মোদির কাছে অভিজাতরা দুর্বল আর ভিন্নমতাবলম্বীরা সন্ত্রাসী

আপডেট : ১৪ অক্টোবর ২০২৪, ১০:২০ পিএম

ভারতকে বহুকাল ধরে ‘বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রের দেশ’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়। যদিও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারতের গণতন্ত্র বেশ খানিকটা পিছিয়ে পড়েছে। ফ্রিডম হাউস, ভি-ডেম ইনস্টিটিউট ও ইকনোমিস্ট ইনটিলিজেন্স ইউনিট–সবাই তাদের র‍্যাংকিংয়ে ভারতের গণতন্ত্রের অবনমন দেখিয়েছে। র‍্যাংকিংয়ে দেখা যায়, ভারতের গণতন্ত্রের সবচেয়ে বেশি অবনমন হয়েছে ২০১৯ সাল থেকে, যখন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দ্বিতীয় মেয়াদে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ভারতের প্রায় সব সরকারের আমলেই মানবাধিকার দুর্বল হয়েছে। তবে মোদির সময়ে মানবাধিকার পরিস্থিতির অবনমন একটু বেশিই ত্বরান্বিত হয়েছে। মোদি ২০১৪ সাল থেকে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর পদে অধিষ্ঠিত রয়েছেন। তবে গত জুনে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে মোদির দল একক সংখ্যাগরষ্ঠতা পায়নি।

জনসমর্থনের দিক থেকে মোদির দল খানিকটা হোঁচট খেলেও ব্যক্তিগতভাবে মোদি এখনও বেশ জনপ্রিয়। ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর পর আর কোনো প্রধানমন্ত্রী পরপর তিনবার জয়ী হননি। মোদির অর্জনগুলো নির্বাচনী সাফল্যের বাইরে। তিনি গত এক দশকে এককভাবে নেহরুর আমলের ধারণাকে পাল্টে দিয়েছেন। আগে ভারতীয় সমাজকে বলা হতো বহু ধর্ম, ভাষা, জাতি ও বর্ণের মানুষের সম্প্রীতিপূর্ণ এক সমাজ। সেই সমাজকে হিন্দু জাতীয়তাবাদী সমাজ এবং এক নিয়ম, এক নেতা, এক আদর্শের সমাজে পরিণত করেছেন মোদি। তাঁর দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নেতারা বলেন, ‘যারা এই সামাজিক ধারণা পছন্দ করবেন না, তারা ভারত ছেড়ে চলে যেতে পারেন। আর যারা এর বিরোধিতা করবেন, তারা জেলে যেতে পারেন। এসব বিষয় সংখ্যালঘুদের অবশ্যই মেনে নিতে হবে এবং সহ্য করতে হবে।’

শুরু থেকেই নরেন্দ্র মোদি ভারতের ক্রমবর্ধমান তরুণ জনগোষ্ঠীকে একটি নির্দিষ্ট ছাঁচে দেখেছেন। আজকের ভারতীয়দের মধ্যে ১০ শতাংশেরও কম মানুষের জন্ম নেহরুর আগে। আর নেহরু হচ্ছেন সেই নেতা, যিনি ভারতে সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরেপেক্ষতা ও জোটনিরপেক্ষতার ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন। নেহরু মারা গেছেন ১৯৬৪ সালে। মোদি ক্ষমতায় আসার পর নেহরু যুগের সকল ভৌত স্থাপনা ধ্বংস করেছেন। প্রতিষ্ঠানগুলো যেভাবে পরিচালিত হচ্ছিল, সেসব নিয়ম বাতিল করেছেন। আর অতীতের সকল অর্জনকে নিজের অর্জন বলে প্রচার করেছেন।

মোদি নিজেকে সমাজতন্ত্রবিরোধী মুক্তবিপণনকারী হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। একই সঙ্গে তিনি আগের কর্মসূচিগুলোও সংরক্ষণ করেছেন এবং ধর্মনিরপেক্ষতাকে খুব স্বল্প পরিসরে বহাল রেখেছেন। তিনি আরও পেশিশক্তি নির্ভর পররাষ্ট্র নীতির কথা বলেন। তবে জাতীয় স্বার্থে এক ধরনের ‘নিরপেক্ষতা’ বজায় রেখেছেন। তাঁর এমন নীতিতে পশ্চিমারা এক সময় বিরক্ত ছিল। তিনি ভারতকে একটি ‘ক্রমবর্ধমান শক্তির দেশ’ হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। তিনি দেশবাসীর সামনে ভারতের এমন একটি ভাবমূর্তি তৈরি করেছেন, যেন পৃথিবীর অন্যান্য দেশগুলো ভারতের বিরাট বাজারে প্রবেশের জন্য লাইন দিয়ে আছে। ভারত যেন তাদেরকে চীনের ঝুঁকি থেকে মুক্ত করার ব্যাপারে সহায়তা করছে। ভারতের বিপুলসংখ্যক তরুণ জনগোষ্ঠী এই খাতে কাজ করতে আগ্রহী।

কিন্তু ভারতে বেকারত্ব বেড়েই চলেছে। বিজেপির নেতৃত্বে দুর্নীতিও অব্যাহত রয়েছে। এ দুটি বিষয় মোদির পদস্খলনকে সামান্য হলেও ব্যাখ্যা করে। চলতি বছরের নির্বাচনে বিজেপি যদিও ৬৩টি আসন হারিয়েছে, তারপরও যতটি আসন পেয়েছে তা প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী কংগ্রেসের পাওয়া আসন সংখ্যার চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি।

তৃতীয় মেয়াদের জন্য নরেন্দ্র মোদিকে কিন্তু শরিক দলগুলোর সমর্থনের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এই সমর্থন ভারতের চলমান রাজনীতিতে মোদির ম্যান্ডেট পাল্টে দিতে বাধ্য করবে কিনা, তা একটা বড় বিবেচ্য বিষয়। ভারতের কয়েকজন বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক ও প্রাবন্ধিকের সাম্প্রতিক কয়েকটি বই থেকে মোদি ও তাঁর অতীত সম্পর্কে কিছু ইঙ্গিত পাওয়া যায়। তাঁদের বইয়ে মোদি সম্পর্কে চমকপ্রদ ব্যাখ্যা রয়েছে। যেমন, তিনি কোথা থেকে এসেছেন, কী করছেন এবং কোন ধরনের আদর্শ তাঁকে পরিচালিত করে, সেগুলোর উৎপত্তিই বা কোথায়। মোদি ও তাঁর সমর্থকেরা তাঁদের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে মোটামুটি নিশ্চিত করেছেন যে, তাঁর নীতি ও মতাদর্শের শিকড় এখন দেশের বেশ গভীর পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। এটি ভারতীয় গণতন্ত্রের জন্য শুভ সূচনা নয়।

মোদি নিজেও খোলখুলি অনেক কিছুই প্রকাশ করেন না। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি এখন পর্যন্ত একটিও সংবাদ সম্মেলন করেননি। তাঁর সমর্থকেরা বলেন, মোদি সরাসরি মানুষের সঙ্গে কথা বলেন। ‘মন কি বাত’ নামে রেডিও-তে একটি অনুষ্ঠান করেন। তবে এ ধরনের অনুষ্ঠান একমুখী হওয়ায় তা তাঁর আখ্যান নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। তিনি এ পর্যন্ত কয়েকজন নরম (তাঁর প্রতি) সাংবাদিককে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন, যাঁরা অতি সরল ও মোলায়েম প্রশ্ন করেন। মোদি বেশির ভাগ সময়ই অরাজনৈতিক প্রশ্নের উত্তর দিতে পছন্দ করেন। যেমন একজন বলিউড অভিনেতার সঙ্গে সাক্ষাৎকারে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, তিনি আম খেয়েছেন কি না? যদি খেয়ে থাকেন, কীভাবে খেয়েছিলেন? আম কেটে খেয়েছিলেন না-কি চুষে খেয়েছিলেন?

মোদির অতীতের বেশির ভাগই বিষয়ে সঠিকভাবে নিশ্চিত হওয়া কঠিন। আংশিকভাবেও কঠিন। কারণ তিনি এমন একটি আখ্যান তৈরি করেছেন, যেটি প্রমাণ করা বা অস্বীকার করা দুষ্কর। উদাহরণ হিসেবে ছোটবেলায় তাঁর চা বিক্রির বিষয়টি বলা যায়। মোদি দাবি করেন, তিনি ছোটবেলায় রেলস্টেশনে চা বিক্রি করতেন। কিন্তু সেই দোকানের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায় না। তিনি যখন গ্রাম ছেড়েছেন, ওই সময়ে স্টেশনটিতে খবু বেশি যাত্রীর আনাগোনা ছিল না। মোদি আরও দাবি করেছেন, ‘এন্টায়ার পলিটিক্যাল সায়েন্স’ বিষয়ে তাঁর স্নাতকোত্তর ডিগ্রি রয়েছে। তবে কোনো শিক্ষক বা শিক্ষার্থী আজ অবধি মোদিকে শিক্ষার্থী হিসেবে স্মরণ করতে পারেননি।

যাই হোক, আমরা জানি, মোদির রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়েছিল পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য গুজরাটে। সেখানে তিনি ১২ বছরেরও বেশি সময় ধরে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। কিংস কলেজ, লন্ডন ও প্যারিসের সায়েন্সেস পো-এর ভারতীয় রাজনীতি বিষয়ের বিশেষজ্ঞ ক্রিস্টোফ জেফ্রেলট বলেন, ‘ভারত আজ কোথায় আছে তা বোঝার জন্য মোদি কীভাবে গুজরাট শাসন করেছিলেন, তা দেখতে হবে।’

২০০২ সালের ‘গুজরাট দাঙ্গা’ মোদির শাসনের ইতিহাসে চিরস্থায়ীভাবে সেঁটে আছে। ওই সময় হিন্দু তীর্থযাত্রীদের একটি ট্রেনে আগুনের ঘটনা ঘটেছিল। ওই ঘটনার পর প্রতিশোধমূলক সহিংসতায় এক হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছিল, যাদের বেশির ভাগই ছিল মুসলমান। মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলোর অভিযোগ, সহিংসতা বন্ধে মোদির প্রশাসন যথেষ্ট কাজ করেনি। ২০১২ সালে ভারতীয় সুপ্রিম কোর্ট তাদের দ্বারা গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিটের একটি প্রতিবেদন গ্রহণ করে যেখানে বলা হয়েছে, মোদির বিরুদ্ধে মামলা করার পর্যাপ্ত প্রমাণ নেই। ওই প্রতিবেদনটিকে মোদির সমর্থকেরা তাঁর চরিত্রের শংসাপত্র মনে করেন এবং তাঁকে অব্যাহতি সকল অভিযোগ থেকে দায়মুক্তি দেন। ফলে ২০১৪ সালের নির্বাচনে মোদি বিজেপির আদর্শবাহক হয়ে ওঠেন।

জেফ্রেলট তাঁর ‘গুজরাট আন্ডার মোদি: ল্যাবরেটরি অব টুডেজ ইন্ডিয়া’ নামের নতুন বইয়ে পাঁচটি বিষয় তুলে ধরেছেন, যেগুলো মোদিকে গুজরাটে আধিপত্য বিস্তারে সহায়তা করেছিল। এগুলো হচ্ছে, ধর্মীয় মেরুকরণের মাধ্যমে নির্বাচনে জয়, প্রতিষ্ঠানগুলোকে অন্তসারশূন্য করে ফেলা, বড় বড় ব্যবসায়িক গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন দেওয়া, স্বজনপ্রীতি ও স্বৈরাচারী শাসন এবং মধ্যবিত্ত শ্রেণির মনে এই ধারণার জন্ম দেওয়া যে তিনিই তাদের শেষ ভরসা।

গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী থাকার সময়ে মোদি সেখানকার বাসিন্দাদের বলেছিলেন, তাঁর ওপর যেকোনো ধরনের আক্রমণ মানে গুজরাটি পরিচয়ের ওপরই আক্রমণ। মোদি গুজরাটকে একটি ব্যবসাবান্ধব রাজ্য হিসেবে পরিচিত করেছিলেন। গুজরাট অবশ্য সব সময়ই ব্যবসাবান্ধব ছিল। তবে মোদি করপোরেট গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন। মুকেশ আম্বানি ও গৌতম আদানি–দুটি গুজরাটি ব্যবসায়িক গোষ্ঠী, যারা ২০০২ সালের পর থেকে ফুলেফেঁপে উঠেছে। মোদির উত্থানের সমান্তরালে রকেটের গতিতে আদানির উত্থান ঘটেছে।

জেফ্রেলট তাঁর বইয়ে আরও বলেছেন, মোদির শাসনামলে রাজনৈতিক বিরোধীদের ওপর নজরদারি বেড়েছে এবং গুজরাটে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডও ঘটেছে। মোদি সব সময় উপলব্ধি করেছেন, দরিদ্ররা তাদের আর্থসামাজিক অবস্থা ভেবে ভোট দেয় না, বরং ভোট দেয়, তাদের পরিচয়ের ভিত্তিতে। তাই একজন প্রচারক হিসেবে মোদি সব সময় বলেন, তিনি তাদেরই একজন। তারাও চাইলে তাঁর মতো (মোদির মতো) উন্নতি করতে পারেন। তিনি হিন্দুদের আশ্বাস দেন, তাদের রক্ষা করবেন। আর যারা আইনশৃঙ্খলা নিয়ে চিন্তিত, তাদের বলেন, তিনি ভারতের চৌকিদার বা নিরাপত্তারক্ষী। ধর্মপ্রাণদের জন্য পুরোহিত। (চলতি বছরে অযোধ্যায় রাম মন্দিরের উদ্বোধনের সময় তিনি পুরোহিতের দায়িত্ব পালন করেছেন, যদিও তিনি পুরোহিত নন)।

জেফ্রেলট লিখেছেন, মোদি অভিজাত ও ক্ষমতাধরদেরও ‘দুর্বল প্রতিপক্ষ’ মনে করেন। আর ভিন্ন মতাবলম্বীদের মনে করেন উগ্রপন্থী, সন্ত্রাসী ও ভারতবিরোধী। যারা প্রান্তিক ও দুর্বলদের অধিকার নিয়ে কাজ করেন, তাদের বলেন রাষ্ট্রের শত্রু। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি একই ভাঙা রেকর্ড বারবার বাজিয়েছেন এবং বিরোধীদের কারারুদ্ধ করার ব্যাপারে কঠোর আইনের ব্যবহার বেশ দক্ষতার সঙ্গে করেছেন। অন্যদিকে আমলাতন্ত্র, বিচার বিভাগ ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকে দুর্বল করেছেন।

সরকারের সমালোচনাকারী হাজার হাজার মানুষকে আটক করেছেন মোদি। তাঁদের মধ্যে অনেককে এখনো বিচারের মুখোমুখি করা হয়নি। অনেককে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেপ্তার করেছেন। এ ব্যাপারে আদালতের অনেকটাই ছাড় পেয়েছেন। অভিযোগ গঠনের ব্যাপারে তদন্তকারী সংস্থাগুলো অসম্ভব লম্বা সময় নিয়েছে। দিল্লি-কেন্দ্রিক পিপলস ইউনিয়ন অব সিভিল লিবার্টিজ নামে একটি সংস্থা গোটা পদ্ধতিটাকেই একটা শাস্তি বলে বর্ণনা করেছে। আর কোনো কোনো ক্ষেত্রে গ্রেপ্তারের কয়েক বছর পরে অধিকাংশ অভিযুক্ত পরে আদালত থেকে জামিন পেয়ে গেছেন। এসব লোকের জন্য কোনো প্রতিকার নেই, কারণ তারা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে মামলা করতে পারে না। এটাই রূঢ় বাস্তবতা। 

বেআইনি কার্যকলাপ (প্রতিরোধ) আইন (ইউএপিএ)-এর অধীনে তথাকথিক ভীম কোরেগাঁও ষড়যন্ত্র মামলায় ২০১৮ সালে মানবাধিকার কর্মী, আইনজীবী ও সাংবাদিকসহ ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই আইনটি যেকোনো ব্যক্তিকে ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দিয়ে আটক করার ব্যাপারে রাষ্ট্রকে অসীম ক্ষমতা দিয়েছে। ২০১৮ সালের ওই মামলায় গ্রেপ্তার হওয়াদের মধ্যে বর্তমানে আটজন পরে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। আর কারা হেফাজতে থাকা অবস্থায় একজনের মৃত্যু হয়েছে। 

ভারতের বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে পরিচিত মুম্বাই থেকে বেশ খানিকটা দূরের জেলা পুনের ভীম কোরেগাঁও গ্রামে ২০১৮ সালে দলিত সম্প্রদায়ের প্রায় ৩০ হাজার মানুষ জড়ো হয়েছিল। দু শ বছর আগে ব্রিটিশরা সেখানে এক ঐতিহাসিক যুদ্ধে মারাঠাদের পরাজিত করেছিল। ব্রিটিশরা তাদের সেনাবাহিনীতে দলিতদের অন্তর্ভুক্ত করেছিল। আর মারাঠারা ছিল উচ্চবর্ণের। ফলে ব্রিটিশ সেনাদের অন্তর্ভুক্ত হওয়া এবং মারাঠাদের পরাজিত করাকে দলিতরা তাদের আত্মসম্মানের সংগ্রামে বড় বিজয় বলে মনে করে।

বিজয়ের সেই বার্ষিকী উদ্যাপন করতে দলিতরা সেখানে জড়ো হয়েছিল। সেখানে উচ্চ বর্ণের হিন্দুরা হামলা চালালে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। পুনে পুলিশ দলতি নেতাদের গ্রেপ্তার করে এবং তাদের অনেককেই ‘মাওবাদী’ বলে আখ্যা দেয়। পরে এমন অনেককে আটক করা হয়েছে, যারা ওই সময়ে কোরেগাঁওয়ের আশপাশেও ছিল না। কিন্তু প্রমাণ হিসেবে সরকার তাদের ই-মেইল ও অন্যান্য নথি দেখিয়েছে। বিদেশি স্বাধীন সংস্থাগুলোর শ্রমসাধ্য গবেষণা বলছে, প্রমাণগুলো অত্যাধুনিক নজরদারি সফটওয়্যার ও স্পাইওয়্যার ব্যবহার করে আটকদের হার্ড ড্রাইভে লাগানো হয়েছিল। আইনজীবীরা বলছেন, এটি প্রক্রিয়াটি অন্যায়। তবে ভারতের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা এ ধরনের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।

লন্ডনভিত্তিক সমাজ-নৃতাত্ত্বিক আলপা শাহ তাঁর নতুন বই ‘দ্য ইনকার্সারেশনস’-এ ভীম কোরেগাঁও মামলার একটি হতাশাজনক বিবরণ লিখেছেন। তিনি লিখেছেন, গুজরাটে মোদি যে কৌশলগুলো ব্যবহার করেছিলেন–যেমন নজরদারি প্রযুক্তি, যথাযথ প্রক্রিয়া এড়ানোর জন্য কঠোর আইন ও ভয় জাগানোর অন্যান্য প্রচেষ্টা, এর সবই তিনি পরে জাতীয় জীবনে প্রয়োগ করেছেন।

গ্রেপ্তার হওয়াদের বিভিন্ন পরিচয় তুলে ধরেছেন আলপা শাহ। যেমন গ্রেপ্তার হওয়াদের মধ্যে রয়েছেন গণিতবিদ থেকে ট্রেড ইউনিয়নের নেতা বনে যাওয়া সুধা ভরদ্বাজ, যিনি ভারতের প্রান্তিক সম্প্রদায় নিয়ে কাজ করার জন্য মার্কিন নাগরিকত্ব ত্যাগ করেন। খ্রিষ্টান পুরোহিত স্ট্যান স্বামী, যিনি পূর্ব ভারতে আদিবাসীদের অধিকারের জন্য লড়াই করেছেন। তিনি ২০২১ সালে কারা হেফাজতে মারা যান। আরও রয়েছেন শিক্ষাবিদ আনন্দ তেলতুম্বে, যিনি ভারতীয় সংবিধানের প্রণেতা বাবা সাহেব ভীমরাও আম্বেদকরের নাতনিকে বিয়ে করেছেন।

সলিল ত্রিপাঠি: নিউইয়র্কভিত্তিক লেখক। তিনি ‘দ্য কর্নেল হু উড নট রিপেন্ট: দ্য বাংলাদেশ ওয়ার অ্যান্ড ইটস আনকুয়েট লিগেসি’ নামে বই লিখেছেন। তিনি গুজরাটিদের নিয়ে একটি বইয়ের কাজ করছেন।  

লেখাটি বিখ্যাত সাময়িকী ফরেন পলিসি থেকে নেওয়া। আজ প্রকাশিত হলো প্রথম কিস্তি। আগামীকাল প্রকাশিত হবে দ্বিতীয় কিস্তি।

[এই মতামত লেখকের নিজস্ব। এর সঙ্গে ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের প্রাতিষ্ঠানিক সম্পাদকীয় নীতিমালার কোনো সম্পর্ক নেই।]

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি দীর্ঘদিন ধরেই একটি মৌলিক নীতির ওপর দাঁড়িয়ে আছে। আর তা হলো ‘সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়।‘ কিন্তু বৈশ্বিক ভূরাজনীতির পরিবর্তন, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে শক্তির...
ভারতের সঙ্গে ৫৪টি আন্তঃসীমান্ত নদী ভাগাভাগি এ অঞ্চলের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও ন্যায্য পানি–অধিকারের প্রশ্নকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। কিন্তু দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক টানাপড়েন, ক্ষমতার অসমতা এবং...
নেপালসহ দেশে দেশে সরকার পতন ও এরপরের ‘খিচুড়ি’ হয়ে যাওয়া পরিস্থিতিতে সেসব অভ্যন্তরীণ সমস্যাগুলো না হয় ‘ডাল’ আর ‘চাল’-এর ভূমিকা নিয়েছে। আগুন হিসেবে কাজ করেছে জেন জি-র ক্ষোভ। কিন্তু খিচুড়ি রান্নার...
‘বিপ্লব, নাকি করপোরেট শক্তির খেল’–প্রশ্নটা আজ দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতির সামনে এক বিরাট ধাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। চার বছরের মধ্যে ভারতের তিন প্রতিবেশী দেশ–শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ এবং নেপাল–গণআন্দোলনের জেরে...
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের নির্মাণকাজ প্রায় শেষ হলেও ১৬ ডিসেম্বর অপারেশন শুরুর পরিকল্পনা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। জাপানি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে পরিচালনা ও গ্রাউন্ড...
প্রান্তিক মানুষের স্বাস্থ্যসেবা আরও উন্নত এবং তা সহজে প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে চিকিৎসকেরা যেন রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়ার...
বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনালে পছন্দের দল হেরে যাওয়ায় সাতক্ষীরাযর রসুলপুরে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে হাফিজুর রহমান ওরফে লালটু নামে এক আর্জেন্টিনার সমর্থকের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার সকালে এ ঘটনা ঘটে।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের নতুন উত্তেজনায় বিশ্ববাজারে আবারও বাড়ছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম। এতে জ্বালানি আমদানি ব্যয় ও বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ বেড়ে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ তৈরি...
লোডিং...

এলাকার খবর