শীতকাল এলেই যেন ত্বকের সমস্যা বেড়ে যায়। বছরের এই সময় অনেকের ত্বক রুক্ষ কিংবা শুষ্ক হয়ে যায়। এতে ত্বকের আর্দ্রতা হারিয়ে যায়। কারও কারও ত্বক শীতে এতই টানটান হয়ে থাকে যে ফেটে যায়!
এই সমস্যা থেকে বাঁচতে বডি লোশন বা বডি অয়েল দুইয়ের মধ্যে যেকোনো একটি ব্যবহার করা প্রয়োজন। ত্বক আর্দ্র রাখতে দুটোই উপকারী হলেও এদের কাজে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে।
বডি লোশনে তেল এবং তেলে দ্রবণীয় বিভিন্ন উপাদান মেশানো থাকে, যা ঘন ও ক্রিমধর্মী হিসেবে কাজ করে। যারা তেল ব্যবহারের পর চিটচিটে ভাব পছন্দ করেন না, তাদের জন্য বডি লোশন ভালো। তেল ও পানির সংমিশ্রণে তৈরি হওয়ার কারণে বডি লোশন খুব তাড়াতাড়ি ত্বকে মিশে যায়।
অন্যদিকে বডি অয়েল ত্বককে অনেকটা বেশি সময় সুরক্ষিত রাখে। বডি লোশনের তুলনায় বডি অয়েল মাখলে ত্বক বেশিমাত্রায় নরম ও উজ্জ্বল হয়। বডি অয়েল ম্যাসাজ করলে ত্বকের রক্ত সঞ্চালনও বাড়ে।
সহজে শুষ্ক হয়ে যায় এমন ত্বকে তেল ব্যবহার করাই শ্রেয়। শীতকালে ত্বকের জন্য আমাদের বাসাবাড়িতে যে তেলটি সবচেয়ে বেশি প্রচলিত তা হলো অলিভ অয়েল। রূপবিশেষজ্ঞরাও ত্বকচর্চায় এই তেল ব্যবহারের পরামর্শ দেন।
তবে ব্রণপ্রবণ ও সংবেদনশীল ত্বকে তেল ব্যবহার না করার পরামর্শ দেওয়া হয়, বিশেষ করে নারকেল তেল। কারণ এতে এমন উপাদান রয়েছে যা ব্রণ সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখে।
কখন ব্যবহার করবেন
তেল বা লোশন ব্যবহারের সবচেয়ে ভালো সময় হলো গোসলের পর। চাইলে ঘুমের আগেও মাখতে পারে। ত্বক ভেজা ভেজা থাকা অবস্থায় তেল বা লোশন সবচেয়ে ভালোভাবে শোষিত হয়।
শীতকালে চুলকানি ও একজিমার সমস্যা বেড়ে যায়; এসব ক্ষেত্রে তেল ও লোশন দিনে দু'বার ব্যবহার করতে হবে। আবার কেউ দুটোই একসঙ্গে ব্যবহার করতে চাইলে প্রথমে লোশন ও পরে তেল ব্যবহার করতে হবে।
এ ছাড়া বডি লোশন এবং তেল ব্যবহারের সময় নিচ থেকে ওপরের দিকে মালিশের পরামর্শ দেওয়া হয়। এতে মৃত কোষ দূর হয়, রক্ত সঞ্চালন বাড়ে এবং ত্বক উজ্জ্বল দেখায়।


শীতের ক্রিম বানাতে পারেন বাড়িতে, কীভাবে? জানুন
শীতেও খসখসে ত্বক হবে টানটান, মাখুন অলিভ অয়েল
শীতে রুক্ষতা থেকে মুক্তি দেবে বডি বাটার 
