সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজধানীর শাহবাগ এলাকা। পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা শাহবাগ অবরোধ করেছে।
অন্যদিকে, কুমিল্লা ও চট্টগ্রামে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়েছে শিক্ষার্থীরা। এ সময় কয়েকজন আহত হয়েছে।
শাহবাগ থেকে ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক নুরে আলম জানান, বিকেল ৫টার দিকে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শাহবাগের দিকে অগ্রসর হয়। এ সময় শাহবাগ এলাকায় আগে থেকেই অবস্থান নিয়েছিলেন বিপুল পুলিশ সদস্য। শিক্ষার্থীরা বলছে, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন থেকে সরবে না।
নুরে আলম বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা আগেই ঘোষণা দিয়েছিলেন আজকের কর্মসূচি সংক্ষিপ্ত হবে। অন্যান্য দিন যেমন রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অবরোধ করা হয়, আজ শুধু শাহবাগ মোড়েই তারা অবস্থান নেবেন। শিক্ষার্থীরা শাহবাগের দিকে অগ্রসর হলে পুলিশের ব্যারিকেডের মুখে পড়েন। এ সময় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ব্যারিকেড ভেঙে সড়কে চলে আসেন। পুলিশ সদস্যদের শিক্ষার্থীদের নিবৃত করার চেষ্টা করতে দেখা যায়।’
শিক্ষার্থীদের অবস্থানের কারণে শাহবাগ এলাকায় যান চলাচল বন্ধ আছে।
এর আগে একই দাবিতে বিকেল সোয়া ৩টায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সমাবেশ করতে গেলে পুলিশের বাধার মুখে পড়ে। এ সময় শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ অন্তত ১০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এতে অন্তত ৭ জন আহত হন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কাজী ওমর সিদ্দিকী বলেন, 'আহত দুজনকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে।'
অন্যদিকে, চট্টগ্রামের টাইগার পাস মোড়েও পুলিশের সাথে কোটা আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ হয়। এ সময় পুলিশ শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জ করে। তারা দাবি করেন, কয়েক জন শিক্ষার্থীকে আটক করেছে পুলিশ। এ ছাড়া পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে ঢাকা–আরিচা মহাসড়ক অরবোধ করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে গত কয়েকদিন ধরেই রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন শহরে সড়ক আটকে বিক্ষোভ করছে শিক্ষার্থীরা। তাঁদের অবরোধে চরম ভোগান্তিতে পোহাচ্ছে সাধারণ মানুষ।
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে ২০১৮ সালের ৪ অক্টোবর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিধি-১ শাখা নবম গ্রেড এবং ১০ম থেকে ১৩তম গ্রেড পর্যন্ত সরাসরি নিয়োগে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিল করে একটি পরিপত্র জারি করা করে। এতে নারী কোটা ১০ শতাংশ, মুক্তিযোদ্ধা কোটা ৩০ শতাংশ এবং ১০ শতাংশ জেলা কোটা বাতিল বলে ঘোষণা করা হয়।
পরে ওই পরিপত্র চ্যালেঞ্জ করে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও প্রজন্ম কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের সভাপতি অহিদুল ইসলাম তুষারসহ সাতজন হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করে। ওই রিটের শুনানি শেষে গত ৫ জুন সরকারের জারি করা পরিপত্র অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেয় হাইকোর্ট। এতে সরকারি চাকরিতে আবারও কোটা ফিরে আসে।
বিষয়টি আপিলে গেলে গত ৯ জুন হাইকোর্টের রায় বহাল রেখে বিষয়টি আপিল বিভাগের বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠান চেম্বার বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম। ৪ জুলাই আপিল বেঞ্চ জানায়, হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর মামলাটির শুনানি শুরু হবে।
বৃহস্পতিবার আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায়ের ওপর এক মাসের স্থগিতাদেশ দেন। তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা জানায়, ঝুলন্ত কোনো সিদ্ধান্ত তাঁরা মানবে না। একই সঙ্গে বৃহস্পতিবার বিকেলে আবারও 'ব্লকেড' কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
এরমধ্যে বৃহস্পতিবার শিক্ষার্থীদের সড়ক ছেড়ে নিজ নিজ ক্যাম্পাসে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান। একই সঙ্গে জনদুর্ভোগ তৈরি হলে আন্দোলনকারীদের বিষয়ে কঠোর হওয়ার ইঙ্গিতও দেন তিনি।


ব্লকেড কর্মসূচির নামে কেউ রাস্তা বন্ধ করলেই ব্যবস্থা: ডিএমপি
কুমিল্লায় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, আহত ৭
কোটা আন্দোলনকারীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরতে বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী 
