অভিমত

নারীর প্রতি সহিংসতা কেন কমছে না?

আপডেট : ২৪ আগস্ট ২০২৪, ০৩:১৪ পিএম

আজ ‘ইয়াসমিন হত্যা দিবস’।  ১৯৯৫ সালের ২৪ আগস্ট দিনাজপুরে কিশোরী ইয়াসমিনকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। আজ থেকে ২৯ বছর আগে এই ঘটনা ঘটেছিল। সেদিন পুলিশবাহিনীর কিছু সদস্য এই অপরাধ কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন।

ইয়াসমিন ২৩ অগাস্ট (দিবাগত রাত) ঢাকা থেকে দিনাজপুরের উদ্দেশ্যে বাসে উঠেছিলেন। তাঁর গন্তব্যস্থল ছিল দিনাজপুরের দশমাইল মোড়। গন্তব্যস্থলে পৌঁছে তিনি অপেক্ষা করছিলেন আরেকটি বাসের জন্য। এক পর্যায়ে সেখানে টহল পুলিশের একটি ভ্যান উপস্থিত হয়। পুলিশের সদস্যরা তাকে গন্তব্যস্থলে পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু পথের মধ্যে পুলিশ সদস্যরা ইয়াসমিনকে ধর্ষণ করে এবং পরবর্তীতে তাকে হত্যা করে পালিয়ে যায়। পরের দিন সকালে গোবিন্দপুর নামক স্থানে পাওয়া যায় ইয়াসমিনের মৃতদেহ।

ইয়াসমিনের এই ঘটনাকে স্মরণীয় করতেই প্রতি বছর ২৪ আগস্ট দিনটি ‘নারী নির্যাতন ও প্রতিরোধ দিবস’ হিসেবে পালন করা হয়। তবে দিনাজপুরের মানুষ এই দিনটি ‘ইয়াসমিন হত্যা দিবস’ হিসেবেই পালন করে থাকে।

এই ঘটনা ২৯ বছরের আগের। কিন্তু এই ২৯ বছরে কি দেশে নারীর প্রতি সহিংসতা কমেছে? না, নারী নির্যাতনের মাত্রা মোটেও কমেনি। ইয়াসমিনের মতো অনেক নারী ধর্ষণের শিকার হচ্ছেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ হয়তো ধর্ষণের পর মারাও যাচ্ছেন। একমাত্র ভুক্তভোগীই বুঝতে পারেন, কতই না দুর্বিসহ জীবন তাঁকে বয়ে চলতে হয়। এক পর্যায়ে মানসিক ট্রমা তাঁর জীবনের সঙ্গী হয়। এই ট্রমা থেকে উত্তরণের জন্য বিশেষজ্ঞ বা মনোবিদদের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

 ১৯৯৫ সালে দিনাজপুরে ইয়াসমিনের সঙ্গে এই ঘটনা ঘটেছিল। সে অনেক বছর আগের কথা হলেও সেদিন ধর্ষণের মতো অপরাধে যেভাবে মানুষ জড়িত ছিলেন, ঠিক একইভাবে দেশ ও দেশের বাইরের আজও কিছু মানুষ এই ধরণের অপরাধকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত আছেন। কোনো নিয়মকানুন দিয়ে তাদের থামানো যাচ্ছে না।  

 

খুব বেশিদিন আগের কথা নয়। চলতি মাসের ৯ আগস্ট ভারতে এক নারী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় উত্তাল হয়ে উঠে ভারত। ভারতের সর্বস্তরের মানুষ এই ধর্ষণ ও হত্যার  বিরুদ্ধে রাস্তায় নামে।

ভারতের গণমাধ্যমের সংবাদসূত্রে জানা যায়, কলকাতার আরজি কর মেডিকেল কলেজ থেকে গত ৯ আগস্ট কর্তব্যরত এক তরুণী চিকিৎসকের মরদেহ উদ্ধার হয়। প্রথমে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

নিহতের পরিবারকে জানানো হয়, ভুক্তভোগী নারী চিকিৎসক আত্মহত্যা করেছেন। তবে এই নারী চিকিৎসকের ময়নাতদন্তে ভয়াবহ শারীরিক নির্যাতনের প্রমাণ পাওয়া যায়। এর খবর শোনার পরপরই ক্ষোভে–বিক্ষোভে ফুঁসে ওঠে পশ্চিমবঙ্গের সর্বস্তরের মানুষ। এক পর্যায়ে বিক্ষোভ ভারতের বাইরেও ছড়িয়ে পড়ে।

দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, নাক-মুখ বন্ধ করে শ্বাসরোধ করার কারণেই (ভুক্তভোগী চিকিৎসকের) তাঁর মৃত্যু হয়েছিল। চিকিৎসকদের ধারণা, সম্ভবত তাঁকে যৌন নিপীড়ন করা হয়েছিল। ভুক্তভোগীর শরীরে বাহ্যিক ক্ষত যেমন পাওয়া গেছে, তেমনি অভ্যন্তরীণ ক্ষতও পাওয়া গেছে।

 

শুধু বাংলাদেশ কিংবা ভারত নয়। বছরের প্রতিটি দিন পৃথিবীর কোনো না কোনো প্রান্তে এই অপরাধ কর্মকাণ্ড ঘটেই যাচ্ছে। নারীর প্রতি সহিংসতা থামার কোনো লক্ষণ নেই।

এবার দেশের পরিসংখ্যানের দিকে চোখ রাখা যাক। আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)–এর মানবাধিকার লঙ্ঘনের সংখ্যাগত প্রতিবেদন (জানুয়ারি থেকে জুন ২০২৪) থেকে জানা যায়, এই ছয় মাসে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ২৫০ জন নারী। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ১৪ জন নারীকে। ধর্ষণের পর আত্মহত্যা করেছেন ৩ জন নারী। এছাড়া ৫৮ জন নারীকে ধর্ষণের চেষ্টা চালানো হয়েছে। এ ছাড়া এই ছয় মাসে পারিবারিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন মোট ২৬৯ জন নারী। এর মধ্যে ৮৪ জন নারী স্বামী কর্তৃক হত্যার শিকার হয়েছেন। পারিবারিক নির্যাতনের কারণে আত্মহত্যা করেছেন ৯৪ জন নারী। এ ছাড়া যৌন হয়রানি কেন্দ্রিক সহিংসতার শিকার হয়েছেন ১১৩ জন নারী। এর মধ্যে বখাটেরা লাঞ্ছিত করেছে ১০১ জন নারীকে।

নারীর প্রতি সহিংসতার মধ্যে সবচেয়ে বড় অপরাধ হচ্ছে ধর্ষণ। ধর্ষণ সংগঠিত করা, আর কাউকে মেরে ফেলার মধ্যে আসলে খুব একটা পার্থক্য নেই। যারা ধর্ষণ অপরাধের সঙ্গে জড়িত, তারা কিন্তু এই সমাজেরই মানুষ। প্রশ্ন হলো, সেই পুরুষ মানুষটি কেন ঘটনাস্থলে নিজেকে সংযত করতে পারেন না? কেন তিনি ‘না’ শব্দটি মেনে নিতে পারেন না।

দিনাজপুরের দশমাইলে ইয়াসমিন স্মৃতিস্তম্ভ। ছবি: সংগৃহীত একটু গভীরভাবে চিন্তা করলে দেখতে পাব, বেড়ে ওঠার পরিবেশের উপর মানুষের আচার, আচরণ ও কথাবার্তা নির্ভর করে। মানুষ ছোটবেলা থেকে যা দেখে বড় হচ্ছে, তা কিন্তু মানুষের মনে সারাজীবন গেঁথে থাকছে। যারা ধর্ষণের মতো অপরাধে জড়িত তারা কিন্তু সমাজে নারীর প্রতি অসম্মান, অন্যায় আচরণ, ক্ষমতার অপব্যবহার, বিচারহীনতার সংস্কৃতি, ক্ষমতার দম্ভ ও আইন অমান্য করার সংস্কৃতি দেখতে দেখতে বড় হচ্ছে। সমাজের যে মানুষ নারীর প্রতি অমর্যাদা ও অসম্মান দেখতে দেখতে বড় হয়, সেই মানুষ তো সুযোগ পেলে নারীকে নির্যাতন করবেই। তাদের কাছ থেকে তো ভালো কিছু আশা করা যায় না।

তবে ধর্ষণের মতো অপরাধে বিচারহীনতার সংস্কৃতি বিশেষ ভূমিকা পালন করে। প্রভাবশালীদের প্রভাবের কারণে অপরাধীরা ধরা ছোঁয়ার বাইরে চলে যায়। এর মূল কারণ দেশের আইনের শাসনের অভাব। আইন এক্ষেত্রে নীরব ভূমিকা পালন করে। আলোচিত ঘটনা না হলে আইনের মানুষজন চুপচাপ বসে থাকেন বলে অভিযোগ ওঠে প্রায়ই। তখন এই আইনের ফাঁকফোঁকরে অপরাধীরা পার পেয়ে যান। পরবর্তীতে এসবের কোনো হিসেব থাকে না। ২০১৬ সালে কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টে তনু হত্যা তাঁর জ্বলন্ত প্রমাণ।

শুধু কি তনু? আরও অনেক ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের বিচার এদেশে হয়নি। আমরা অবশ্য দিনশেষে এসব হত্যাকাণ্ডের কথা ভুলে যাই। তখন আবার নতুন কোনো ধর্ষণের  ঘটনা আমাদের মনকে অস্থির করে তোলে।

অথচ এ দেশের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে আছে, ‘যদি কোন পুরুষ কোন নারী বা শিশুকে ধর্ষণ করেন, তাহা হইলে তিনি মৃত্যুদণ্ডে বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন। আবার যদি কোন ব্যক্তি কর্তৃক ধর্ষণ বা উক্ত ধর্ষণ পরবর্তী তাহার অন্যবিধ কার্যকলাপের ফলে ধর্ষণের শিকার নারী বা শিশুর মৃত্যু ঘটে, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তি মৃত্যুদণ্ডে বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অন্যূন এক লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন। আবার যদি একাধিক ব্যক্তি দলবদ্ধভাবে কোন নারী বা শিশুকে ধর্ষণ করেন এবং ধর্ষণের ফলে উক্ত নারী বা শিশুর মৃত্যু ঘটে বা তিনি আহত হন, তাহা হইলে ঐ দলের প্রত্যেক ব্যক্তি মৃত্যুদণ্ডে বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত এক লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন।’

আইন তো আছে। আসলে প্রয়োজন সেই আইনের সর্বোত্তম প্রয়োগ। আমরা চাই না চিকিৎসক মৌমিতা, ইয়াসমিন, তনু বা আফসানার মতো আর কেউ ধর্ষণের শিকার হোক, প্রাণ হারাক। বলতেই হয় যে, এটি তখনই সম্ভব হবে, যখন রাষ্ট্রের সর্বস্তরে নারীর সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত হবে। 

সৌন্দর্যশিল্প খাতের ৯৯ জন উদ্যোক্তার উঠে আসার গল্প নিয়ে প্রকাশিত হয়েছে ‘চলো এগিয়ে যাই’ বই। সৌন্দর্য বিশেষজ্ঞ এবং উজ্জ্বলার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সহপ্রতিষ্ঠাতা আফরোজা পারভীনের পরিকল্পনা ও সম্পাদনায়...
বর্তমান সরকার ক্ষমতা নেওয়ার পর সরকারি চাকরিতে বাড়ছে নারীর অংশগ্রহণ। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সবশেষ তথ্য বলছে, ৬৪ জেলার মধ্যে ২১ জেলার দায়িত্ব সামাল দিচ্ছেন নারী জেলা প্রশাসকরা (ডিসি)। পাশাপাশি বেড়েছে...
হয়তো আপনার পরিচিত কোনো স্কুলপড়ুয়া মেয়ের ফেসবুক আইডি থেকে অদ্ভুত কিছু বার্তা পেলেন। অবাক হবেন না, হয়তো আপনার পরিচিত সেই মেয়েটি সাইবার অপরাধের নির্মম শিকার। এমন ভুয়া আইডি তৈরি করে বিভিন্নজনকে পাঠানো...
ডা. জুবাইদা রহমান বলেছেন, কন্যাশিশুদের নিরাপত্তা ও মানবিক বিকাশ নিশ্চিত করে রাষ্ট্রকে তাদের ভবিষ্যৎ গড়ার সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করতে হবে। নারী উদ্যোক্তা ও সামাজিক উন্নয়ন নিয়েও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
রাজধানীর রমনার অফিসার্স ক্লাবের তৃতীয় তলা থেকে বেজমেন্টে পড়ে মো. মোশারফ হোসেন (৭২) নামে এক অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিবের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে সিঁড়ির পাশ থেকে তার রক্তাক্ত...
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে ব্রিজের নিচ থেকে পানিতে ভাসমান অবস্থায় এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তাঁর বয়স আনুমানিক ৪০ বছর। তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর পরিচয় পাওয়া যায়নি।
জাতীয় সংসদের হুইপ ও নাটোর ২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেছেন, বিএনপি যে প্রতিশ্রুতি দেয় তা পালন করে। শহীদ জিয়া নারীদের ঘর থেকে বের করেছিলেন। তার আগে মেয়েরা ঘরে বন্দি...
কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানিতে টুপটুপ রিসোর্ট অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে আগুন লেগে অন্তত ১০ পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার সকালে মেরিন ড্রাইভসংলগ্ন রিসোর্টটিতে আগুন লাগে। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় প্রায় এক...
লোডিং...
পঠিত নির্বাচিত

এলাকার খবর