স্বাদ হারানোর ফলে বেশ কিছু জটিলতা দেখা দেয়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ব্যক্তির খাওয়ার প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। তাই অপর্যাপ্ত পুষ্টি গ্রহণের কারণে পুষ্টি ঘাটতি দেখা দেয় এবং কিছু ক্ষেত্রে তা ওজন কমার সম্ভাবনাও তৈরি হয়। খাবার উপভোগ করতে না পারায় মানুষের মধ্যে এক ধরনের বিষণ্নতা এবং উদ্বেগ দেখা দেয়। যার প্রভাব সামাজিক জীবনের পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
স্বাদ গ্রহণের অক্ষমতার কারণে অনেক ক্ষেত্রে নষ্ট বা দূষিত খাবার শনাক্ত করা কঠিন হয়ে যেতে পারে। ফলে খাদ্যজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি বাড়ে। জাতি হিসাবে যেহেতু আমরা ভোজন রসিক। তাই খাবারের স্বাদ গ্রহণ করতে না পারলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সামাজিক আচার অনুষ্ঠান উপভোগের আনন্দ হ্রাস পায়। যা জীবনের সামগ্রিক মানকে প্রভাবিত করে।
যদিও কিছু আকস্মিক কারণে স্বাদের ক্ষতি অনিবার্য হতে পারে, তবে ঝুঁকি কমাতে কিছু প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করলে স্বাদের ক্ষতি কমানো যেতে পারে। ভালো ওরাল হাইজিন অনুশীলন করতে হবে। নিয়মিত ব্রাশিং, ফ্লসিং এবং ওরাল চেকআপ দাঁতের সমস্যা প্রতিরোধে সাহায্য করতে পারে, যা স্বাদের ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।
ধূমপান, মদ্যপান, পান তামাক জর্দা সেবন ইত্যাদি ত্যাগ করতে হবে। বিভিন্ন রোগ যেমন: ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ এবং স্নায়বিক রোগ প্রতিরোধ অথবা নিয়মিত সঠিক চিকিৎসা নিতে হবে, যাতে দীর্ঘ মেয়াদি জটিলতাগুলো প্রতিহত করা যায়। খাদ্যতালিকা পরিবর্তন করে রোগীর রুচি অনুযায়ী আরও সুস্বাদু এবং সুগন্ধযুক্ত খাবার অন্তর্ভুক্ত করে খাবারকে আরও আনন্দদায়ক করার চেষ্টা করা যেতে পারে।
নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে হবে। পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী সুষম খাবার নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজনে নিয়মিত জিংক সমৃদ্ধ খাবার অথবা সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করতে হবে। প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করতে হবে। ফলে শরীরের পানির সমতা বিধান হবে। স্বাস্থ্যকর স্বাদ কুঁড়ি ফাংশন বজায় রাখতে এবং মুখের শুষ্কতা প্রতিরোধ করতে সাহায্য করতে পারে। স্বাদ বৃদ্ধিকারী বিভিন্ন ভেষজ, মশলা এবং অন্যান্য গন্ধ বর্ধক খাবারের স্বাদ তীব্র করতে পারে এবং তাদের আরও উপভোগ্য করে তুলতে পারে।
সর্দি, অ্যালার্জি বা ফ্লুর কারণে স্বাদ হারানো সাময়িক ঘটনা কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে, এটি একটি গুরুতর অবস্থার লক্ষণ হতে পারে। যদি কেউ ক্রমাগত স্বাদ হারাতে থাকেন তবে সঠিক রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসার জন্য দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। তাই স্বাদ কমে গেলে তার কারণ অনুসন্ধান করে দ্রুত তা সমাধানের চেষ্টা করে জীবন মান উন্নয়নে সচেষ্ট হতে হবে।
লেখক: নিউট্রিশন অফিসার, ন্যাশনাল হেলথকেয়ার নেটওয়ার্ক, বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতি


স্বাদের পরিবর্তন কী কী কারণে ঘটে?
সত্যিই কি লেবুপাতা ওজন কমায়?
