আলোচিত গাইবান্ধার পলাশবাড়ীর হরিদাস চন্দ্র তরনীদাসকে মানি লন্ডারিং মামলায় গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) । সোমবার সকালে পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরোয়ারে আলম খান গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন
এর আগে, গতকাল রোববার রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার মধ্যরামচন্দ্রপুর গ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বাংলাদেশ পুলিশের সিআইডি ঢাকার বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, হরিদাস চন্দ্র তরনীদাসের নামে অর্থ পাচারের অভিযোগে মামলা করেছে ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, হরিদাস চন্দ্র তরনীদাস গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ী থানার মধ্য রামচন্দ্রপুর গ্রামের গোপীনাথ তরনীদাসের ছেলে। তিনি ২০০৬ সালে হাসবাড়ী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়, পলাশবাড়ী থেকে এসএসসি ও ২০০৮ সালে ঢাকা ক্যাম্ব্রিয়ান কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। ২০১০ সালে অবৈধভাবে ভারতে গিয়ে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ গ্রহণ শেষে দেশে ফেরেন মর্মে জানা যায়।
২০১৯ সালে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে তৌহিদ ইসলাম নাম ধারণ করেন। এরপর থেকে তিনি বিভিন্ন সময়ে নিজেকে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার পরিচয় দিতেন এবং বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে নিজের এডিট করা ছবি এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নামে সেভ করা ভুয়া ফোনকল প্রদর্শন করতেন। তার বিরুদ্ধে সরকারি চাকরি, বদলি, হুন্ডি ও সংঘবদ্ধ অপরাধের বিষয়ে অভিযোগ থাকায় সিআইডি প্রাথমিক অনুসন্ধান করে।
অনুসন্ধানকালে জানা যায় যে, তার বৈধ কোনো আয়ের উৎস না থাকা স্বত্বেও তার বিভিন্ন ব্যাংক ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস হিসাবে ৯.৩৫ কোটি টাকা জমা হয়েছে এবং তিনি প্রায় সমপরিমাণ টাকা উত্তোলন করেছেন, যা সন্দেহজনক। তার ব্যাংক হিসাবগুলোতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বিভিন্ন ব্যক্তি কর্তৃক বিপুল পরিমাণ অর্থ জমা করা হয়েছে, যা তার পেশার সঙ্গে সামঞ্জস্য পূর্ণ নয়।
অভিযুক্তের বিরুদ্ধে এর আগে ঢাকার বনানী থানায় রুজুকৃত মামলা নং-১৬(১১)২২, ধারা-ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৪ তৎসহ ১৬৭/১৬৮/৪০৬/৪২০ পেনাল কোড সংক্রান্ত তথ্য অনুসন্ধানকালে পাওয়া যায়। তার বিরুদ্ধে প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেশি-বিদেশি মুদ্রা পাচার ও সংঘবদ্ধ অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় ঢাকার উত্তরা পশ্চিম থানায় মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ (সংশোধনী-২০১৫) এর ৪(২) ধারায় নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। তার বিভিন্ন ব্যাংক ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস হিসাবে সন্দেহজনক লেনদেনের বিষয়ে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত আছে।



