শীতে কেমন ময়েশ্চারাইজার মাখবেন?

ত্বকের যত্নে ময়েশ্চারাইজার মাস্ট। কারণ এটি ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখে। সেই সঙ্গে ত্বককে রাখে নরম ও মসৃণ। এছাড়াও এটি ত্বককে শুষ্কতা, ফাটল বা চুলকানি থেকে রক্ষা করে। ময়েশ্চারাইজার ক্রিম, লোশন, জেল বা সেরাম, বিভিন্ন ধরনের হতে পারে। শীতের এই সময় ত্বকের জন্য ময়েশ্চারাইজার রাখতেই হবে। এই সময় ত্বক অনেকে বেশি শুষ্ক হয়ে যায়। এই শুষ্কতা থেকে ত্বকের রক্ষা করে ময়েশ্চারাইজার।

রেড বিউটি সেলুন এন্ড স্পা’র রূপবিশেষজ্ঞ আফরোজা পারভিন বলেন, ‘শীতকালে ত্বক অনেক বেশি শুষ্ক হয়ে যায়। তাই শীতের এই সময়টাতে ময়েশ্চারাইজার বাছাইয়ের ক্ষেত্রে কিছু বিষয় মাথায় রাখতে হবে। এসব ময়েশ্চারাইজার এমন হওয়া উচিত, যা ত্বকে গভীর আর্দ্রতা যোগাবে। একই সঙ্গে ত্বকের বাইরের স্তরেও তৈরি করবে সুরক্ষার স্তর।’

শীতকালে ত্বক তার আর্দ্রতা হারায়। তাই এমন ময়েশ্চারাইজার ব্যাবহার করতে হবে যা দীর্ঘস্থায়ী আর্দ্রতা যোগায়। এই সময় হালকা জেল বা লোশন না ব্যবহার করে, ক্রিম বা বাটার বেসড ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা ভালো। শিয়া বাটার, কোকো বাটার, অলিভ অয়েল, অ্যালমন্ড অয়েল ইত্যাদি ত্বকের শুষ্কতা দূর করে। তাই খেয়াল রাখুন আপনার ময়েশ্চারাইজারে যেন এই ধরনের উপাদান থাকে। আর হায়ালুরোনিক অ্যাসিড, গ্লিসারিন, সিরামাইডস যুক্ত ময়েশ্চারাইজার ত্বকের গভীর স্তর পর্যন্ত আর্দ্রতা পৌঁছে দেয়। এমন ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে হবে, যা ত্বকের বাইরের স্তরে আর্দ্রতা ধরে রাখে এবং শীতের শুষ্ক বাতাসের প্রভাব থেকে রক্ষা করে।

শুধু মুখের নয়, হাত-পায়ের জন্য রয়েছে ময়েশ্চারাইজার। ছবি: ফ্রিপিক

কোন ত্বকের জন্য কেমন ময়েশ্চারাইজার

শুষ্ক ত্বকের জন্য আর্দ্রতা দেবে এমন ক্রিম বা বাটার বেসড ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে হবে। মুখের জন্য ব্যাবহার করতে পারেন, সেটাফিল ময়েশ্চারাইজিং ক্রিম, নিভিয়া সফট ময়েশ্চারাইজিং ক্রিম, সেরাভে ময়েশ্চারাইজিং ক্রিম, দ্য বডি শপ ভিটামিন ই ময়েশ্চার ক্রিম এবং লা রশ-পসেই লিপিকার বাম এপি প্লাস। আর শরীরের ত্বকের জন্য বেছে নিতে পারেন ভ্যাসলিন ইন্টেনসিভ কেয়ার কোকো রেডিয়েন্ট বডি লোশন, অ্যাভিনো ডেইলি ময়েশ্চারাইজিং লোশন, ইউসেরিন অ্যাডভান্সড রিপেয়ার লোশন, পামার’স কোকো বাটার ফর্মুলা বডি লোশন ও কোকো বাটার ও ভিটামিন ইযুক্ত লোশন। হাত এবং পায়ের জন্য লাগাতে পারেন ও’কিফস ওয়ার্কিং হ্যান্ডস হ্যান্ড ক্রিম, নিউট্রোজেনা হ্যান্ড ক্রিম বা ভ্যাসলিন পেট্রোলিয়াম জেলি। আর ঘরোয়া উপাদান হিসেবে মাখতে পারেন নারকেল তেল, অলিভ অয়েল, শিয়া বাটার, অ্যালোভেরা জেল এবং গ্লিসারিন।

তৈলাক্ত ত্বকের জন্য এমন ময়েশ্চারাইজার দরকার যা হালকা, ত্বকে আর্দ্রতা ধরে রাখে। কিন্তু অতিরিক্ত তেল উৎপন্ন না করে। মুখের জন্য নিতে পারেন নিউট্রোজেনা হাইড্রো বুস্ট ওয়াটার জেল, সিম্পল হাইড্রেটিং লাইট, সেরাভে পিএম ফেসিয়াল ময়েশ্চারাইজিং লোশন, লা রশ-পসেই এফাক্লেয়ার মাট এবং পন্ডস সুপার লাইট জেল ময়েশ্চারাইজার। শরীরের ত্বকের জন্য বেছে নিতে পারেন নিভিয়া অ্যালো হাইড্রেট লোশন, জন্সন'স অ্যালোভেরা অ্যান্ড ভিটামিন ই লোশন, অ্যাভিনো শিয়ার মোয়াচারাইজিং লোশন, ডাব রিস্টোরিং কিউকাম্বার অ্যান্ড গ্রিন টি লোশন বা নিউট্রোজেনা শীর্ষ হাইড্রেটিং লোশন। আর হাতের জন্য কিনতে পারেন নিউট্রোজেনা হ্যান্ড ক্রিম বা ডাব কেয়ার অ্যান্ড প্রোটেক্ট হ্যান্ড ক্রিমের মধ্যে যেকোনোটি। আর ঘরোয়া উপাদান হিসেবে মাখতে পারেন অ্যালোভেরা জেল, গ্লিসারিন ও গোলাপ জল মিশ্রণ, জলপাই তেল ও নারকেল তেলের মিশ্রণ। তবে এগুলো খুব অল্প পরিমাণে ব্যবহার করতে হবে।

কম্বিনেশন ত্বকের জন্য এমন ময়েশ্চারাইজার দরকার যা ত্বকের শুষ্ক অংশে আর্দ্রতা যোগাবে। মুখে জন্য বেছে নিতে পারেন দ্য বডি শপ ভিটামিন ই ময়েশ্চার ক্রিম, নিউট্রোজেনা হাইড্রো বুস্ট জেল, সেরাভে ডেইলি ময়েশ্চারাইজিং লোশন, পন্ডস লাইট ময়েশ্চারাইজার বা লা রশ-পসেই টলারিয়েন ডাবল রিপেয়ার ফেস ময়েশ্চারাইজার। শরীরের ত্বকের জন্য বেছে নিতে পারেন নিভিয়া অ্যালো হাইড্রেট বডি লোশন, ভ্যাসলিন কোকো গ্লো লোশন, অ্যাভিনো ডেইলি ময়েশ্চারাইজিং লোশন, পামার’স কোকো বাটার লোশন এবং ডাব রিস্টোরিং কিউকাম্বার অ্যান্ড গ্রিন টি লোশন। হাতে লাগাতে পারেন নিউট্রোজেনা বা ডাব কেয়ার অ্যান্ড প্রোটেক্ট হ্যান্ড ক্রিম। ঘরোয়া উপাদান হিসেবে বেছে নিতে পারেন অ্যালোভেরা জেল বা গোলাপ জল ও গ্লিসারিন মিশ্রণ। এগুলো নিয়মিত ব্যবহারে কম্বিনেশন ত্বক শীতেও নরম, মসৃণ এবং উজ্জ্বল থাকবে।