শরীয়তপুরে মোটরসাইকেল কেনার জন্য পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র হৃদয় খান নিবিড়কে অপহরণের পর হত্যা করা হয় বলে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন তিন আসামি। তবে ওই ঘটনায় গ্রেপ্তার শাওন চৌকিদার এখনও স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেননি।
শরীয়তপুর চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন ওই তিন আসামি।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা (আইও) শরীয়তপুর সদরের পালং মডেল থানার পরিদর্শক শরীফুল ইসলাম বলেন, আদালতের মাধ্যমে আমরা চার আসামির রিমান্ড চায়। গত বৃহস্পতিবার সিয়ামকে রিমান্ডে নেওয়ার আগেই সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মেজবা উদ্দিন খানের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
এরপর শাকিল গাজি ও ১৫ বছরের কিশোর তুহিনকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর রোববার নিবিড় হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রুমানা আক্তারের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দিতে ওই তিন আসামি মোটরসাইকেল কেনার জন্যে এই হত্যাকাণ্ড করেন বলে স্বীকারোক্তি দেন।
ওই আসামিদের তিনজনকে জেলা কারাগারে ও একজন কিশোর হওয়ায় তাকে গাজীপুরের কিশোর সংশোধনাগারে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে নিবিড়ের হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী ও পরিবারের লোকজন। মঙ্গলবার দুপুরে শরীয়তপুর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন হয়। মানববন্ধনে নিবিড় হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি জানান তারা।
হৃদয়ের চাচা জাকির হোসেন খান বলেন, আমাদের বাড়ির একটি ঘরে সিয়ামের পরিবার ভাড়া থাকত। তাদের বাড়ি পাবনার সিংগা এলাকায়। ভাড়াটিয়া হিসেবে সিয়ামের সাথে আমাদের সন্তান নিবিড় মিসতো। তার সাথে কোথায়ও গেলে আমরা সন্দেহের চোখে দেখতাম না। কিন্তু সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে সে এমন একটি জঘন্য কাজ করবে তা কখনও আমাদের চিন্তায় আসেনি। আমরা অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চায়।
পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আক্তার হোসেন বলেন, তিনজন আসামি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তারা বিচারকের কাছে হত্যাকাণ্ড ঘটানোর বিবরণ ও পরিকল্পনার লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছেন। তবে ওই ঘটনায় গ্রেপ্তার শাওন চৌকিদার এখনও স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি না দেওয়ায় তার বিষয়ে তদন্ত চলছে। প্রয়োজন হলে তাকে পুনরায় রিমান্ডে চেয়ে আদালতে আবেদন করা হবে।
উল্লেখ্য, ৩১ জুলাই স্কুল থেকে ফিরে বিকেলে খেলাধুলার জন্য বাড়ি থেকে বের হয় নিবিড়। এরপর তাকে আর খুঁজে পায়নি তার পরিবার। সন্ধ্যায় নিবিড়ের মা নিপা আক্তারের মুঠোফোনে কল করে অপহরণকারীরা ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। পরে পুলিশ তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার পরিকল্পনাকারী সিয়ামকে আটক করে পুলিশ। অপহরণকারী সিয়ামকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করলে তার দেওয়া তথ্যমতে ১ আগস্ট সকাল ৬টার দিকে বাড়ির ৫০০ মিটার দূরে পরিত্যক্ত জমি থেকে মাটিচাপা দেওয়া মরদেহ উদ্ধার করে।
পরে সিয়ামের তিন সহযোগীকে আটক করে পুলিশ। এ ঘটনায় শরীয়তপুর সদরের পালং মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন নিবিড়ের দাদা। পরে চার আসামিকে আদালত কারাগারে পাঠায়। এরপর আসামি শাকিল গাজি, শাওন চৌকিদারকে ৫ দিন ও তুহিন গাজিকে ৩দিন রিমান্ড দেয় আদালত।



