চট্টগ্রামে উপকূলের জাহাজ ভাঙা শিল্প দেশের অর্থনীতিতে নানা খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও ঘনঘন দুর্ঘটনা, প্রাণহানী আর পরিবেশ বিপর্যয়ের বিষয়টি নিয়ে চিন্তিত খাত সংশ্লিষ্টরা। তারা এখন হিসাব কষছেন জাহাজ ভাঙায় লাভ হচ্ছে বেশি? নাকি ক্ষতিই বাড়ছে দিনে দিনে। অথচ দেশি ও আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে চললে জাহাজ ভাঙা শিল্প হতে পারে সম্ভবনাময় খাত।
শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে পুরোনো জাহাজের শেষযাত্রা, শুধু লোহা সংগ্রহের গল্প নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বিশাল কর্মসংস্থান, ইস্পাত শিল্পের বিকাশ এবং সরকারের বড় রাজস্ব আদায়। পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ আসবাব, তৈজসপত্র, বৈদ্যুতিক তার, তামা-পিতল, মোটরসহ সহস্রাধিক পণ্যের যোগান মেলে এই খাত থেকে। প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে জড়িত প্রায় দুই লাখ মানুষ।
গেল বছর বিশ্বের ৩২১টি পরিত্যক্ত জাহাজের মধ্যে চট্টগ্রামের ইয়ার্ডে ভাঙ্গা হয়েছে ৮৮টি স্ক্র্যাপ জাহাজ।
বাংলাদেশ শিপ ব্রেকিং ও রিসাইক্লিং এসোসিয়েশনের তথ্য, এখানে পুরোনো জাহাজ কেটে লোহা-ইস্পাত, যন্ত্রাংশসহ বছরে ১ কোটি মেট্রিক টনের বেশি পণ্য রিসাইক্লিং হচ্ছে। তবে ঝুঁকি মোকাবিলার প্রস্তুতি আর তদারকির অভাবে জাহাজ ভাঙার বাড়ছে শ্রমিকের হতাহতের সংখ্যা। এ বছরই বিভিন্ন ইয়ার্ডে কর্মরত অন্তত ১৯ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে, যা গত ৮ বছরের মধ্যে সবোর্চ্চ।
এ বিষয়ে জাহাজভাঙা শিল্প গবেষক মোহাম্মদ আলী শাহীন বলেন, এখানে শ্রমিকদের জন্য ট্রেইনিং সেন্টার লাগবে। সঙ্গে লাগবে নিরাপত্তার সব সরঞ্জাম। এটি প্রতিনিয়ত দেখভাল করতে হবে। নজরদারি লাগবে। তদারকি করতে হবে।
তবে মালিকপক্ষের নজর শিল্পরক্ষার দিকে। তারা বলছেন দেশের অর্থনীতিতে বছরে গড়ে ১৫ হাজার কোটি টাকার ভূমিকা রাখা এই শিল্প বাঁচাতে দরকার সরকারি নীতি সহায়তা।
বিএসবিআরএ–এর সভাপতি মোহাম্মদ মহসিন বলেন, আমাদের ওপর অনেক বাধা–বিপত্তি আসছে। আবার আমাদের অনেক কাজ সহজ করার চেষ্টাও চলছে সরকারের দিক থেকে। আমরা পরিবেশেল দিক মাথায় রেখে জাঙহ
ডলার সংকট, বৈশ্বিক অস্থিরতায় জাহাজ ভাঙা শিল্পে বিনিয়োগ ও আয় কমেছে। ২০২১ সালে ৩০ লাখ মেট্রিক টন লোহার ভাঙার বিপরীতে, ২০২৫ সালে তা নেমে আসে ১০ লাখ টনে।



