ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং বিরোধীদল কংগ্রেসের নেতা রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে নোটিশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। সোমবার বেলা ১১টার মধ্যে বিজেপি ও কংগ্রেসের কাছ থেকে কমিশন জবাব চেয়েছে।
তবে নোটিশে এই দুই হেভিওয়েট প্রার্থীর নাম উল্লেখ করেনি ভারতের নির্বাচন কমিশন। আর মোদি প্রথম কোনো ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী যিনি আচরণ বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে নির্বাচন কমিশনের নোটিশ পেলেন।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, মোদি ও রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে ঘৃণাভাষণ ও বিভাজনমূলক মন্তব্যের অভিযোগ জমা পড়েছিল কমিশনের কাছে। মোদির বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছিল কংগ্রেস, সিপিআই ও সিপিআই (এমএল)। আর রাহুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)।
এতেই সাড়া দিয়ে বৃহস্পতিবার দুই দলকে নোটিশ দিয়েছে কমিশন। তবে এ নোটিশ পাঠানো হয়েছে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নড্ডা এবং কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গেকে। এ নোটিশে মোদি কিংবা রাহুল গান্ধী কারও নামই উল্লেখ নেই।
দুই পাতার এ নোটিশে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, তারকা প্রচারকদের কাছ থেকে উচ্চমানের বক্তৃতা আশা করা হয়, কিন্ত অনেক সময় নির্বাচনের উত্তাপে তারা নিম্নস্তরে নেমে আসে। এক্ষেত্রে বিজেপির জেপি নাড্ডা ও কংগ্রেসের মল্লিকার্জুন খাড়গেকে তাদের তারকা প্রচারকদের আচরণ ও মন্তব্যে রাশ টানতে বলা হয়েছে।
রাজস্থানের বাঁশওয়ারায় সম্প্রতি বিতর্কিত মন্তব্য করছিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। কংগ্রেস ক্ষমতায় এলে মা-বোনদের সোনাদানা, গলার মঙ্গলসূত্র ছিনিয়ে নিয়ে বেশি বেশি সন্তান জন্ম দেওয়া মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে বিলিয়ে দেবে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
কেবল তাই নয়, দেশের সম্পদের ওপর মুসলিমদের অগ্রাধিকার দেওয়ার পক্ষপাতী কংগ্রেস, এমন দাবি করেন মোদি। অভিযোগ করার সময় মুসলমানদের ‘অনুপ্রবেশকারী’ও বলেন তিনি।
ওদিকে, মোদির দল বিজেপির পক্ষ থেকে নির্বাচর কমিশনে অভিযোগ জানানো হয় যে, কেরালার কোট্টায়াম বা তামিলনাড়ুর কোয়েম্বাটুরের জনসভায় কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী যে ভাষণ দিয়েছেন, তা প্রধানমন্ত্রীর জন্য সম্মানহানিকর এবং নির্বাচনের আদর্শ আচরণবিধি পরিপন্থি।
রাহুল গান্ধী তাঁর ভাষণে বলেছিলেন, ‘আমি অবাক হয়ে যাই যখন প্রধানমন্ত্রীকে বক্তৃতা দিতে শুনি, যেখানে তিনি বলেন এক জাতি, এক দেশ, এক ভাষা, এক নেতা এবং এক ধর্ম। আপনি কীভাবে বলতে পারেন তামিলের লোকেরা তামিল বলতে পারবে না, কেরালার লোকেরা মালয়ালম ভাষায় কথা বলতে পারবে না। প্রতিটি ভারতীয় ভাষা অন্য যে কোনও ভাষার মতোই গুরুত্বপূর্ণ। বিজেপি ভাষা, স্থান, জাতপাত ও ধর্ম দিয়ে এটা করে। যখনই তারা সুযোগ পায়, তখনই দেশকে বিভক্ত করে।’
ভারতের লোকসভা নির্বাচনের সাতদফা ভোটের দ্বিতীয়টি চলছে। আজ শুক্রবার স্থানীয় সময় সকাল ৭টা থেকে এ ভোট শুরু হয়। চলবে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। ভারতের এবারের লোকসভা নির্বাচন চলবে প্রায় দুই মাস ধরে। ভোটগ্রহণ শেষ হবে ১ জুন। ৪ জুন ভোটের ফল ঘোষণা করা হবে।



