ফেসবুক ও অন্যদের ভুয়া তথ্যের যে প্রভাব নির্বাচনে পড়তে পারে

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী আগামী বছরের ৭ জানুয়ারি ভোট অনুষ্ঠিত হবে। সে অনুযায়ী প্রার্থী মনোনয়ন, প্রচারসহ আনুষঙ্গিক নানা বিষয়ের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়েছে কমিশন। এরই মধ্যে মনোনয়নপত্র জমা ও যাচাই-বাছাই শেষ। প্রার্থিতা চূড়ান্ত হতে আরও কিছু সময় লাগবে। এই নিয়ে এরই মধ্যে দেশের রাজনৈতিক দলগুলো থেকে নানা প্রতিক্রিয়া এসেছে। কেউ স্বাগত জানিয়েছে, আবার কেউ প্রত্যাখ্যান করেছে। সামাজিক মাধ্যমেও এ নিয়ে চলছে নানা আলোচনা। নানা ধরনের তথ্য নিয়ে মশগুল নেটিজেনরা। আর এখানেই সংকট দেখছেন কেউ কেউ। বিশেষত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো ভুয়া তথ্যের কারণে নির্বাচনে প্রভাব পড়তে পারে বলে উদ্বেগে রয়েছে অনেকে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এখন প্রচলিত মূলধারার তথ্যমাধ্যমগুলোর চেয়ে অনেক বিবেচনাতেই এগিয়ে। বহু মানুষ তথ্যের প্রাথমিক উৎস হিসেবে এ মাধ্যমের ওপর নির্ভর করে। একেক দেশে একেক প্ল্যাটফর্ম জনপ্রিয় হলেও মোটাদাগে ফেসবুক, এক্স (সাবেক টুইটার), ইনস্টাগ্রাম, টিকটক ইত্যাদি জনপ্রিয় মাধ্যম। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে জনপ্রিয়তায় শীর্ষে ফেসবুক। আর ভুয়া তথ্য ছড়ানোর ক্ষেত্রে ফেসবুকের বেশ বদনামও রয়েছে। বাংলাদেশেও এর নজির রয়েছে। এমনকি ফেসবুকে ছড়ানো ভুয়া তথ্যের জেরে বাংলাদেশে সহিংস ঘটনা পর্যন্ত ঘটেছে। এখানেই উদ্বেগের কারণ।

সব ঠিক থাকলে আগামী ৭ জানুয়ারি দেশে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হবে। একই মাসের ২৯ তারিখের মধ্যে নতুন সরকার গঠনের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এদিকে ঘোষিত তফসিল নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। নিজেদের অবস্থানের পক্ষে বা সম্ভাব্য অদূর ভবিষ্যৎ সম্পর্কে নানা অনুমানও ঘুরে বেড়াচ্ছে সেখানে। এসব অনুমানের পক্ষে অনেকে নানা তথ্য দিচ্ছে। এর মধ্যে কোনটি সঠিক, আর কোনটি ভুয়া—তার হদিস বের করা সাধারণ মানুষের পক্ষে কঠিন।

এটি শুধু বাংলাদেশের বাস্তবতা নয়। উদাহরণ হিসেবে মার্কিন জরিপকারী সংস্থা ইপসসের তথ্য তুলে ধরা যায়। ইউনেস্কোর সাথে যৌথভাবে করা এক জরিপের তথ্য তুলে ধরে ইপসস জানাচ্ছে—আসন্ন নির্বাচনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো ভুয়া তথ্য বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন ৮৭ শতাংশ মানুষ। আর বাংলাদেশের মতো দেশে এ উদ্বেগে ভোগা মানুষের হার ৯১ শতাংশ।

ইপসস মূলত ১৬টি দেশের ৮০০০ মানুষের ওপর জরিপ চালিয়ে এমন তথ্য দিয়েছে। বিশ্বে এত দেশ থাকতে ১৬টি দেশ কেন? উত্তর সহজ—এই ১৬টি দেশেই ২০২৪ সালে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। দেশগুলো হলো—বাংলাদেশ, ভারত, আমেরিকা, মেক্সিকো, দক্ষিণ আফ্রিকা, ইউক্রেন, ইন্দোনেশিয়া, অস্ট্রিয়া, বেলজিয়াম, ক্রোয়েশিয়া, রোমানিয়া, আলজেরিয়া, ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্র, এল সালভাদর,  ঘানা ও সেনেগাল। তবে পাকিস্তানে আগামী বছর নির্বাচন থাকলেও জরিপ থেকে দেশটি বাদ পড়েছে।

বাংলাদেশের মতো মধ্যম ও নিম্ন মানব উন্নয়ন সূচকসম্পন্ন দেশগুলোর ৯১ শতাংশ মানুষ নির্বাচনে সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো ভুয়া তথ্যের প্রভাব পড়া নিয়ে উদ্বিগ্ন। ছবি: ইনডিপেনডেন্টএই ১৬ দেশকে আবার মানব উন্নয়ন সূচকের (এইচডিআই) ওপর ভিত্তি করে তিনটি বর্গে ভাগ করা হয়েছে—অতি উচ্চ (৮-এর বেশি), উচ্চ (৭-৮ এর মধ্যে) এবং মধ্য ও নিম্ন (৭-এর কম)। বাংলাদেশ ও ভারত উভয়েই পড়েছে শেষের বর্গে। আমেরিকা অস্ট্রিয়া, বেলজিয়াম, ক্রোয়েশিয়া ও রোমানিয়া পড়েছে অতি উচ্চ মানব উন্নয়ন সূচকসম্পন্ন দেশের তালিকায়।

ইপসস জানাচ্ছে, নির্বাচনে সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো ভুয়া তথ্য প্রভাব ফেলবে বলে প্রতিটি দেশেই উদ্বেগ রয়েছে। এর মধ্যে অতি উচ্চ এইচডিআই তালিকাভুক্ত দেশগুলোর ৮২ শতাংশ, উচ্চ এইচডিআই তালিকাভুক্ত দেশগুলোতে ৮৮ শতাংশ এবং মধ্যম ও নিম্ন এইচডিআই তালিকাভুক্ত দেশগুলোর ৯১ শতাংশ মানুষ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এদের ৪৭ শতাংশেরই রয়েছে গভীর উদ্বেগ। জরিপে অংশ নেওয়া উচ্চ পর্যায়ের করপোরেট পেশাজীবীদের মধ্যে এ উদ্বেগের হার ৯১ শতাংশ, আর নিম্ন পদধারীদের মধ্যে ৮৫ শতাংশ উদ্বিগ্ন। উদ্বেগের মাত্রায় তফাৎ আছে শিক্ষা বিবেচনাতেও। উচ্চশিক্ষিতদের মধ্যে এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ৮৯ শতাংশ, যা স্বল্পশিক্ষিতদের মধ্যে ৭৮ শতাংশ। আবার রাজনীতিতে আগ্রহীদের মধ্যে উদ্বেগ ৯২ শতাংশ হলেও রাজনীতি বিমুখদের মধ্যে এ হার ৭৮ শতাংশ।

বাংলাদেশ এ তালিকায় পড়েছে মধ্য ও নিম্ন এইচডিআই তালিকায়। ফলে নির্বাচনে সামাজিক মাধ্যমের প্রভাব নিয়ে প্রকাশিত উদ্বেগ নিয়ে আরও বেশি করে উৎকণ্ঠিত হওয়ার কারণ থেকে যায়। সহজ হিসেব হলো এই দেশগুলোর মানুষের মধ্যেই সামাজিক মাধ্যমকে তথ্যের প্রাথমিক উৎস হিসেবে গ্রহণের প্রবণতা বেশি। গড়ে এসব দেশের ৬৮ শতাংশ মানুষ তথ্যের উৎস হিসেবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে বিবেচনা করে। আরও ভালো করে বললে বাংলাদেশে এ হার ৬৯ শতাংশ। যেখানে উচ্চ ও অতি উচ্চ এইচডিআই তালিকাভুক্ত দেশগুলোতে এ গড় হার যথাক্রমে ৬৩ ও ৩৭ শতাংশ। অর্থাৎ, শিক্ষা ও অন্য নাগরিক সুবিধার প্রাপ্যতার ওপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নির্ভরতায় বেশ একটা হেরফের হয়। মানব উন্নয়ন সূচক যত বাড়ে, এ ধরনের উৎসের প্রতি আস্থা তত কমে।

তবে একটা বিষয় ইতিবাচক যে, তথ্যের উৎস হিসেবে গ্রহণ করলেও এখনো টেলিভিশন, রেডিও, অনলাইন–ছাপা সংবাদপত্রের মতো প্রচলিত তথ্যমাধ্যমের চেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে পাওয়া তথ্যের ওপর মানুষ কম আস্থা রাখে। কিন্তু বাংলাদেশসহ মধ্য ও নিম্ন এইচডিআই তালিকাভুক্ত দেশগুলোতে সামাজিক মাধ্যম থেকে যেকোনো তথ্য সহজে বড় পরিসরে ছড়িয়ে দুর্ভোগ ডেকে আনতে পারে। কারণ হিসেবে চাইলেই অতীতের দু-একটি ঘটনাকে উদাহরণ হিসেবে হাজির করা যায়।

ইপসসের জরিপেও এমন তথ্যই উঠে এসেছে। সেখানে বলা হচ্ছে—এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো ভুয়া বা বানোয়াট তথ্যের কুপ্রভাব পড়েছে বলে মনে করেন আলোচ্য দেশগুলোর ৮৭ শতাংশ মানুষ। এ হার বাংলাদেশের মতো দেশগুলোতে ৯২ শতাংশ। সবচেয়ে বড় শঙ্কা হিংসা ছড়ানো নিয়ে। বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে গড়ে ৮৪ শতাংশ মানুষ সামাজিক মাধ্যমে কোনো না কোনোভাবে হিংসাত্মক আচরণের শিকার হয়েছে বলে জরিপে উঠে এসেছে।

এই হিংসাত্মক আচরণ বা ঘৃণা ছড়ানোর বিষয়টি কতটা ভয়াবহ হতে পারে, তা বাংলাদেশের মানুষ জানে। রংপুরের পীরগঞ্জে হওয়া সহিংসতা কিংবা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরের ঘটনা এখনো অনেকের স্মরণে আছে। এর বাইরে ছোট ছোট অনেক ঘটনা ঘটছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ফেসবুক বা অন্য কোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্য দায়িত্বশীল কোনো সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে মিলিয়ে যাচাই করার জন্য অপেক্ষা না করাই এ ধরনের সহিংসতা বা অস্থিরতার মূল কারণ।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো আবার এই সময়ে মানুষকে এত বেশি টানছে যে, প্রচলিত সংবাদমাধ্যমও অনেক সময় নিজেদের প্ল্যাটফর্মে দর্শক-পাঠক আকৃষ্ট করতে তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে ভুল তথ্য পরিবেশন করে বসে। মূলত দর্শক ও পাঠক টানার দৌড়ে টিকে থাকতে গিয়েই তাদের পা হড়কায়। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভুয়া তথ্য বা খবরের নেতিবাচক প্রভাব সমাজের ওপর নানাভাবে পড়ছে।

জাতীয় নির্বাচনের মতো অতি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে রাজনৈতিক পক্ষগুলো স্বাভাবিকভাবেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে নিজেদের প্রচারের পাশাপাশি বিপরীত পক্ষকে ধরাশায়ী করতে নানা বিষয় ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করবে। আগেই বলা হয়েছে, এখন পর্যন্ত সবকিছু ঠিকঠাক চললেও আসন্ন নির্বাচন নিয়ে নানা মহলে নানা ধরনের শঙ্কা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। এ বাস্তবতায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভুয়া তথ্য ও খবরের বড় প্রভাব নির্বাচনী প্রচার শুধু নয়, ভোটারদের সিদ্ধান্তের ওপরও পড়ার আশঙ্কা আছে।

এমন পরিস্থিতি সম্পর্কে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্ল্যাটফর্মগুলোও ওয়াকিবহাল। এই যেমন লিংকডইনের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক নিবন্ধে প্ল্যাটফর্মটি নির্বাচন ও সামাজিক মাধ্যমের মিথষ্ক্রিয়া সম্পর্কে বলতে গিয়ে অনেক ইতিবাচক কথা বললেও চ্যালেঞ্জ হিসেবে ভুয়া ও ভুল তথ্য ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কার কথা উল্লেখ করতে ভোলেনি। একইসঙ্গে তারা নির্বাচনকালে সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো নানা তথ্যের কারণে সমাজে রাজনৈতিক মেরুকরণের আশঙ্কার কথাও বলেছে।

এ ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম কিছু বিষয়ে সতর্ক করে। এর মধ্যে—মেরুকরণ, ভুয়া তথ্যের ছড়িয়ে পড়া, রাজনৈতিক তথ্যের অতি-বিস্তার, অনলাইনে হেনস্তা, ঘৃণা ছড়ানো ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। এ ছাড়া রাজনৈতিক বিভাজন, তথ্য বিকৃতি, আংশিক বক্তব্য তুলে ধরে নেতিবাচক প্রচার ইত্যাদির আশঙ্কার কথাও তারা জোরেশোরে উল্লেখ করেছে।

জাতীয় নির্বাচনের আগে সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে সবারই সতর্ক হওয়া উচিত বলে মনে করেন বিশ্লেষকেরা। ছবি: ইনডিপেনডেন্টএ বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে যুক্তরাজ্যের স্থানীয় সরকার অ্যাসোসিয়েশন নির্বাচনের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাজনৈতিক বক্তব্যের প্রচার সম্পর্কিত কিছু পরামর্শ তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেছে। মূলত নির্বাচনী এলাকার মানুষকে সচেতন করতে এবং সংবেদনশীল এই সময়ে কোনো ভুয়া তথ্যের ছড়িয়ে পড়া রোধ করতেই তারা এ উদ্যোগ নিয়েছে।

এসব পরামর্শের মধ্যে রয়েছে—কোনো রাজনৈতিক মত বা রাজনৈতিক দলের দেওয়া কোনো পোস্ট শেয়ার না করা; কোনো বিতর্কিত বিষয় পোস্ট বা রিপোস্ট না করা; বিতর্কিত যেকোনো বিষয় নিজের পেজ বা প্রোফাইল থেকে সরিয়ে ফেলা, যাতে তা অন্য কেউ শেয়ার করতে না পারে; সামাজিক মাধ্যমে হঠাৎ করে কোনো প্রচারকাজ শুরু না করা; ক্ষমতাসীন কোনো পদধারী ব্যক্তির জাতীয় বা রাষ্ট্রীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ কোনো পোস্ট ছাড়া, বিশেষভাবে রাজনৈতিক কোনো পোস্ট শেয়ার না করা। বোঝাই যাচ্ছে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে রাজনীতিক—সবার জন্যই নির্দেশনাগুলো দেওয়া।

বলার অপেক্ষা রাখে না যে, এ ধরনের কোনো দিকনির্দেশনা বা পরামর্শ বাংলাদেশে এখনো দেখা যায়নি। যদিও বাংলাদেশ মধ্যম ও নিম্ন এইচডিআইভুক্ত দেশ, যেখানে সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো ভুয়া তথ্যে প্রভাব নির্বাচনের ওপর পড়া নিয়ে উদ্বিগ্ন মানুষের হার ৯১ শতাংশ। যদিও বাংলাদেশে সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া পোস্ট বা তা শেয়ারের কারণে অঘটনের সংখ্যা কম নয়। যদিও বাংলাদেশে আপৎকালে সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত ভুয়া তথ্যের ছড়িয়ে পড়ার হার অনেক বেশি। ফলে ইপসস/ইউনেস্কো জরিপ ও বাংলাদেশের প্রবণতা বলছে, এ বিষয়ে দায়িত্বশীল মহলের দিকনির্দেশনা, নিদেনপক্ষে সচেতনতামূলক কিছু কর্মসূচি জাতীয় নির্বাচনের মতো বড় রাজনৈতিক আয়োজনের প্রাক্কালে ভীষণভাবে জরুরি।