'লেটার'–এর বাজারে মানুষ যাবে কোথায়

আপডেট : ২৪ নভেম্বর ২০২৪, ০৯:৪২ পিএম

বাজার এক দারুণ জায়গা। শব্দটা শুনলেই একটা হট্টগোল মাথায় ঢুকে পড়ে অজান্তেই। যেকোনো অফিস বা নীরব থাকা সমীচীন এমন জায়গায় হঠাৎ কোলাহল শুরু হলেই অনেকে বলে বসে—এটা কি (মাছের)বাজার নাকি! বিচিত্র শ্রেণি-পেশা ও চরিত্রের মানুষের পদচারণায় বাজার জায়গাটি মুখর থাকাই যেন স্বাভাবিক। কিন্তু এই স্বাভাবিকতাতেই এখন ছেদ পড়ছে। কারণ, সেখানকার সবজি থেকে শুরু করে সবকিছুই বলতে গেলে 'লেটার' মার্ক পেয়ে বসে আছে।

একটু খোলাসা করা যাক। আজকের জমানার শিশু-কিশোর এমনকি তরুণদের কাছেও "লেটার" মার্ক শব্দটা একটু অচেনা ঠেকতে পারে। এ হলো নম্বর-যুগের কথা। সে আমলে জিপিএ ফাইভ ছিল না। ছিল ফার্স্ট, সেকেন্ড বা থার্ড ডিভিশন, স্টার মার্ক ও স্ট্যান্ডের মতো বিষয়। সে এক দারুন ব্যাপার। দেশের বিভিন্ন বোর্ডে সেরা ২০ জন শিক্ষার্থী এসএসসি ও এইচএসসিতে স্ট্যান্ড করত। তাদের ছবি বড় বড় করে ছাপা হতো পত্রিকায়। এর পরের স্তরেই ছিল স্টারমার্কধারীরা। স্ট্যান্ড ও স্টার উভয়েই অবশ্য ফার্স্ট ডিভিশন ডিগ্রিধারী। কিন্তু ওই যে সেরাদের মধ্যে সেরা থাকে না, সে রকম আরকি বিষয়টা।

তো সেই সময়, পত্রিকাওয়ালাদের (তখন এত টিভি চ্যানেল বা অনলাইন পোর্টাল ছিল না) চাপে স্ট্যান্ড করা শিক্ষার্থীদের আশপাশে কয়েকদিন তেমন কেউ ভিড়তে পারত না। বাকি থাকত স্টার মার্ক বা নন-স্টার ফার্স্ট ডিভিশনওয়ালারা। তাদের নিয়ে মহল্লাবাসীদের একটা হুজ্জত থাকত। থাকত গুঞ্জনও। হাতের কড়ে গুণে হিসাব করা হতো—অমুক দুটি, তমুক পাঁচটি, অমুক সাতটি বিষয়ে লেটার পেয়েছে।

লেটার মার্ক হচ্ছে—৮০ বা তার বেশি নম্বর। কেউ কোনো বিষয়ে ৮০ বা তার বেশি নম্বর পেলেই বলা হতো অমুক বিষয়ে লেটার পেয়েছে। বাংলাদেশের শিক্ষা-মানচিত্রে এই লেটার মার্কের একটা বেশ দাপট ছিল দীর্ঘদিন। এখন সেই দাপটই যেন ফিরে এসেছে। তবে শিক্ষায় নয়, বাজারে। আরও ভালো করে বললে দ্রব্যমূল্যে।

বাজারে গিয়ে সবজির দোকানের সামনে দাঁড়ালে কেমন একটা ধাঁধা লাগবে। মনে হবে ভুল করে কোনো অভিজাত শপিংমলে ঢুকে পড়েননি তো! যা-ই ছোঁবেন, প্রতি কেজির দাম ৮০ টাকা বা এর বেশি। সেটা বেগুন হোক কিংবা করলা। এমনকি বারোমাসি লাউ, সেও ৮০-তে দাঁড়িয়ে, নামার কোনো লক্ষণ নেই। সাদাসিধে যে আলু, নিম্নবিত্তের হাতের পাঁচ, সেও কিনা লেটার মার্ক তুলতে লড়ছে। যেকোনো মুহূর্তে সফল হয়ে যেতে পারে।

পেঁয়াজসহ অন্য নিত্যপণ্যের দাম তো প্রতিদিনই খবরের শিরোনামে।এদিকে দামের দাপটে সামনের কাতারে উঠে আসারা নিয়ম মেনেই আমদানির অনুমোদন পেয়ে বসে আছে। এটা বেশ কিছুদিন ধরেই বাংলাদেশে চল হয়ে গেছে। কোনো কিছুর দাম বাড়লেই আমদানি তার যেন একমাত্র বিকল্প। ফলে এই সময়ে বাজারের সবার মধ্যেই একটা অধীর আগ্রহ যেন, কবে আসবে, কবে আসবে? না কোনো প্রেমাস্পদের জন্য এই অধীর আগ্রহ নয়। এ নিতান্তই আলু-পটল, পেঁয়াজ-রসুনের জন্য অপেক্ষা।

বাকি থাকে আমিষ। সবজির বাজারের যখন এই দশা, তখন আমিষের বাজারের অবস্থা সহজেই অনুমেয়। ডিম থেকে শুরু করে মাছ-মুরগি সবার দাম এমন যে, তার সামনে নিম্ন তো দূরের কথা মধ্যবিত্তই আর 'স্ট্যান্ড' করতে পারছে না। দাম শুনে দ্রুত মানে মানে কেটে পড়াই এখন নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষের অভ্যাস হয়ে গেছে বলতে হবে।

ফলে মানুষের পক্ষে বাজারে তিষ্ঠানো দায় হয়ে পড়েছে। আক্ষরিক অর্থেই বাজারে যেন কোলাহল ক্রমেই কমে আসছে। সাধারণ মানুষ বরং পথে-ঘাটে পাওয়া তুলনামূলক কমদামের রুগ্ণ সবজি কিনে বাড়ি ফিরছেন। তাও যতটা কিনতে পারছেন, তাতে তা ব্যাগের তলানিতে মুখ লুকাচ্ছে।

অথচ এটি সবজির মৌসুম। নতু নতুন সবজিতে বাজার রঙিন হওয়ার কথা। হচ্ছেও তাই। কিন্তু সেই সবজির দাম সাধারণ মানুষের মনের রং কেড়ে নিচ্ছে। বাজার করে ফেরার সময় তার চোখে-মুখে লেগে থাকছে চিন্তার ছাপ। ভাবনার পুরোটাই তখন হয়তো দখল করে নিচ্ছে দুর্ভাবনারা। পরদিন, তার পরদিন?

এই দুর্ভাবনা আরও বিস্তৃত হয়ে যায়, যখন নিত্যপণ্যের দামের খবরের পরপরই ছুটে আসে পোশাকশ্রমিকদের নিম্নতম মজুরির দাবি এবং সেই সূত্রে তাদের আন্দোলন ও ধর্মঘটের খবর। দেশের শীর্ষ রপ্তানি খাতের শ্রমিকেরা কিছুদিন পরপরই আন্দোলনে নামেন। কখনো দিয়ে ফেলা শ্রমের বিনিময়ে প্রাপ্য বেতন–ভাতার দাবিতে, কখনো নিজেদের মজুরি হার বাড়ানোর দাবিতে। প্রতিবারই তাঁদের বাজার পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে যুক্তি খাড়া করাতে হয়। এবারও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না। তাঁরা সেসব যুক্তি উপস্থাপন করে নিম্নতম মাসিক মজুরি ২৩ হাজার টাকা করার দাবি করেছেন। এ নিয়ে মজুরি বোর্ড নানা পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করছে। কিছু একটা রফা হয়তো হবে। 

এমন পরিস্থিতিতে বাজার, নিত্যপণ্য, শ্রম, মজুরি, মালিক ইত্যাদি সামাজিক, প্রাতিষ্ঠানিক, পারিবারিক এমনকি শারীরিক নানা বিষয় মাথায় এসে জট পাকিয়ে যায়। প্রশ্ন আসে, যাদের শ্রমের প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ হয়নি, তাদের দশাটা কী? তাঁরা কী খাচ্ছেন?

প্রশ্ন জাগে, কাঁচাবাজারেরও তবে শ্রেণি উত্তরণ ঘটে চলেছে নিয়ম মেনে? সবার যেন সেখানে ঠাঁই নেই। লেটার মার্কপ্রাপ্ত পণ্যের সাথে সবাই আর সম্বন্ধ পাতানোর সাহস করতে পারে না। ফলে চোখের সামনেই বাজারগুলোর কোলাহল যেন কমে আসছে। সেখানে দর কষাকষি নিয়ে আর তেমন হট্টগোল নেই। সবই একদর। দর হাঁকিয়েই বিক্রেতা উদাস হয়ে যাচ্ছেন। অন্যদিকে তাকিয়ে থাকছেন। দর-দাম নিয়ে আর বচসা হচ্ছে না। বাজারগুলোর ক্রমে এই নীরব হয়ে আসাটা কিন্তু ভালো বার্তা দেয় না। কারণ, পেটের সাথে সবার সম্বন্ধই তো এক। ক্ষুধার ব্যাকরণ তো সব দেশে সব কালে একই। ফলে সেই ব্যাকরণে ভুল হলে তার বড় মাশুল গুণতে হয়।

প্রশাসন বহুবার সিন্ডিকেটের কথা বলে সংশ্লিষ্টদের হুঁশিয়ার করেছেন। কাজ হয়নি। আমদানি করে পরিস্থিতি সামাল দিতে চেষ্টা করছে প্রশাসন। কিন্তু এ তো কোনো সমাধান নয়। এ হলো পট্টি দিয়ে ক্ষত ঢাকা, যা দীর্ঘমেয়াদে সুফল আনে না। কে না জানে, পট্টি শুধু সংকট আড়াল করে, সমাধান নয়।

লেখক: উপবার্তা সম্পাদক, ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশন

সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, ২৪ এপ্রিল থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ধান, চাল ও গম সংগ্রহ কার্যক্রম চলবে। যদিও, সরকারি সংগ্রহ বাড়েনি, বরং কমেছে লক্ষ্যমাত্রা। সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা...
মধ্যবিত্ত নিয়ে প্রায়ই নানা কথা শোনা যায়। কিন্তু আমরা কি সত্যিই জানি এ দেশের মধ্যবিত্ত কারা, তাদের সংখ্যা কত? পড়ুন এ নিয়ে অর্ণব সান্যালের ৫ পর্বের ধারাবাহিকের শেষ পর্ব।
মধ্যবিত্ত নিয়ে প্রায়ই নানা কথা শোনা যায়। কিন্তু আমরা কি সত্যিই জানি এ দেশের মধ্যবিত্ত কারা, তাদের সংখ্যা কত? পড়ুন এ নিয়ে অর্ণব সান্যালের ৫ পর্বের ধারাবাহিকের চতুর্থ পর্ব।
এ দেশে যে কোনো এলাকায় গেলে মিষ্টির দোকান পাওয়া যায়ই। আমাদের দেশে তো অঞ্চলভিত্তিক মিষ্টির ধরনও প্রচলিত আছে। একেক এলাকার একেক মিষ্টি। কেউ সন্তান জিপিএ ফাইভ পেলে মিষ্টি খাওয়ায়, তো কেউ বেতন বাড়লে। আবার...
এক মাস পর পণ্য রপ্তানি আবার কমল। গেল মে মাসে আগের বছরের একই মাসের তুলনায় রপ্তানি হ্রাস পেয়েছে ৭ শতাংশ। বুধবার রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।
এডিসের মারাত্মক ঝুঁকিতে দেশের চার জেলা- ঢাকা, বরিশাল, নরসিংদী ও কক্সবাজার। এখানে ব্রুটো ইনডেক্সে এডিসের লার্ভার ঘনত্ব ৭৬ থেকে ৯৩ পর্যন্ত মিলেছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবে গবেষণায় মিলেছে...
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী কারামুক্ত হয়েছেন। বুধবার রাত ১০টা ১০ মিনিটে তিনি গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে মুক্তি পান।
ঈদুল আজহা উপলক্ষে মুক্তিপ্রাপ্ত নির্মাতা মেজবাউর রহমান সুমনের চলচ্চিত্র ‘রইদ’ এবার মুক্তি পাচ্ছে অস্ট্রেলিয়ার ৬টি শহরে। আগামী ৫ জুন থেকে দেশটির বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে এ চলচ্চিত্রের প্রদর্শনী শুরু...
লোডিং...

এলাকার খবর