেন, ‘যারা বিল্ডিংয়ের ক্লিয়ারেন্সগুলো দেয়, রাজউক ও ফায়ার সার্ভিসকে আমি মনে করি দায়ত্বটা নিতে হবে। এখানে তাদের প্যানাল্টির আওতায় নিয়ে আসতে হবে। আমরা যতক্ষন পর্যন্ত এদের সরাসরি দায়বদ্ধতায় নিয়ে আসতে পারব ততদিন এ ধরনের দূর্ঘটনা আরো ঘটতে পারে।’
বিশেষজ্ঞরা আরো বলছেন, জনঘনত্ব বাড়ার পাশাপাশি রাজধানীসহ সারাদেশে ভবন নির্মাণে অগ্নিনিরাপত্তার বিশদ পরিকল্পনা ও নিয়মিত তদারকি না করা হলে আগুনের ঝুঁকি কাটবে না।


বেইলি রোডের আগুনে পুড়ল দুই বুয়েট শিক্ষার্থীর স্বপ্ন
হারিয়ে গেল যেসব প্রাণ
