বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ। ১৯৭৮ সালের এই দিনে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন। তিন বার রাষ্ট্রক্ষমতা এবং দুবার সংসদে বিরোধী দলে থাকা বিএনপি দেশের জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল। আগামীতে সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আবারও জনগণের ভোটে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করবে বলে আশাবাদী দলটির নেতারা।
১৯৭৫ সালে রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসার প্রায় তিন বছর পর বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন সেই সময়ের প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। নিজের গড়া জাগো দলের বিলুপ্তি ঘটিয়ে ৭৮ সালের পয়লা সেপ্টেম্বর রমনার রেস্তোরাঁয় ঘোষণা করেন বিএনপির সাংগঠনিক কাঠামো। ১৯ দফা কর্মসূচি নিয়ে এগিয়ে চলা দলটি পরের বছর জয়ী হয় সংসদ নির্বাচনে।
বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে সকলকে এক্যবদ্ধ করে জিয়াউর রহমান দেশের উন্নয়ন ও গণতন্ত্রকে অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন। এ কারণেই দেশের মানুষ তাঁকে গ্রহণ করেছিল।
১৯৮১ সালের ৩০ মে বিপথগামী একদল সেনাসদস্যের হাতে জিয়াউর রহমান নিহত হলে বিএনপির হাল ধরেন বেগম খালেদা জিয়া। তাঁর নেতৃত্বে তিন বার সরকার গঠন করে দল।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান বলেন, দেশে খালেদা জিয়া আসার পর তাঁকে দীর্ঘ সংগ্রাম করতে হয়েছে। এই দলকে প্রতিষ্ঠিত করা ও তৃণমূল পর্যায়ে দেশের মানুষকে দলের প্রতি আকৃষ্ট করা সবটুকুই বেগম জিয়ার অবদান।
২০০৭ সালের জরুরি অবস্থার পর কঠিন রাজনৈতিক সংকটের মুখোমুখি হয় বিএনপি। এরপর টানা দেড় দশক আওয়ামী লীগের দমন পীড়নের মুখে রাজনীতির মাঠে কোণঠাসা হয়ে পড়ে দলটি। মিথ্যা মামলায় দুই বছর কারাগারে থেকেছেন খালেদা জিয়া। নির্বাহী আদেশে শর্ত সাপেক্ষে মুক্তি পেলেও অসুস্থতা ও বিধিনিষেধের বেড়াজালে রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় হন তিনি।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, এত নীপিড়ন, নির্যাতন, গুম, খুন, চাকরিচ্যুত, দেশচ্যুত, মিথ্যা মামলা সবকিছুর পর বিএনপি যেন জ্বলে পুড়ে খাঁটি সোনায় পরিণত হয়েছে।
৫ আগস্ট ছাত্র জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে নতুন করে উজ্জীবিত হন দলটির নেতা-কর্মীরা। তারেক রহমানের দেশে ফেরার অপেক্ষায় আছেন তাঁরা। দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের আদর্শ অনুসরণ করে আগামীতেও দেশের মানুষের জন্য কাজ করবে বলে জানিয়েছেন দলের নেতারা।



