ভারতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে লোকসভা নির্বাচন। সাত দফা নির্বাচনে প্রথম দফা শুক্রবার অনুষ্ঠিত হলো। চলছে নির্বাচনী প্রচার। এর মধ্যেই রোববার রাজস্থানে এক নির্বাচনী জনসভায় কংগ্রেসের বিরুদ্ধে কথা বলতে গিয়ে বিতর্কে জড়িয়ে পড়লেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন বলছে, রাজস্থানের একটি এলাকায় জনসভায় মোদি সবাইকে বলেন কংগ্রেসকে ভোট না দিতে। এ সময় তিনি বলেন, ‘কংগ্রেসকে ভোট দিয়ে ক্ষমতায় আনবেন না। এদের ক্ষমতায় আনলে তারা আপনার সম্পদ নিয়ে অণুপ্রবেশকারীদের মাঝে বণ্টন করে দেবেন। আপনার কঠোর পরিশ্রমের সম্পদ অণুপ্রবেশকারীদের দিয়ে দিক, সেটা কি আপনি চান? আপনি কি এটা মেনে নেবেন?’
সরাসরি কোনো সম্প্রদায়ের কথা উল্লেখ না করলেও নরেন্দ্র মোদি মুসলিম সম্প্রদায়কেই ইঙ্গিত করেছেন বলে অভিযোগ বিরোধীদের। এমনকি এ কথা বলার আগে তিনি মুসলিম সম্প্রদায়কে টেনে আনেন। তিনি বলেন, ‘ক্ষমতায় থাকার সময় তারা (কংগ্রেস) বলেছিল, সম্পদে প্রথম অধিকার মুসলমানদের। তারা আপনাদের সবার সম্পদ নিয়ে তাদেরকে দিয়ে দেবে, যাদের বেশি সন্তান। অণুপ্রবেশকারীদের বণ্টন করে দিয়ে দেবে এসব সম্পদ।’
ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) বিরুদ্ধে হিন্দুত্ববাদী রাষ্ট্র কায়েমের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই। এ ছাড়া দলটির নেতারা ইসলামবিদ্বেষী মন্তব্য করেন বলেও অভিযোগ বিরোধীদের। এবার মোদির এই মন্তব্য নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছে কিনা, তা তদন্ত করে দেখতে নির্বাচন কমিশনকে বলেছে বিরোধী দলগুলো।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকা বলছে, কংগ্রেসের দাবি, লোকসভা ভোটের প্রচারে এই প্রথম সরাসরি সংখ্যালঘুদের আক্রমণ করলেন মোদি। হতাশা থেকেই মোদি এ পথে এগিয়েছেন বলে দাবি তাদের। বিরোধীদের মতে, নির্বাচন কমিশন আর জীবিত নেই। তা আরও দুর্ভাগ্যজনক।
রাজস্থানের ওই জনসভায় মোদি বলেন, ‘কংগ্রেসের ইশতেহারেই বলা হচ্ছে যে মা-বোনদের স্বর্ণের হিসাব করা হবে। তারপর সেই সম্পদ বণ্টন করা হবে তাদের মধ্যে, যাদের দেশের সম্পত্তিতে সবচেয়ে আগে অধিকার বলে মনমোহন সিংয়ের সরকার জানিয়েছিল। শহুরে নকশালদের এই ভাবনা মা-বোনদের মঙ্গলসূত্রকে পর্যন্ত ছাড়বে না।’


ক্ষমতার পালা বদলে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে কি পরিবর্তন আসবে?
মোদি–আমির–রণবীরের এই ভিডিওগুলো কি ভূতে বানাচ্ছে?
