ত্বকের যত্ন মানেই কি লম্বা লম্বা ধাপ, নানা প্রসাধনী আর সময়সাপেক্ষ রুটিন? না, এখন আর তেমনটা নয়। সময় বদলেছে, ত্বকের যত্নের ধরণও বদলেছে। নতুন প্রজন্ম অর্থাৎ জেনজি এখন নিজেদের মতো করে সাজিয়েছে রূপচর্চার নতুন কৌশল। যেখানে গুরুত্ব পেয়েছে ঝামেলা ছাড়া ত্বকের যত্ন আর প্রাকৃতিক উপাদান।
১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি থেকে ২০১০ সালের শুরুর দিকে জন্ম নেওয়া এই তরুণ প্রজন্ম বেড়ে উঠেছে ইন্টারনেট, ইনফ্লুয়েন্সার কালচার আর ইউটিউব-ইনস্টাগ্রামের মতো মাধ্যমে। ফলে ত্বকের যত্ন নিয়ে তাদের জানাশোনাও অনেক বিস্তৃত। শুধু মেকআপ দিয়ে খুঁত ঢাকার চিন্তা নয়, বরং ত্বককে সুস্থ রাখা এবং ঠিকমতো পরিচর্যা করাই তাদের মূল লক্ষ্য।
লেস ইজ মোর
জেন-জিরা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে অল্প পণ্য ব্যবহার করে ত্বকচর্চায়। তাই তো এখন আর ৮-১০ ধাপের জটিল স্কিনকেয়ার রুটিন নয়, বরং স্কিনিমালিজম ট্রেন্ডে ভর করে গড়ে উঠেছে তাদের রুটিন। যেখানে তারা বাদ দিচ্ছে বহু ধাপের স্কিনকেয়ার রুটিন। কম তবে দরকারি পণ্য ব্যবহারে গুরুত্ব দিচ্ছে।
জেনজি স্কিনকেয়ার রুটিন সাধারণত এমন-
- ক্লেনজার (মুখ পরিষ্কার করা)।
- ময়েশ্চারাইজার (ত্বকে আর্দ্রতা বজায় রাখা)।
- সানস্ক্রিন (সূর্যের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা)।
- আর অতিরিক্ত প্রয়োজন হলে একটি সিরাম বা স্পট ট্রিটমেন্ট।
এই রুটিনে তারা যতটা সম্ভব কম প্রোডাক্ট ব্যবহার করলেও, প্রতিটি প্রোডাক্টই কার্যকর ও প্রয়োজনীয়।
ট্রেন্ড নয়, উপাদান আগে
এই প্রজন্ম আর চোখ বন্ধ করে ট্রেন্ডি কোনো প্রোডাক্টে ভরসা রাখে না। তারা জানে, কোন উপাদান কীভাবে কাজ করে, কাদের জন্য উপযুক্ত। তারা খোঁজ নেয়, নিয়াসিনামাইড, স্যালিসিলিক অ্যাসিড, হায়ালুরোনিক অ্যাসিড, সিরামাইডসের মতো উপাদানের।
প্রোডাক্ট কিনতে গেলে তারা দেখে উপকারিতা, সেই সাথে জেনে নেয় সাইড এফেক্টও। তাদের কাছে সৌন্দর্য মানে শুধু বাহ্যিক চাকচিক্য নয়। বরং বুঝে নেওয়া, কী ব্যবহার করলে ত্বক থাকবে সুস্থ আর পরিস্কার।
সানস্ক্রিন ছাড়া চলে না
আজকালকার তরুণদের কাছে এপিএফ কোনো বিলাসিতা নয়, বরং রোজকার প্রয়োজন। সকাল হোক বা বিকেল, ঘরে হোক বা রোদে, তারা নিয়ম করে সানস্ক্রিন ব্যবহার করে। চর্ম বিশেষজ্ঞ ও ইনফ্লুয়েন্সারদের মাধ্যমে যখন তারা বুঝেছে সানস্ক্রিন বয়সের ছাপ ও ব্রণ কমাতে সাহায্য করে।
তখন থেকেই এটি তাদের রুটিনে বাধ্যতামূলকভাবে যুক্ত হয়েছে। এমনকি কেউ কেউ ব্যবহার করছে টিন্টেড সানস্ক্রিন, যাতে ত্বকের সুরক্ষার পাশাপাশি হালকা কাভারেজও পাওয়া যায়।
সৌন্দর্য মানে নৈতিকতা
জেনজি শুধু প্রোডাক্টের কার্যকারিতাই দেখে না, দেখে সেটি কীভাবে তৈরি হয়েছে। তাদের অনেকেই এখন এমন ব্র্যান্ডকে বেছে নিচ্ছে, যারা-
- পুনঃব্যবহারযোগ্য প্যাকেজিং ব্যবহার করে।
- রিফিল সুবিধা দেয়।
- ক্রুয়েলটি-ফ্রি ও ভেগান প্রোডাক্ট তৈরি করে।
কারণ, তাদের কাছে সৌন্দর্য মানে সচেতনতা।
জেনারেশন জি’র স্কিনকেয়ার রুটিন দেখলেই বোঝা যায়, তারা শুধু বাহ্যিক রূপচর্চা করছে না। বরং নিজের প্রতি যত্নশীল হওয়ার পাশাপাশি সচেতনভাবে বেছে নিচ্ছে বিজ্ঞানসম্মত ও নৈতিক পথ।
তাদের কাছ থেকে শেখার আছে অনেক কিছু। হয়তো মিলেনিয়ালরাও ভাবতে পারেন, ‘কম করেও যদি ভালো রাখা যায়, তবে বেশি ঝামেলায় যাব কেন?’


কোন ব্লাশটি আপনার ত্বকের জন্য উপযুক্ত, জানেন?
ত্বকের যত্ন আর কখন করবেন, ৩০ পেরোলে?
