ধীরে ধীরে জেঁকে বসছে শীত। আর্দ্রতার অভাবে ত্বকে ইতিমধ্যেই টান ধরতে শুরু করেছে। শুষ্ক, খসখসে হওয়ার পাশাপাশি ত্বক হারাতে বসেছে স্বাভাবিক জেল্লা। এমন পরিস্থিতিতে ত্বকের যত্ন নিতে আগে থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া উচিত।
শীতকালে ত্বক ভাল রাখতে প্রাকৃতিক তেল বেশ উপকারী। রাসায়নিক ক্রিম বা লোশন ব্যবহার না করে প্রাকৃতিক এই চার তেল ব্যবহার করলে দারুণ উপকার পাবেন।
অলিভ অয়েল
শীতকালে ত্বকের জন্য আমাদের বাসাবাড়িতে যে তেলটি সবচেয়ে বেশি প্রচলিত তা হলো অলিভ অয়েল। অলিভ অয়েলে থাকা অ্যান্টি অক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি এজিং উপাদান ত্বকের যত্নে অত্যন্ত কার্যকর। এটি নিয়মিত ব্যবহারে ত্বক স্থিতিস্থাপক হয় অর্থাৎ অলিভ অয়েল ত্বকের ইলাস্টিসিটি বজায় রাখে এবং ত্বককে প্রাকৃতিকভাবে উজ্জ্বলতা ও মসৃণতা প্রদান করে থাকে।
তাই শীতে ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখার জন্যে স্কিনকেয়ার রুটিনে যোগ করুন অলিভ অয়েল।
আমন্ড অয়েল
ড্রাই স্কিনের যত্নে আমন্ড অয়েলের জুড়ি মেলা ভার। আমন্ড অয়েলে রয়েছে ফ্যাটি অ্যাসিড। এতে আছে ভিটামিন বি, ভিটামিন সি ও ভিটামিন ই যা ত্বক ভালো রাখতে সহায়তা করে। কাঠবাদামের তেলে শুধু শুষ্ক ত্বক থেকেই মুক্তি পাওয়া যায় না, পাশাপাশি ত্বকে পুষ্টি জোগাতেও সহায়তা করে।
এ ছাড়া আমন্ড অয়েলের ব্যবহারে চোখের নিচে তৈরি হওয়া ডার্ক সার্কেল হালকা হয়ে ওঠে। ভালো ফল পেতে ঘুমানোর আগে প্রতি রাতে এটি আপনার চোখের নিচে লাগিয়ে রাখুন। আমন্ড অয়েল ফাটা গোড়ালির সমস্যাও দূর করে। গোড়ালি ফাটার সমস্যা দূর করার জন্য সারারাত পায়ে লাগিয়ে রাখতে পারেন এই তেল।
রোজহিপ অয়েল
বিউটি ট্রেন্ডে নতুন সংযোজন রোজহিপ অয়েল। এই অয়েলে উপস্থিত উপকারি ফ্যাটি অ্যাসিড ত্বকের জন্যে খুবই উপকারি। এতে আরও আছে ভিটামিন এ এবং সি। এই দুই উপাদান কোলাজেন উৎপাদন বাড়ায়। ফলে ত্বকের টানটান ভাব বজায় থাকে। মুখের বলিরেখাও মলিন করে এই তেল।
অনেকেরই নখ খুব দুর্বল হয়, দ্রুত বাড়ে না বা ভেঙে যায়, সেক্ষেত্রে প্রতিদিন এই তেল ব্যবহার করা উচিত। এটি নখকে শক্তিশালী করে তোলে। শীতে আপনার ফেসপ্যাকে রোজহিপ অয়েল মিশিয়ে তা ত্বকে ব্যবহার করতে পারেন। সরাসরিও এই তেল মুখে লাগাতে পারেন।
নারিকেল তেল
নারিকেল তেলের উপকারি গুণের কথা বলে শেষ করা যাবে না। এটি আমাদের ত্বকে প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার হিসেবে কাজ করে থাকে; ত্বকের শুষ্কতা ও ফ্ল্যাকিনেস প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।
নারিকেল তেল আমাদের ঠোঁটের জন্য ন্যাচারাল লিপ বামও হিসেবে কাজ করে থাকে। নিয়মিত ব্যবহারে ঠোঁট ফাটা, শুষ্কতা ইত্যাদি প্রতিরোধ করে ঠোঁটকে নরম ও আর্দ্র রাখতে সাহায্য করে। এটি নিয়মিত ব্যবহারে ঠোঁটের কালচে ভাব ও মৃত কোষ দূর হয় এবং ঠোঁটের উজ্জ্বলতা ও নমনীয়তা বজায় রাখে।