আগে রূপচর্চা মানেই ছিল সাজগোজের পণ্য কেনা। এখন সেই ধারায় এসেছে বড় পরিবর্তন। শুধু বাহ্যিক সৌন্দর্য নয়, সৌন্দর্যের সঙ্গে এখন জড়িয়ে গেছে প্রযুক্তি, সামাজিক সচেতনতা আর ব্যক্তিগত যত্নের বিষয়গুলো।
বিশেষ করে নতুন প্রজন্ম, জেন-জি ও মিলেনিয়ালরা রূপচর্চার জগতে এনেছে ভিন্ন ধারা। এআই, ভার্চ্যুয়াল ট্রাই-অন, ইনস্টাগ্রাম রিভিউ আর টিকটকের সাজেশন, সব মিলিয়ে বিউটি কেনাকাটার অভিজ্ঞতাই বদলে যাচ্ছে।
চলুন দেখে নিই, কোন কোন দিক থেকে বদলাচ্ছে সৌন্দর্যচর্চার দুনিয়া।
ব্র্যান্ডের সামাজিক অবস্থানও এখন গুরুত্বপূর্ণ
আজকাল অনেকেই শুধু পণ্য দেখেই নয়, ব্র্যান্ডের সামাজিক ও পরিবেশগত মূল্যবোধ দেখেও কিনছেন। ২০২৩ সালে ম্যাকিনজি’র এক জরিপ বলছে, ৬০ শতাংশ তরুণ ক্রেতা কোনো ব্র্যান্ড কেনার আগে দেখে নেয়। তারা পরিবেশবান্ধব কিনা, পণ্যের উপাদানগুলো আসলেই ভালো নাকি খারাপ। সবকিছুই দেখা হচ্ছে নিখুতভাবে।
ত্বক অনুযায়ী বিউটি রুটিন
প্রযুক্তির কারণে এখন আর সবার জন্য এক রকম পণ্য না। এআই প্রযুক্তি বলছে, কার কোন ফাউন্ডেশন মানাবে, কোন সিরাম ত্বকের জন্য ঠিক। অনেকেই চাইছেন একদম ব্যক্তিগতভাবে সাজানো বিউটি রুটিন।
ম্যাকিনজি বলছে, ৭০ শতাংশ ক্রেতা এখন এমন পার্সোনালাইজড অভিজ্ঞতা চান।
পণ্যের খোঁজ এখন সোশ্যাল মিডিয়ায়
টিকটক, ইনস্টাগ্রাম এখন আর শুধু ছবি-ভিডিওর জায়গা নয়। এখন অনেকেই বিউটি পণ্যের রিভিউ, ট্রেন্ড, রুটিন জানেন ইনফ্লুয়েন্সারদের ভিডিও দেখে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের কাছে এসব প্ল্যাটফর্মই হয়ে উঠেছে নতুন ‘বিউটি গাইড’।
মেকআপের আগে এখন স্কিনকেয়ার
আগে সাজ বলতে মেকআপই ছিল মুখ্য। এখন ক্রেতারা আগে স্কিন ঠিক রাখার দিকে মনোযোগ দিচ্ছেন। তাই হালকা টিনটেড সিরাম, সানস্ক্রিন বা হাইব্রিড পণ্যের চাহিদা বাড়ছে। বিশেষ করে, জেন-জি প্রজন্ম মেকআপের চেয়ে ত্বকের স্বাস্থ্যকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।
প্রযুক্তিতে যেভাবে বদলাচ্ছে বিউটির অভিজ্ঞতা
এআই, ভিআর, এআর, এসব প্রযুক্তি এখন বিউটি রিটেইলের সঙ্গে জড়িয়ে গেছে। ভার্চ্যুয়ালি দেখে নেওয়া যাচ্ছে কোন লিপস্টিক মানাবে, কেমন হবে চুলের কাট।
সেফোরা’র ভার্চ্যুয়াল ট্রাই-অন ফিচার এখন অনেক জনপ্রিয়। এতে শেড মিলিয়ে নেওয়ার ৯০ শতাংশ পর্যন্ত মিল পাচ্ছেন ব্যবহারকারীরা।
বেনিফিট কসমেটিকসের ভ্রু মাপার এআর টুল ব্যবহার করে তাদের ওয়েবসাইটে সময় কাটানো বেড়েছে ১০১ শতাংশ। আর কার্টে পণ্য যোগ করার হার বেড়েছে ২০ শতাংশ।
মূল্য বেশি হলে ছোট প্যাক
২০২৩ সালে বিশ্বজুড়ে বিউটি পণ্যের বিক্রি বেড়েছে মাত্র ২ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রে বেড়েছে মাত্র ১ শতাংশ। দাম বেশি হওয়ায় অনেকেই এখন ছোট প্যাক কিনছেন, বা সাশ্রয়ী ব্র্যান্ড বেছে নিচ্ছেন। তবে এখন বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরছে। ব্র্যান্ডগুলো চেষ্টা করছে দাম, নতুনত্ব আর সহজলভ্যতার ভারসাম্য রাখার।
যে ব্র্যান্ডগুলো আজকের চাহিদা বুঝে এআই প্রযুক্তি, ইনফ্লুয়েন্সারদের সংযুক্তি আর ব্যক্তিক অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দিচ্ছে, তারাই টিকে থাকছে। সৌন্দর্য এখন শুধু বাহ্যিক সাজ নয়। এটা হয়ে উঠেছে এক অভিজ্ঞতা, যেখানে প্রযুক্তি, সচেতনতা আর আত্মবিশ্বাস মিলেমিশে একাকার।