বাংলাদেশের মানুষ যে আশা নিয়ে দেশ স্বাধীন করেছিল, সেটি পূরণ হয়নি বলে আক্ষেপ নিয়ে ২০০১ সালে সংগীতশিল্পী হায়দার হোসেন গেয়েছিলেন ‘তিরিশ বছর পরেও আমি স্বাধীনতাটাকে খুঁজছি’ গানটি। এরপর মনে কষ্ট নিয়ে গান বাঁধেন ‘আমি চিৎকার করে কাঁদিতে চাহিয়া, করিতে পারিনি চিৎকার’। অবশেষে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মধ্যদিয়ে জনগণ ফিরে পেয়েছে কথা বলার স্বাধীনতা। আর এই বিজয়ে অসুস্থ শরীর নিয়েও বসে থাকতে পারেননি হায়দার হোসেন। দেশের জন্য গাইলেন নতুন গান। শিরোনাম ‘বিজয় উল্লাস’।
বরাবরের মতো এবারের গানটিরও কথা ও সুর করেছেন শিল্পী নিজেই। সংগীত করেছেন ফুয়াদ নাসের বাবু। এতে হায়দার হোসেনের সঙ্গে কণ্ঠ দিয়েছেন ‘মাটি’ ব্যান্ডের ভোকালিস্ট মিরাজ খান। গত বৃহস্পতিবার গানটি প্রকাশ হয়েছে অনলাইন টেলিভিশন এমইটিভিতে।
গানটি প্রসঙ্গে হায়দার হোসেন বললেন, ‘অনেক জীবনের বিনিময়ে নতুন দেশ পেয়েছে ছাত্র-জনতা। শাসকের সঙ্গে যুদ্ধ করে বিজয় ছিনিয়ে এনে আজ আমরা উচ্ছ্বসিত। তবে আমাদের মনে রাখতে হবে দেশ নিয়ে যে উল্লাস, আনন্দ চলছে এই আনন্দকে ধরে রাখতে হবে। এই আনন্দকে ধরে রাখতে আমাদের অনেক কাজ এখনও বাকি। বিজয় উল্লাস গানে সে কথাই বলেছি।’
জীবনমুখী ও প্রতিবাদধর্মী গান গেয়ে শ্রোতাদের মন জয় করে নিয়েছেন হায়দার হোসেন। চার দশকেরও বেশি সংগীত ক্যারিয়ারে তিনি উপহার দিয়েছেন অসংখ্য জনপ্রিয় গান। তাঁর উল্লেখযোগ্য গানের তালিকায় রয়েছে ‘আমি ফাইসা গেছি’, ‘তিরিশ বছর পরেও আমি স্বাধীনতাটাকে খুঁজছি’, ‘চিৎকার করে কাঁদিতে চাহিয়াও করিতে পারিনি চিৎকার’, ‘আমি সরকারি অফিসার’, ‘শাড়ি’, ‘বৃষ্টির সাথে কথা কাটাকাটি’, ‘খুঁজে ফিরি অধিকার’ ইত্যাদি।
গত জুনে হার্ট অ্যাটাক করেছিলেন তিনি। ভর্তি হতে হয়েছিল হাসপাতালেও। তখন তাঁর হৃদযন্ত্রে একটি রিং (করোনারি স্টেন্ট) পরানো হয়। এর আগেও তাঁর বুকে আরও চারটি রিং পরানো হয়েছিল। তবে এখন কিছুটা সুস্থ আছেন গুণী এই শিল্পী।


শঙ্কামুক্ত হায়দার হোসেন, ফিরলেন বাসায়
“মন কি যে চায় বলো”
