লক্ষ্যণীয় যে, নাটকটিতে অভিনেতা ইয়াশ রোহান ও কার্টুনিস্ট মোরশেদ মিশু ছাড়া অন্য শিল্পীরা পরিচিত কেউ নন। সকলেই নতুন মুখ। এ ক্ষেত্রে নুহাশের কাজের সঙ্গে যাঁরা পরিচিত, তাঁরা অন্তত এটুকু জানেন নুহাশ বরাবরাই নতুন মুখ নিয়ে হাজির হন। এবারও এর ব্যতিক্রম নয়। তবে নতুনদের দিয়ে অভিনয়ের বেলায় যে চ্যালেঞ্জ থাকে, সেটা ‘প্রেমের নাটক’-এ দারুণভাবেই উতরে গেছেন নুহাশ হুমায়ূন।
বিশেষ করে রাগিব মোয়াজ্জেমকে মনে রাখবেন দর্শক। নাটকটির কেন্দ্রীয় চরিত্রে ‘আরিক’ হিসেবে রয়েছেন রাগিব মোয়াজ্জেম, ‘জারা’ চরিত্রে আছেন সাবা চৌধুরী। মূলত তাঁদের ঘিরেই এগিয়েছে কাহিনি। জারার প্রেমে পড়েন আরিক। পাঠক, কিছুটা স্পয়লার দিয়ে দিলাম কি? না, এ-তো কেবল ভাববাদী এক ঘটনা!
প্রেম কিংবা মায়া তো সব কাজেই সহজাত বিষয়। নুহাশের এই নাটকেও রয়েছে প্রেম, ছেলেমানুষী, বন্ধুত্ব, আড্ডা কিংবা স্বপ্ন দেখার গল্প। এর বাইরে যখন আলো ফেললেই দেখতে পাওয়া যায় প্রেম-ভালোবাসা ছাড়াও নাটকটিতে উঠে এসেছে বেশকিছু আলোচিত ইস্যু। সেগুলোকেই তবে ‘অপ্রেম’ হিসেবে ধরে নেওয়া যাক!
দেশে টিভি নাটকের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে নানা আলোচনা চাউর রয়েছে। অনেকের ভাষ্য, এ সময়ের নির্মাতারা ভালো নাটক বানাতে পারছেন না! নাটকে কোনো সামাজিক বা অনুধাবনের বার্তা নেই। সিনেমার মতো ধ্বংস হয়ে গেছে নাটকের ইন্ডাস্ট্রিও! এসব আলোচনায় দর্শকরা স্বাভাবিকভাবেই ফিরে যান নব্বইয়ের স্মৃতিতে। নাটকের সেই সোনালী অতীতে। নুহাশও তাঁর নাটকে ফিরে গেছেন ‘কোথাও কেউ নেই’, ‘বহুব্রীহি’, ‘এইসব দিনরাত্রি’র সময়ে। স্যাটায়ারধর্মী সংলাপে প্রশ্ন ছুড়েছেন দর্শকের দিকে। উদাহরণ হিসেবে এসেছে গুণী পরিচালকদের কথাও। নির্মাতা হিসেবে নুহাশের ভাষ্য অনেকটা এ রকম—‘হুমায়ূন আহমেদ কমেডির পাশাপাশি সামাজিক বার্তা দিয়েছেন নাটকে, আমরা কী মনে রাখলাম? মনে রেখেছি তাঁর কমেডিকে!’ এই কথায় নুহাশ মূলত তাঁর পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছেন। দর্শক আসলে ভালো কিছু না নিয়ে বরং বাজে বিষয়ই বেছে নেয় জীবনকর্মে! তাহলে দোষটা কি নির্মাতার, নাকি দর্শকের?
এবার আলোকপাত করা যাক নাটকটির চিত্রনাট্য ও গল্প প্রসঙ্গে। এ নাটকে নুহাশ হুমায়ূন আছেন তাঁর স্বকীয়তা ধরেই। গল্প বলার ক্ষেত্রে টাইমফ্রেম ধরতে গিয়ে কিছুটা এলোমেলো হলে হয়েও যেতে পারেন দর্শক। তবে নির্মাতার মুনশিয়ানার ছাপ সব ক্ষেত্রেই স্পষ্ট। এমনকি এই ‘প্রেমের নাটক’-এ নুহাশের ‘কাগজখেলা’র নস্টালজিয়াতেও ডুবে যেতে পারেন অনেকে। কাগজ দিয়ে অ্যারোপ্লেন বানানোর দৃশ্যটি নজর কেড়ে নেবে দর্শকের।
গতানুগতিক কাজের বাইরে নুহাশের এ ধরনের কাজে যুক্ত হওয়ায় ধন্যবাদ পেতেই পারেন প্রযোজক রিমন হোসেন খান ও রবি আজিয়াটা। শুভেচ্ছা তাঁদের। বিশ্বজুড়ে উড়ে চলুক নুহাশের কল্পনার অ্যারোপ্লেন।