রাজশাহীতে বাড়ি থেকে এক নারী চিকিৎসক ও তাঁর বাবাকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সিরাজগঞ্জ মহাসড়কের পাশে অচেতন অবস্থায় বাবাকে ফেলে গেলেও এখনো নিখোঁজ ওই চিকিৎসক। গতকাল সোমবার নগরের চন্দ্রিমা আবাসিক এলাকায় এই অপহরণের ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। গতকাল ভোর রাতে বাবাকে বেঁধে এবং মাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে চিকিৎসক মেয়েকে অপহরণ করে নিয়ে যায় ৬ জনের একটি দল।
অপহরণের শিকার চিকিৎসকের মা আহত অবস্থায় বর্তমানে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি জানান, ফজরের নামাজ পড়ার জন্য তাঁর স্বামী মসজিদে যাচ্ছিলেন, এ সময় অপহরণকারীরা তাঁর স্বামীকে জিম্মি করে বাসায় ঢুকে ধারোলো অস্ত্র দিয়ে তাকে আঘাত করে। এরপর বাবা ও মেয়েকে একটি কালো রংয়ের মাইক্রোবাসে করে তুলে নিয়ে যায়। পরে সিরাজগঞ্জে তাঁর স্বামীকে অচেতন অবস্থায় মহাসড়কের পাশে ফেলে যায়। এখন পর্যন্ত মেয়ের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
এই নারী চিকিৎসকের বাবা বলেন, ‘অপহরণকারী ৬ জনের মধ্যে একজন ছিল তানজিম খান ওরফে রোশন আলম। সে কখনো ম্যাজিস্ট্রেট, কখনো আওয়ামী লীগ নেতা আবার কখনো ফজলে নূর তাপসের ঘনিষ্ঠ হিসবে পরিচয় দিত। ২০১৮ সালে মেয়ের সঙ্গে তানজিমের পারিচয়। প্রায়ই বাড়ির আশপাশে ঘোরাঘুরি করত। কখনো পথরোধ করত। কখনো স্ত্রী বলে দাবি করত। তবে তানজিম মূলত প্রতারক। এ নিয়ে চলতি বছর চন্দ্রিমা থানায় অভিযোগ করলে মুচলেকাও দেয় তানজিম। আর এবার এই ঘটনা ঘটল।’
এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন চিকিৎসকের স্বজনেরা। একইসঙ্গে অক্ষত অবস্থায় ফিরে পেতে চান মেয়েকে। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে এ ধরনের ঘটনা আরও বাড়বে বলে মনে করেন তারা।
অপহরণের ঘটনায় রাতে ওই চিকিৎসকের বাবা বাদী হয়ে নগরীর চন্দ্রিমা থানায় ২ জনের নামসহ ও অজ্ঞাত ৪ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
রাজশাহী মেট্রপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার সাবিনা ইয়াসমিন জানান, পরিবারের পক্ষ মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশের অভিযান চলছে। মাঠে কাজ করছে একাধিক ইউনিট। অপরাধীদের একজন ভুক্তভোগী পরিবারের পূর্ব পরিচিত। সম্ভাব্য সব বিষয় নিয়ে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।



