মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই দুদফা ভূমিকম্পে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এখন পর্যন্ত অন্তত ৩২ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। আহত হয়েছেন প্রায় ৭০০জন।
রয়টার্স জানিয়েছে, হতাহত আরও বাড়ার আশঙ্কা করছে কর্তৃপক্ষ। জারি রয়েছে জরুরি অবস্থা। লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশের পাশাপাশি উদ্ধারকারী দল পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
ভেনিজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন রাষ্ট্রপতি দেলসি রদ্রিগেজও হতাহতের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান,ভূমিকম্পে অন্তত ৩২ জন নিহত এবং প্রায় ৭০০ জন আহত হয়েছেন।
মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের মধ্যেই ধ্বংসস্তুপে পরিণত হলো কারাকাসের অসংখ্য ভবন। স্থানীয় সময় বুধবার সন্ধ্যায় রিখটার স্কেলে ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে।
ভূমিকম্পের সাথে সাথেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন স্থানে। অনেককেই হুড়োহুড়ি করে বিভিন্ন ভবন থেকে দৌড়ে বেরিয়ে যেতে দেখা যায়। ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তুপের নিচেও চাপা পড়ে অনেকে। আটকে পড়াদের উদ্ধারে শুরু হয় অভিযান।
ভুক্তভোগী একজন বলেন, ভূমিকম্পের সময় আমি কোনোমতে আমার ঘর থেকে বেরিয়ে আসি। চারপাশের সব দেয়াল ফেটে গিয়েছিল। নিচে নেমে আসার পরের দৃশ্যটা আমার কাছে মনে হয়েছে কোনো ভৌতিক চলচ্চিত্রের দৃশ্য।
ভূমিকম্পে ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির শঙ্কা জানিয়েছে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস। নিহতের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে প্রাথমিক ধারণা করা হচ্ছে।
এ অবস্থায় নাগরিকদের তাদের বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ভেনেজুয়েলার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এছাড়া সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে কয়েকটি জায়গায় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে গ্যাস সংযোগ। ভূমিকম্পের পরপরই সুনামি সতর্কতা জারি করা হলেও পরে তা প্রত্যাহার করে নেয় কর্তৃপক্ষ।
৭ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্পটি ভেনেজুয়েলার প্রতিবেশী কলম্বিয়াততেও অনুভূত হয়েছে বলে জানা গেছে।



