নাগরিক জীবনের ব্যস্ততায় অনেকেই আপন নীড়ে এক টুকরো সবুজের ছোঁয়া পেতে চান। ঘরের কোণায় তখন শোভা পায় নানান জাতের ইনডোর প্ল্যান্টস। আবার ইনডোর প্ল্যান্টসের প্রসঙ্গ এলে সবার আগে মনে পড়ে মানিপ্ল্যান্টের নাম।
কখনো বারান্দার রংবাহারি টব থেকে নিচে ঝুলে পড়ে, আবার কখনো এই গাছ ছড়িয়ে বেড়ে ওঠে দেয়ালজুড়ে। অন্দরে নান্দনিকতা বাড়ানোর পাশাপাশি এই গাছের বড় সুবিধা হলো, মাটির পাশাপাশি পানিতেও রাখা যায়। তবে পানির তুলনায় মাটিতে দ্রুত বাড়ে মানিপ্ল্যান্ট।
শুধু গাছ লাগালেই তো হবে না, এর সঙ্গে চাই যথাযথ যত্নও। নাহলে গাছ বেশিদিন বাঁচবে না।

রোদের প্রয়োজন
মানিপ্ল্যান্ট গাছের জন্য রোদ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। তাই টব বা কাচের জারটিকে মাঝেমধ্যে রোদে রাখার চেষ্টা করুন। তবে খেয়াল রাখবেন তা যেন সরাসরি গাছে না লাগে, তাহলে পাতা পুড়িয়ে ফেলতে পারে। এই গাছ ফ্লুরোসেন্ট আলো সহ্য করতে পারে, তাই চাইলে অফিসে এনেও রাখতে পারেন।
সারের ব্যবহার
স্বাস্থ্যকর মানিপ্ল্যান্টের জন্য সার জরুরি। মাসে একবার সার দিতে পারলে খুবই ভালো। শীতে অবশ্য সার দেওয়ার প্রয়োজন নেই। অন্যান্য সময় মাসে একবার মাটি খুঁচিয়ে কিছুটা জৈব সার দিয়ে পানি দিয়ে দিন। ইপসম সল্টও ব্যবহার করতে পারেন।
পানি প্রয়োজন

মানিপ্ল্যান্টের আর্দ্র মাটি প্রয়োজন, তবে প্রতিদিন পানি না দিলেও এই গাছ দিব্যি বেঁচে থাকে। বাড়তি পানি যেকোনো গাছের জন্যই ক্ষতিকর। গরমের সময় গাছের ধরন এবং তাপমাত্রা অনুযায়ী ২ থেকে ৩ দিন পরপর পানি দেবেন। সবচেয়ে ভালো উপায় হলো, মাটির উপরিভাগ ছুঁয়ে দেখা। মাটি যদি পুরোপুরি শুকিয়ে যায়, তাহলেই পানি দেবেন।
পাতা হলুদ হলে
কখনও কখনও মানিপ্ল্যান্টের কিছু পাতা বা পাতার অগ্রভাগ হলুদ হয়ে যায়, অতিরিক্ত পানি বা পানির অভাবের জন্য এমনটি ঘটে। এমন পরিস্থিতিতে যে পাতাগুলো সম্পূর্ণ হলুদ দেখায় তা কেটে ফেলুন।

কাটিং থেকে নতুন চারা
ঝোপালো মানিপ্ল্যান্ট চাইলে অতিরিক্ত লম্বা ডাল কেটে দিন। কাটিং থেকে খুব সহজেই নতুন গাছ তৈরি করে নিতে পারবেন। এজন্য ডাল কেটে কয়েক সপ্তাহ পানিতে রেখে দিন। শিকড় বের হলে মাটিতে রোপণ করুন। আবার টবের নিচ দিয়ে শিকড় বের হয়ে আসলে অপেক্ষাকৃত বড় একটি টবে স্থানান্তর করে দিন।


যত্নে রাখুন ইনডোর প্ল্যান্ট
ঘরে রাখা গাছের পাতা হলুদ হয়ে গেলে কী করবেন?
