কমলা কী পারবেন, নাকি নিজ দলেই হারবেন?

আপডেট : ২৫ জুলাই ২০২৪, ০৯:১৩ এএম

শুরুটা করেন বারাক ওবামা। ২০০৮ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জিতে আমেরিকার প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট হন তিনি। নাম লেখান ইতিহাসের পাতায়। এরপর থেকে মার্কিন রাজনীতিতে বৈচিত্র নিয়ে আসছে তাঁর দল ডেমোক্রেটিক পার্টি। আর এই ধারার একটা টার্মও দেওয়া হয়েছে, ‘ওবামা কলিশন’। এর সর্বশেষ আলোচিত মুখ হলেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস, যার নজর এখন মার্কিন গদিতে।

মার্কিন রাজনীতিতে প্রোগ্রেসিভ মুভমেন্টের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে গেছে ডেমোক্র্যাটরা। ২০২০ সালের নির্বাচনের সময় জো বাইডেনের সঙ্গী হিসেবে বেছে নেওয়া হয় এই কমলা হ্যারিসকে। নির্বাচনে জেতার পর ভাইস প্রেসিডেন্ট হন তিনি। এর মধ্য দিয়ে আমেরিকার নারী নেতৃত্বের আরেক ধাপ পার করে দলটি। আর কমলা হ্যারিস হন অশ্বেতাঙ্গ, নারী, ভারতীয় বংশোদ্ভুত মানুষদের প্রতিনিধি।

এই ধারা বজায় রাখার কারণে রাজনীতির মাঠে ডেমোক্র্যাটরা রিপাবলিকানদের চেয়ে বেশ এগিয়ে রয়েছে বলেই মনে করা হয়। ২০১৬ সালে নির্বাচনের আগে এমন কথাই বলতেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। ওই সময় রিপাবলিকান প্রার্থী ছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিশ্লেষকদের ভবিষ্যদ্বাণী ছিল, আর কখনোই হয়তো আমেরিকার ক্ষমতায় আসতে পারবে না রিপাবলিকানরা। ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন জিতবেন বলেই আভাস ছিল। 

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন বলছে, ডেমোক্র্যাটদের নিয়ে এমন আত্মবিশ্বাসী কথাবার্তা শোনা যেত মূলত প্রার্থী ও রাজনৈতিক নেতা বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের স্বতন্ত্র কার্যক্রমের কারণে। এই ধারা দলটি আরও বজায় রাখবে বলেই আভাস দিয়েছিলেন বিশ্লেষকেরা। কোনো কোনো বিশ্লেষক তো এমনও বলেছিলেন, আমেরিকার ভবিষ্যৎ রাজনীতি থাকবে প্রথাগত গড়ানার বাইরে থাকা অশ্বেতাঙ্গ নেতাদের হাতে। 

তবে, পাশার দান উল্টে যেতে বেশিদিন সময় লাগেনি। ২০১৬ সালের নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে হেরে যান হিলারি। প্রোগ্রেসিভ মুভমেন্ট নামের ধারায় নারীকে বেছে নেওয়াই হয়তো কাল হয়েছিল ডেমোক্র্যাটদের। যদিও এই ধারণা পুরোপুরি সত্য নাও হতে পারে। মার্কিন ভোটারদের মনোভাব বদলাতে বেশি সময় লাগে না। এর প্রভাব দেখা যায় ২০২০ সালের নির্বাচনেও।

২০২০ সালে নির্বাচনে হেরে যান ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওই সময় শ্বেতাঙ্গ জো বাইডেনকে বেছে নিয়েছিল ডেমোক্র্যাটরা। তবে, মুখ থুবড়ে পড়ে প্রোগ্রেসিভ মুভমেন্ট। ‘ওবামা কলিশন’ ঠিক রাখতেই হয়তো কমলা হ্যারিসকে বেছে নেওয়া হয় ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে। আগামী ৫ নভেম্বরের নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হিসেবে না লড়ার ঘোষণা দেন জো বাইডেন। এরপর এই অশ্বেতাঙ্গ, নারী, ভারতীয় বংশোদ্ভুত কমলা হ্যারিসই ডেমোক্র্যাটদের ‘অটো চয়েস’ হয়ে উঠেন।

কমলা হ্যারিসকে নিয়ে এরই মধ্যে শুরু হয়েছে আলোচনা। তবে, প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হতেও তাঁকে দলে বেশ চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে।

লস অ্যাঞ্জেলসের রাজনীতিতে কমলা হ্যারিস যখন প্রথম আলোচনায় আসেন, তখন থেকেই তাঁকে অনেকে বারাক ওবামার সঙ্গে তুলনা করতে থাকেন। এর অন্যতম কারণ তাঁর প্রোগ্রেসিভ মুভমেন্ট। এ ছাড়া তিনি বারাক ওবামার মতোই অশ্বেতাঙ্গ। এর বাইরে কমলা একজন নারী ও ভারতীয় বংশোদ্ভুত। 

বার্তা সংস্থা এএফপি বলছে, কমলা হ্যারিসকে বারাক ওবামার সঙ্গে তুলনা করার আরও একটি বড় কারণ, তিনি বক্তৃতা দেওয়ায় বেশ পটু। রাজনীতির মাঠও ভালো বোঝেন। পশ্চিমা নেতারা কমলা হ্যারিসকে বেশ সমীহ করতেন, যা এখনো রয়েছে। 

তবে, রাজনীতিতে কমলা হ্যারিস কিন্তু মধ্যম পন্থাই অবলম্বন করছেন। প্রোগ্রেসিভ মুভমেন্টের দিকে তাঁকে যেমন হাঁটতে দেখা যায় না। বরং মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের মতোই রাজনীতির মাঠ সাজান তিনি। প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হিসেবে তাঁকে বেছে নেওয়া হলে এই এক কারণেই বেশ বিপাকে পড়ে যেতে পারেন কমলা। এ জন্য এই ধারা থেকে বের হয়ে নিজেকে উন্মুক্ত করাই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ, যা তাঁর মতো নেতার জন্য বেশ কঠিন। বিশেষ করে যখন তিনি জো বাইডেনের পর ‘অটো চয়েস’ হয়ে গেছেন। তবে, তাঁকে হয়তো একটা দিকই বেছে নিতে হতে পারে। মার্কিন ভোটারদের মনোভার দ্রুত পরিবর্তন হয়। সেটা ভেবেই নিতে হবে সিদ্ধান্ত। 

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন বলছে, সময় যত গিয়েছে জো বাইডেনের মতো কমলা হ্যারিসের জনপ্রিয়তা তত কমেছে। এমনকি ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে তাঁর পারফরমেন্সও বেশ কয়েকবার প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। পরিস্থিতি এমন হয়ে দাঁড়িয়েছে, হাতে আরও সময় থাকলে ৫ নভেম্বরের নির্বাচনে হয়তো কমলাকে রেখে অন্য কাউকে বেছে নিতো ডেমোক্র্যাটরা।

দলীয় এসব বাধা কেটে গেলেও ডোনাল্ড ট্রাম্পকে টেক্কা দেওয়া হবে কমলার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এমন এক সময়ে এই নেতার মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন কমলা, যখন তিনি কানে গুলির পর ‘জাতীয় বীরে’ পরিণত হয়েছেন। হু হু করে বাড়ছে তাঁর দলে বিনিয়োগ। পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সমর্থকও।   

আগামী ১৯ আগস্ট শিকাগোয় অনুষ্ঠেয় ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে জানা যাবে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীর নাম। সেক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও সাংগঠনিক কাঠামো মেনে চলার ঘোষণা দিয়েছে দলটি। কমলা হ্যারিস ছাড়াও ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিসেবে উঠে আসছে গ্রেচেন হুইটমান, গেভিন নিওসোম, পিট বুটেজেজের নাম। এদিকে, দলীয় মনোনয়ন পেতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়াইয়ের কথা ভাবছেন সিনেটর জো মানচিন।

এরই মধ্যে অনেক গভর্নর এবং বিল ও হিলারি ক্লিনটনসহ দলের নেতাদের সমর্থন পেয়েছেন কমলা হ্যারিস। বাইডেনের প্রতি অনাস্থা থাকলেও কমলা হ্যারিসের ওপর আস্থা রাখছেন অর্থদাতারাও। বিবিসির তথ্যমতে, নির্বাচনি তহবিলে একদিনেই ৮১ মিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করেছে কমলা হ্যারিসের টিম।

বাইডেন সরে দাঁড়ানোয় ডেমোক্র্যাট শিবিরে সংশয় কেটেছে বলে মনে করেন ডেলাওয়ার স্টেট ইউনিভার্সিটির রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক ডোনা প্যাটারসন। বাইডেনের সমর্থন থাকায় কমলা হ্যারিসই ডেমোক্র্যাটদের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হচ্ছেন বলেও মনে করেন তিনি। 

সিএনএন বলছে, আগামী নভেম্বরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে টক্কর দেবেন কমলা হ্যারিস। তবে পেনসিলভানিয়া, মিশিগান ও মিনেসোটার মতো ব্যাটলগ্রাউন্ডে জয় কমলা হ্যারিসের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে বলে মত বিশ্লেষকদের।

জো বাইডেন সরে যাওয়ায় কমলা হ্যারিসের সামনে সুযোগ এল মার্কিন প্রেসিডেন্ট হওয়ায়। তবে, একের পর এক চ্যালেঞ্জ তাঁর সামনে। সেসব চ্যালেঞ্জ উতরে কমলা কি ‘কামাল’ দেখাতে পারবেন? সেই প্রশ্নের উত্তর সময়ই দেবে।

জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে যোগদান শেষে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক থেকে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জাতিসংঘে এটাই ছিল তাঁর প্রথম সফর।
ইরানে আবার হামলা হলে বদলে যেতে পারে পুরো যুদ্ধের হিসাব! কারণ, এবার শুধু পাল্টা হামলার হুমকি নয়—ইরান বলছে, এবার এমন অস্ত্র ব্যবহার করা হবে, যা এখনো প্রকাশ্যেই আনা হয়নি। ইরানের বিপ্লবী গার্ডের...
কমান্ডো প্রস্তুত। আকাশে সামরিক বিমানও প্রস্তুত। আর কিছুক্ষণ পরই হয়তো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চীনের যুদ্ধ বেঁধে যেতে পারতো। ঠিক সেই মুহূর্তে জানা গেল, যে তথ্যের ভিত্তিতে যুদ্ধের আয়োজন– তার সবই ভুল। দুই...
ভারতের জন্য আবারও বড় অর্থনৈতিক চাপের খবর! রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা বন্ধ না করলে ভারতের পণ্যে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক বসানোর রাস্তা খুলে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরই মধ্যে...
বাতাসে আদ্রতা বেড়েছে স্বাভাবিকের চেয়ে দশ ভাগ। দিন ও রাতের তাপমাত্রা এক থেকে তিন ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়তি। তাই অক্টোবরে এবার রাতে অসহনীয় গরম অনুভূত হচ্ছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, নভেম্বরের শেষে শীত শুরু...
সাপ্তাহিক ছুটির দিন হলেও আজ খোলা থাকছে সরকারি দপ্তরের পাশাপাশি ব্যাংক। একই সঙ্গে স্বাভাবিক থাকছে শেয়ারবাজারের লেনদেন। দুর্গাপূজার ছুটি সমন্বয়ের কারণে এ পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার।
শারদীয় দুর্গোৎসবের মহাসপ্তমী আজ। এ বছর পঞ্জিকা অনুযায়ী দুই দিন তিথি থাকায় আগামীকালও উদযাপিত হবে মহাসপ্তমী। সপ্তমী পূজার সবচেয়ে প্রধান এবং প্রথম আচার অনুযায়ী সকালে শাস্ত্রীয় বিধি অনুসারে নবপত্রিকা...
যারা একসময় হরতাল অবরোধ দিয়ে দেশকে অচল করে দেওয়া হবে বলেছিল, আজকের বিরোধী দল তাদেরই সঙ্গী বলে মন্তব্য করেছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। শুক্রবার রাতে...
লোডিং...

এলাকার খবর